ঢাকা,বৃহস্পতিবার 1 November 2018, ১৭ কার্তিক ১৪২৫, ২১ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পাকিস্তানে ব্লাসফেমি আইনে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসিয়া বিবি খালাস

৩১ অক্টোবর, ডন, বিবিসি : ব্লাসফেমি আইনে ৮ বছর আগে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া এক খ্রিস্টান নারীকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। ঐতিহাসিক এক রায়ে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত গতকাল বুধবার আসিয়া বিবির আপিল আবেদন গ্রহণ করে তাকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয় । প্রতিবেশীরা আসিয়ার বিরুদ্ধে নবী মোহাম্মদকে (সাঃ) অপমানের অভিযোগ এনেছিলেন। ওই অভিযোগে ২০১০ সাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। 

শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এসেছেন আসিয়া। গত ৮ বছর ধরে তাকে কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে দিন কাটাতে হয়েছে। আসিয়ার মামলাটি নিয়ে পাকিস্তান গভীর বিভক্তি তৈরি হয়েছিল। দেশটিতে ব্লাসফেমী আইনের পক্ষে শক্ত জনসমর্থন আছে।  রায়কে ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কায় রাজধানী ইসলামাবাদজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা। কট্টরপন্থি ধর্মীয় নেতারা তাদের সমর্থকদের সড়কে অবস্থান নিতেও আহ্বান জানিয়েছিলেন। ইসলামাবাদের সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সাকিব নিসার আসিয়ার আপিলের রায় পড়ে শোনান। “আপিল গৃহীত হয়েছে। নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টের রায় পরিবর্তন করে তাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হচ্ছে। তার দণ্ড প্রত্যাহার করা হল,” বলেন প্রধান বিচারপতি। সমালোচকদের মতে, পাকিস্তানের এ ব্লাসফেমী আইনটি প্রায়ই ব্যক্তিগত রেষারেষির প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, দণ্ড দেওয়া হয় দুর্বল সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে।

২০০৯ সালের জুন মাসে লাহোরের কাছে শেখুপুরা এলাকায় ফল পাড়তে গিয়ে অন্য নারীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে চার সন্তানের জননী আসিয়া নবীকে (সাঃ) নিয়ে কটুক্তি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী আসিয়া একটি কাপ ব্যবহার করে একটি বালতি থেকে পানি খাওয়ার পর, ওই নারীরা পানি অপবিত্র হয়ে গেছে এবং এটি আর ব্যবহার করা যাবে না বললে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এর পাল্টায় আসিয়া নবীকে নিয়ে তিনটি আপত্তিকর কথা বলেন বলে অভিযোগ নারীদের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ