ঢাকা, বুধবার 7 November 2018, ২৩ কার্তিক ১৪২৫, ২৭ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঐতিহাসিক ৭ নবেম্বর

৬ নবেম্বর রাত থেকে শুরু হয়েছিল সিপাহী-জনতার বিপ্লব। এই বিপ্লবে কয়েকজন সহযোগীসহ খালেদ মোশাররফ নিহত হয়েছিলেন। অন্যদিকে জেনারেল জিয়াউর রহমান মুক্তি পেলেও একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী বাংলাদেশকে দেশবিশেষের অধীনস্থ করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে হানাহানি সৃষ্টি করার ভয়ংকর পদক্ষেপ নিয়েছিল। যে চেইন অব কমান্ড বা কঠোর শৃংখলা সশস্ত্র বাহিনীর অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য, ষড়যন্ত্রকারীরা তা ভেঙে ফেলার পাশাপাশি অফিসার মাত্রকেই হত্যার অভিযানও শুরু করেছিল। ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হলে স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশের সশস্ত্র বাহিনী অফিসারবিহীন হয়ে পড়তো। তেমন অবস্থায় সশস্ত্র বাহিনীকে ধ্বংস করে ফেলা যেতো সহজেই।
ওই ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করেছিলেন সাধারণ সিপাহী এবং নন-কমিশন্ড অফিসাররা। তাদের চেষ্টায় মুক্ত সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বলিষ্ঠতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছিলেন। প্রতিটি ক্যান্টনমেন্টে ঝটিকা সফরে গিয়ে তিনি বলেছেন, অফিসারসহ সেনা সদস্যদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সবাই একই মাতৃভূমির জন্য কাজ করছেন। জেনারেল জিয়ার মতো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার এই তৎপরতা ও বক্তব্য সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ভুল ভাঙিয়ে দ্রুত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ঘটিয়েছিল। ষড়যন্ত্র বুঝতেও দেরি হয়নি তাদের। জেনারেল জিয়া নিজের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে এবং সশস্ত্র বাহিনীকে ধ্বংস করে দেয়ার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। সব ক্যান্টনমেন্টে ফিরে এসেছিল শান্তি ও স্থিতিশীলতা। চেইন অব কমান্ডও প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বড় কথা, সশস্ত্র বাহিনীকে নির্মূল করা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছিল ৭ নবেম্বরকেন্দ্রিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় আগত জিয়াউর রহমানের প্রধান অবদান। বাকশালের নামে প্রতিষ্ঠিত একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে জিয়া খুলে দিয়েছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের দরোজা। এর ফলে বাতিল হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক দলগুলো আবারও তৎপরতা চালানোর সুযোগ পেয়েছিল। কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে আওয়ামী লীগকেও রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার আমলেই প্রথমবারের মতো দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে (১৯৭৮), সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৯৭৯ সালে। এসবই সম্ভব হয়েছিল ৭ নবেম্বরের কারণে। ছাত্র-জনতা ও সশস্ত্র বাহিনীর ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও সফল বিপ্লবই সে পরিবর্তনের ভিত্তি ও পথ নির্মাণ করেছিল।
সব মিলিয়ে ১৯৭৫ সালের ৭ নবেম্বর স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য দিক-নির্দেশনা হয়ে রয়েছে, যার নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউর রহমান।
কিন্তু আপত্তি ও দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, ইতিহাস শেখানোর বিচিত্র অভিযান চালাতে গিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিন্দিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তারা ৭ নবেম্বরের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হয়েছেন। অন্যদিকে ইতিহাস কিন্তু এ সত্যই প্রমাণ করেছে যে, সিপাহী-জনতার ওই বিপ্লব না ঘটলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বই বিপন্ন হয়ে পড়তো। ধ্বংস হয়ে যেতো দেশের সশস্ত্র বাহিনীও।
আজকের দিনে আমরা তাই ৭ নবেম্বরের বীর যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও আমরা চিন্তাগত সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে ওঠার এবং স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ