ঢাকা, বৃহস্পতিবার 8 November 2018, ২৪ কার্তিক ১৪২৫, ২৮ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বল সরকারের কোর্টে ॥ আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা ঐক্যফ্রন্টের

গতকাল বুধবার নিজস্ব বাসভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন -সংগ্রাম

* একটা অর্থবহ নির্বাচনের জন্যে আমরা চেষ্টা করছি ---ড. কামাল
* সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবির প্রতি সরকার সাড়া দিচ্ছে না ---মির্জা ফখরুল
মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : বহুল প্রতীক্ষিত সংলাপ ব্যর্থ হওয়ায় আন্দোলনেই যেতে হচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দ্বিতীয় দফা সংলাপ থেকে ফিরে ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারকে আমরা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিষয়ে কিছু দাবি দিয়েছি। কিন্তু সরকার তাতে সাড়া দিচ্ছে না। তাই সাত দফা আদায়ের জন্য আমরা আন্দোলনে আছি। তিনি বলেন, পরশু (শুক্রবার) রাজশাহীতে আমাদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে, তাদের সাথে নিয়েই দাবি আদায় করা হবে। একইসাথে তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে চলমান সঙ্কটের সমাধান না হলে তার দায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে এখনো সরকার তার অবস্থানে অনঢ় তা হলে আপনারা কী আশা করছেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এখানে আশার কোনো প্রশ্ন নেই। আমরা একটি নির্বাচনকালীন সরকার চাচ্ছি জনগণের দাবি হিসেবে। এটা সরকার যদি না মানে তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা তা আদায় করবো।
এদিকে গতকাল বুধবার বিকেলে রাজশাহী অভিমুখে রোডমার্চ করার ঘোষণা দিলেও রাতে ফ্রন্ট ও জোটের নেতাদের সাথে বৈঠক শেষে আপাতত রোডমার্চ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে শুক্রবার রাজশাহীতে জনসভা করবে এই জোট। গতকাল রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জানা গেছে, আজ বিকেলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভা রয়েছে। একইসাথে সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন একাদশ সংসদের তফসিল ঘোষণা করতে পারে। তাই সব দিক বিবেচনায় রেখে ফ্রন্টের নেতাদের সাথে আলোচনা করে রোডমার্চ কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
সরকারের সাথে দ্বিতীয়দফা সংলাপ শেষে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, একটি অর্থবহ নির্বাচনের আশা নিয়েই তারা ক্ষমতাসীনদের সাথে সংলাপে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমরা তো চেষ্টা করে যাচ্ছি, করছি, করে যাবো। দেশে একটা স্থিতিশীল অবস্থা, একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে সব কিছু হোক এটাই আমরা চাই। এখন দায়িত্ব তো সরকারের। বল এখন সরকারের কোর্টে। ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, শান্তিপূর্ণ অবস্থা হোক, সেটাই আমরা চাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দ্বিতীয় দফা সংলাপের পর এর ফলাফল জানতে চাইলে গতকাল বিকেলে বেইলি রোড়ে নিজের বাসায় এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট সংকট সমাধানে ‘বল এখন সরকারের কোর্টে’। তিনি বলেন, আমরা তো সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি, করছি, করে যাবো যে দেশে একটা স্থিতিশীল অবস্থা, একটা শান্তিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে সব কিছু হোক। দায়িত্ব তো সরকারের। বল এখন সরকারের কোর্টে।
দুই দফা সংলাপে বসার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে কামাল হোসেন বলেন, আজকের সংলাপে আমরা আমাদের ৭ দফা দাবি নিয়ে সীমিত পরিসরে আলোচনা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব করেছি। আমরা বলেছি যে, অল্প পরিসরে আরো আলোচনা করার ব্যাপারে ইচ্ছুক। তিনি বলেন, সংলাপে সারাদেশে হাজার হাজার রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করা হয়েছে সেগুলো প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো গায়েবি ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের হবে না, ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের গ্রেফতার করা হবে না বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন।
সংলাপে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কী আলোচনা হয়েছে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ৭ দফার প্রথম দফাটাই ছিলো বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে অবশ্যই আলোচনা হয়েছে। আমরা জোর দিয়ে বলেছি যে, তিনি তো আইনগতভাবে মুক্তি পাওয়ার যোগ্য, জামিন পাওয়ার যোগ্য। তিনি জামিন পেয়েছেনও। কিন্তু কিভাবে তাকে বারবার আটক রাখা হয়েছে সেটি সবারই জানা। আমরা সেটি বলেছি।
 বেগম জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এই ধরনের কোনো প্রস্তাবই আমরা দেইনি। সেই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বৃহস্পতিবার একাদশ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে ফ্রন্টের অবস্থান কি হবে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, কালকে যদি তফসিল ঘোষণা করে আমরা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করব। আমরা তো আন্দোলনেই আছি। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার আমরা রাজশাহী অভিমুখে রোড মার্চ করবো এই ৭ দফার দাবিতে। আমরা রাজশাহীতে জনসভা করবো। যদিও রাতে রোডমার্চ কর্মসূচি বাতিল করা হয়।
বর্তমান সংকট নিরসন সংলাপে সম্ভব কিনা প্রশ্ন করা হলে ফ্রন্টের মুখপাত্র বলেন, আমরা সবসময় সংলাপকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়েছি। পার্ট অব আওয়ার মুভমেন্ট। আমরা এখনো বিশ্বাস করি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। সরকার যদি সেই পথে না আসে, সরকার যদি আলোচনার মাধ্যমে একটা জায়গায় পৌঁছাতে না চায় এর দায়-দায়িত্ব তাদের ওপরই বর্তাবে।
নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংলাপ শেষে দেয়া বক্তব্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা বলেছিলাম যে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে। সংসদ ভেঙে দেবার ৯০ দিন পরেই তো নির্বাচন হবে। সংসদ ভেঙে দেয়াটা সংবিধানের অন্তর্গত এবং এখনই এটি সংবিধানে আছে। একই সাথে দুইটি সংসদ থাকবে- এটা তো কোনো নিয়মই হতে পারে না। উনারা যদি বলেন এটা নেই তাহলে উনারা ভুল বলেছেন। এটি সংবিধানের মধ্যে আছে, সাংবিধানিকভাবেই আমরা প্রস্তাব করেছি। সেক্ষেত্রে সংসদ ভেঙে দেবার পরের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তাব করেছি। এর মানে নির্বাচন আমরা পেছাতে চাইছি এমনটা নয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এ বিষয়ে প্রস্তাব করেছি। তারা (সরকার) বলেছেন যে, আলোচনা হতে পারে। নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে এখনো সরকার তার অবস্থানে অনঢ় তাহলে আপনারা কী আশা করছেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এখানে আশার কোনো প্রশ্ন নেই। আমরা একটি নির্বাচনকালীন সরকার চাচ্ছি জনগণের দাবি হিসেবে। এটা সরকার যদি না মানে তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা তা আদায় করবো।
এই দুই দফা সংলাপে আপনারা কী পেলেন মূল্যায়ন জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, পাওয়ার ব্যাপারটা রিলেটিভ ব্যাপার। আমরা আমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে সরকারের কাছে গেছি। তারা বলেছে যে,ভবিষ্যতে তারা আলোচনা করে দেখতে পারে, সুযোগ আছে। আমরা আমাদের দাবি নিয়ে জনগণের কাছে যাচ্ছি। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে এই দাবি আদায় করবো। নির্বাচন পেছানো দাবি একটা টালবাহানা ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্য সম্পকে জানতে চাইলে জবাবে তিনি বলেন, এটা বলার অর্থই হলো জনগণের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণের দাবির প্রতি তাদের শ্রদ্ধা নেই বলে এমন কথা তারা বলছেন। আজকে নির্বাচন পেছানোর কথা আমরা বলছি, এজন্য যে, নির্বাচনকে শুধুমাত্র একটা অর্থবহ করার জন্য।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চেয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলোচনায় কোন সমাধান না পেলে পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য সব দায়দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তাবে। মির্জা ফখরুল বলেন, আলোচনা ও আন্দোলন একসাথেই চলবে। তারা একগুয়েমি ছাড়েনি। তিনি বলেন, অর্থবহ নির্বাচনই আমাদের দাবি। এই দাবি নিয়েই আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসেছি। এখন এই দাবি যদি সফল না হয়, কোনো সমাধান না আসে তাহলে সেই দায় সরকারেরই।
গণভবনে গতকাল সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিন ঘন্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল। এই প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, এসএম আকবর, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমদ।
সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের প্রতিনিধিদলে ছিলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপ শেষে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বেইলি রোডের বাসায় এসে ফ্রন্টের নেতাদের সাথে বৈঠকে বসেন। এক ঘন্টা বৈঠক শেষে নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক সম্মেলনে আসেন।
এদিকে গতকাল দুপুরের খাবার না খেয়ে গণভবন থেকে বের হয়ে গেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। দুপুর ২টার দিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক শেষে তাদের চলে যেতে দেখা গেছে। জানা যায়, গত ১ নবেম্বর গণভবনে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার সংলাপে ফ্রন্টের কেউ কেউ সামান্য নাস্তা ও পানীয় নিয়েছিলেন। এই ছবি গণভবন থেকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করা হয়। যার কারণে পরবর্তীতে ফ্রন্টের নেতারা সরকারের এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদলে ‘১০ সদস্যের উপদেষ্টা নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবে’- জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি সরকারি দল নাকচ করে দিয়েছে। সূত্র মতে, ঐক্যফ্রন্টের প্রস্তাবের জবাবে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, এটা সংবিধান সম্মত নয়। এতে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে আর এ সুযোগে তৃতীয় পক্ষের ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসময় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সংবিধানের মধ্যে থেকেই কিভাবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করা যায় তার রূপরেখা তুলে ধরেন।
সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, তারা আরও দাবি উপস্থাপন করেছেন। আমরা বলেছি, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারিনি। তারা আরও সংলাপের দাবি জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর অপর সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, সংবিধান পরিপন্থী ও সাংঘর্ষিক কিছু বক্তব্য তারা নিয়ে এসেছেন, যেটা গ্রহণযোগ্য নয়। সংলাপ এখানে শেষ। শিডিউল ঘোষণার পর তারা যদি কোনো ব্যাপারে আবার বসতে চান, আপত্তি নেই।
 বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তার কথা অনুযায়ী, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড, সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা, প্রকৃত রাজবন্দীদের মুক্তির বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে মেনে নেয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনকালী সরকারের বিষয়ে ঐক্যফ্রন্ট যে প্রস্তাব দিয়েছে তা মেনে নেয়া সম্ভব নয় বলে জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।
গত ১ নবেম্বর গণভবনে বহু আলোচিত প্রথম দফা সংলাপ শেষে গণফোরাম সভাপতি কামাল বলেছিলেন, এ আলোচনায় বিশেষ কোনো সমাধান তারা পাননি। আর জোটের সবচেয়ে বড় দল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় তারা সন্তুষ্ট নন। এরপর গত ৪ নবেম্বর আবার সংলাপ চেয়ে কামালের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হলে বুধবার বেলা ১১টায় ‘ছোট পরিসরে’ সংলাপের সময় দেয়া হয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐক্যফ্রন্টের জনসভা থেকে মির্জা ফখরুল ঘোষণা দেন, সংলাপে তাদের দাবি পূরণ না হলে ৮ নবেম্বর রাজশাহী অভিমুখে রোড মার্চ করবেন তারা। রাজশাহীতে ৯ নবেম্বর ঐক্যফ্রন্টের জনসভা হবে। আর সমঝোতার আগেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দেন ঐক্যফ্রন্টের সবচেয়ে বড় দল বিএনপির এই নেতা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ