ঢাকা,বৃহস্পতিবার 1 November 2018, ১৭ কার্তিক ১৪২৫, ২১ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

৩১ অক্টোবর, এক্সিওস / বিবিসি / সিএনএন : জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনের নিয়ম বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনলাইন পোর্টাল এক্সিওস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

 ডোনাল্ড ট্রাম্পট্রাম্প বলেন, বিদ্যমান নিয়মে আমেরিকার নাগরিক নন, এমন যে কেউ এসে সন্তান জন্ম দিলেই সেই সন্তান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব দাবি করতে পারে। দুনিয়ার অন্য কোনও দেশে এমন নিয়ম নেই। এটি নিতান্তই হাস্যকর। এটি বন্ধ হওয়া উচিত।

 দেড়শ বছরের পুরোনো এই নিয়ম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণ করলেই যে কেউ দেশটির নাগরিকত্ব অর্জনের সুযোগ পান। ফলে এই ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। তবে ট্রাম্প বলছেন, আইন বিশেষজ্ঞরা তাকে নিশ্চিত করেছেন যে, তেমন কোনও সংশোধনীর প্রয়োজন নেই। নির্বাহী আদেশের মাধ্যমেই এটা করা সম্ভব। ট্রাম্পের বক্তব্যে এখন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, প্রেসিডেন্ট তার একক ক্ষমতাবলে এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন কি না? জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের কারণে অবৈধ অভিবাসীরা বিশেষ কোনও সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে কিনা?

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়মে কী আছে?

যুক্তরাষ্ট্রের শাসনতন্ত্রে ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে এই নাগরিকত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করা আছে। এই সংশোধনীর প্রথম বাক্যেই বলা আছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী সব ব্যক্তি দেশটির নাগরিক হবে। সে আমেরিকার বাইরে যেখানেই বসবাস করুক, সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়।’

অভিবাসন নিয়ে কট্টরপন্থীরা বলছেন, এই ব্যবস্থা অবৈধ অভিবাসনের জন্য 'চুম্বক' হিসেবে কাজ করে থাকে। এটি সন্তান জন্মদানের জন্য গর্ভবতী নারীদের সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্র আসতে উৎসাহিত করছে। ট্রাম্প বলেছেন, জন্ম নেওয়া শিশুটি ৮৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সব সুবিধা ভোগ করবে, এটা বন্ধ হতে হবে। ২০১৫ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, শতকরা ৬০ ভাগ আমেরিকান জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুযোগ রাখার পক্ষে রয়েছে। আর এই সুযোগ বাতিলের পক্ষে ৩৭ শতাংশ আমেরিকান।

কিভাবে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছিল?

গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ১৮৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে চতুর্দশ সংশোধনী আনা হয়েছিল। ত্রয়োদশ সংশোধনী আনা হয়েছিল ১৮৬৫ সালে। সেই সংশোধনীর মাধ্যমে দাস প্রথা বিলুপ্ত করা হয়েছিল। এরপর চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে আমেরিকায় জন্ম নেয়া সাবেক ক্রীতদাসদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হয়েছিল। ১৮৫৭ সালে এক ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, আফ্রিকান আমেরিকানরা কখনও আমেরিকার নাগরিক হতে পারে না। কিন্তু এরপর চতুর্দশ সংশোধনী তাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে। ১৮৯৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট এক মামলায় নিশ্চিত করে যে, অভিবাসীদের শিশুদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে। চীনা বাবা-মা আমেরিকায় সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন। ওয়াং কিম আর্ক নামের সেই শিশু ২৪ বছর বয়সে চীনে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। তখন ওয়াং যুক্তি দিয়েছিলেন যে, তিনি আমেরিকায় জন্ম নিয়েছেন। চতুর্দশ সংশোধনীতে যে অধিকার আছে, সেখানে তার বাবা মা'র অভিবাসন কোনও প্রভাব ফেলে না। এই যুক্তি দিয়ে তিনি সফল হয়েছিলেন। ইমিগ্রেশন হিস্ট্রি রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ইরিকা লী লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ওয়াং কিম আর্কের মধ্যে তখন যে আইনি লড়াই হয়েছে, সেখানে এসেছিল যে আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী সবাই দেশটির নাগরিক হবেন। তখন থেকে আদালত আর কখনও এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি।

ট্রাম্প কি এই ব্যবস্থা বাতিল করতে পারেন?

আইন বিশেষজ্ঞদের বেশিরভাগই মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বাতিল করতে পারেন না। ভার্জিনিয়া আইন স্কুলের অধ্যাপক এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞ কৃষ্ণ প্রকাশ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন কিছু করছেন, যা অনেক মানুষকে আঘাত করবে। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতে যাবে এবং আদালতই সিদ্ধান্ত দেবে। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর কয়েকদিন বাকি আছে। সে সময় এমন পদক্ষেপের পেছনে রাজনীতি আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ট্রাম্প এমন পদক্ষেপ নিয়ে নিজের সমর্থকদের চাঙা করতে চাইছেন। একই ভাবনা থেকে মাত্র একদিন আগেই হোয়াইট হাউস মেক্সিকো সীমান্তে পাঁচ হাজারের বেশি সেনা পাঠানোর ঘোষণা দেয়। দক্ষিণ আমেরিকার তিনটি দেশ থেকে মেক্সিকো হয়ে কয়েক হাজার অবধৈ অভিবাসীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ঠেকাতে তাদের সীমান্তের পাঠানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ