ঢাকা, শুক্রবার 9 November 2018, ২৫ কার্তিক ১৪২৫, ২৯ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশে দলিত ও বঞ্চিত শ্রমিকদের দারিদ্র্য

এডভোকেট বাবুল রবিদাস : ১৯৭২ সালের ৪ নবেম্বর হচ্ছে সংবিধান দিবস। কার্যকর হয়নি অনেক নির্দেশনা। যেমন- মানব জীবনের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় জিনিস মৌলিক অধিকারগুলো অর্জন রাষ্ট্র  নিশ্চিত করবে। এ প্রসঙ্গে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে- রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হবে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক বিকাশের মাধ্যমে উৎপাদন শক্তির ক্রমবৃদ্ধিসাধন এবং জনগণের জীবনযাত্রার বস্তুগত  ও সংস্কৃতিগত মানের দৃঢ় উন্নতি সাধন, যাতে নাগরিকদের জন্য নি¤œলিখিত বিষয়সমূহ অর্জন নিশ্চিত করা যায়। যেমন- (ক) অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা। 

সংবিধানের তৃতীয় ভাগের মৌলিক অধিকার অধ্যায়ের ২৮ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে- ২৮(১) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করবে না।  (২) রাষ্ট্র ও গণজীবনের  সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করবে। (৩) কেবল ধর্ম,  গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীন করা যাবে না। (৪) নারী বা শিশুদের অনুকূলে কিংবা নাগরিকদের যে কোন অনগ্রসর অংশের অগ্রগতির জন্য বিশেষ বিধান প্রনয়ণ হতে এই অনুচ্ছেদের কোন কিছুই রাষ্ট্রকে নিবৃত্ত করবে না। আমরা বঞ্চিত শ্রমিক তথা দলিত বা অনগ্রসর বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগণকে যে নামেই বলি না কেন? মূলত তারা সকলেই বঞ্চিত জনগোষ্ঠী একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হওয়ায় তারা দারিদ্র্য, বৈষম্য ও ক্ষুধা থেকে এখনো মুক্তি পায় নাই। বলা হয়- পরিশ্রম সৌভাগের চাবিকাঠি। কিন্তু শ্রমিকগণ কঠোর পরিশ্রম করেও দলিত জনগণ শ্রমের সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত কেন? যেমন- অন্ন বা খাদ্য গ্রহণ সম্পর্কে গত ১১ আগস্ট ২০১৮ তারিখের প্রথম আলো পত্রিকার খবরে জানা যায় যে, পোশাক শিল্পের একজন শ্রমিক নিজের খাবার বাবদ মাসে গড়ে ১ হাজার ১১০ টাকা খরচ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, আট ঘন্টা কাজ করার জন্য একজন শ্রমিকের প্রতিদিন ২ হাজার ৮০০ কিলোক্যালরি শক্তি উৎপাদন করার মতো খাবার দরকার। বর্তমান বাজারদরে সেজন্য প্রতিদিন খরচ করতে  হবে ১০৯ টাকা। অর্থাৎ মাসে দরকার ৩ হাজার ২৭০ টাকা। কিন্তু পোশাক শ্রমিকেরা বর্তমানে নিজের খাবারের পেছনে যত টাকা খরচ করা দরকার, তার তিন ভাগের একভাগ করছেন। ৩৪ শতাংশ শ্রমিক মাসে একবারও বড় মাছ খান না। ১৬ শতাংশ শ্রমিক মাসে একবারও মুরগির মাংস খান না। একজন শ্রমিক সপ্তাহে গড়ে তিনটি ডিম খান। কম মজুরির কারণে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের একটি বড় অংশ খাবারের খরচ কমিয়ে দিতে বাধ্য হন এবং পরিবারের খরচ মেটাতে অধিকাংশ শ্রমিক ঋণ করেন। প্রশ্ন হলোÑ শ্রমিকগণ কি কলুর বলদ ? উৎপাদিত পোশাক রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হয়। কিন্তু তার লাভের ভাগীদার পোশাক শ্রমিকগণ হবে না, এটা কলুর বলদ ছাড়া কি বলবো? আর শ্রমিকগণ পরিবারের খরচ মিটাতে ঋণ করে চালাবে তা কি হয় ? তা কখনো হতে পারে না। দেশের রপ্তানি আয়ের ৮৩% আসে পোশাক খাত থেকে, তবে এ খাতের শ্রমিকেরা অন্য কয়েকটি ছোট খাতের চেয়ে মজুরি কমপান (২৪ জুলাই ২০১৮ দৈনিক প্রথম আলো) খাদ্য তালিকার মূল্য নিয়ে গবেষণায় প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে বাংলাদেশে পুষ্টিকর খাদ্য তালিকার মূল্য বেশি। যেমন- ২৭ অক্টোবর ২০১৮ ইং তারিখের দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা থেকে জানা যায় যে, এক থালা সাধারণ মানের পুষ্টিকর খাবার কিনতে একেক দেশের মানুষকে একেক ধরনের  দাম দিতে হয়। সেই থালায় থাকবে একেবারে সাধারণ মানের ভাত, ডাল, শিম, মটরশুটি বা স্যুপ জাতীয় খাবার। এই খাবার কিনতে যুক্তরাষ্টের নিউইয়র্ক শহরের একজন বাসিন্দার ১ ডলার ২০ সেন্ট খরচ হয়। আর বাংলাদেশের একজন নাগরিক সেই  সাধারণ মানের এক থালা খাবার যদি এ দেশে কিনে খেতে চায় তাহলে তাকে খরচ করতে হবে ৬ ডলার ৫৬ সেন্ট। আয় সামর্থ্যরে বিবেচনায় নিউইয়র্কবাসীর চেয়ে প্রায়  সাড়ে ৫ গুণ বেশি দামে খাবার খেতে হয় একজন বাংলাদেশীকে। দারিদ্র্যপীরিত সাধারণ মানুষ যদি এত মূল্যের খাদ্য কিনে খেতে না পারে তাহলে অপুষ্টির শিকার হবে তারা। অপুষ্টি মানেই বিভিন্ন রোগ বালাই বা কর্মক্ষমতাহীন হওয়া। এ প্রসঙ্গে- ১৭ অক্টোবর ২০১৮ তারিখের দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা থেকে জানা যায় যে, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য নানা কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও দেশের মোট জনসংখ্যার ১২.৯ শতাংশ বা ২ কোটি অতিঃদরিদ্র এবং দরিদ্র ২ কোটি সহ মোট চারকোটি মানুষের অর্ধেকই বেশি কম ও অল্প কম  খেতে পায়। বাংলাদেশে এখন প্রায় আড়াই কোটি মানুষ প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার খেতে পায় না বলে অপুষ্ঠিতে ভুগছে। রক্ত স্বল্পতায় ভুগছেন ৪৪ শতাংশ নারী। শিশুদের মধ্যে খর্বকার (কম উচ্চতা সম্পন্ন) ৩৬.১% কম ওজন সম্পন্ন ৩২.৬% এবং কৃশকায় ১৪.৩%।

তার প্রমাণ পাওয়া যায় বিগত ১৭ অক্টোবর ২০১৮ তারিখের দৈনিক সংবাদ পত্রিকা থেকে ঘটনার সত্যতার প্রমাণ মেলে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের উক্তিতে -“২০৩০ সালে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত। বাংলাদেশে সরকার ক্ষুধা ও দারিদ্র্য নিরসনের জন্য কাজ করে চলেছে। ফলে কিছু সফলতাও মিলেছে। যেমন- ১৮ অক্টোবর ২০১৮ তারিখের দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকা থেকে জানা যায় যে- বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ২০১৮ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে যথেষ্ট এগিয়ে বাংলাদেশ। এই সূচকে বিশ্বের ১১৭ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৬ তম, যা গত বারের চেয়ে দুই ধাপ এগিয়ে। 

কারণ দেশ এখন খাদ্য উৎপাদনে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; বরং উদ্ধৃত্ত খাদ্যশস্যে ভরপুর। সাড়ে ১২ লাখ টন খাদ্য উদ্ধৃত্ত থাকে জন সাধারণের দৈনন্দিন খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে। বাংলাদেশের খাদ্যশস্য উৎপাদনে এই সাফল্যের প্রশংসা করেছে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা, বিশ্ব ব্যাংকের পক্ষ থেকে। বাংলাদেশ বিভিন্ন অবকাঠামো কাজে এগিয়েছে কিন্তু দরিদ্য্র ও প্রান্তিক জনগণ এখনো বৈষম্য,দারিদ্র্য থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পায় নাই। যেমন- বিশ্ব ব্যাংক রিপোর্টে বলছে যে, অনেকেরই দৈনিক আয় ১ দশমিক ৯ ডলারের কম। যদিও চরম দারিদ্র্য থাকা মানুষের সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হ্রাস পাওয়া শুরু হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে দারিদ্র্যের সম্প্রসারিত মানদ-ের বিচারের বিশ্বব্যাপী দরিদ্র মানুষের সংখ্যা এখনও উচ্চে অবস্থান করছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। অথচ মানুষ বিভিন্ন অঞ্চল ও দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফল ভোগ করছে অসমভাবে। “১৮ অক্টোবর ২০১৮ দৈনিক জনকন্ঠ”। এতো অল্প আয়ের কারণে নি¤œ আয়ের মানুষ দিশেহারা হয়েছে এবং ধু¤্রজালে আটকা পরেছে। তারা মুক্তির প্রহর গুণছে। যেমন - দেশে দারিদ্র্য কমলেও প্রান্তিক  ও বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর অন্তত ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ফাঁদে আটকা পড়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জন করতে হলে প্রান্তিক ও বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীকে পেছনে ফেলে রাখা যাবে না (২১ আগস্ট ২০১৮ দৈনিক সংবাদ)। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। পদ্মাসেতু, স্কুল, কলেজ ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু দলিত,বঞ্চিত শ্রমিকদের উন্নয়ন সম্পর্কে আমরা আশার আলো তেমন দেখতে পাই না। তাই পত্রিকার শিরনাম হয়েছে “উন্নয়ন হচ্ছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ দরিদ্র মানুষ ভাগ পাচ্ছে না কেন? (৫ নবেম্বর ২০১৮ দৈনিক যুগান্তর) এবং আরো জানা যায় যে, উন্নয়নের সুবিধা পাচ্ছে ধনীরা (৫ নবেম্বর ২০১৮ প্রথম আলো)। এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ  অর্মত্য সেনের উক্তি-  Development means development of man - যার বাংলা অর্থ  উন্নয়ন মানেই মানুষের উন্নয়ন। যেমন- “বৈষম্য কমাতে পিছিয়ে বাংলাদেশ” বলা হয় বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ হওয়ার তুষ্টির পূর্বাভাসের মধ্যে খারাপ খবর এলো। আর্šÍজাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম বৈষম্য কমানোর প্রতিশ্রুতি (কমিটমেন্ট টু রিডিউসিং ইন ইকুয়ালিটি- সি আরআই) সূচক তুলে ধরে বলেছে, এ সূচকে বিশ্বের ১৫৭ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৮ তম। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে  বৈষম্য কমাতে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে দক্ষিণ এশিয়া। এ অঞ্চলের আট দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম (১০ অক্টোবর ২০১৮ দৈনিক প্রথম আলো)। বৈষম্য কমানোর জন্য রাষ্ট্র জোরালো কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই। বৈষম্য বিলোপ আইন আজও আলোর মুখ দেখলো না- বাংলাদেশের দলিত, বাঞ্চিত, অন্ত্যজ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও প্রান্তিক জনগণ। যা হতাশার বিষয়। বর্তমান সরকারের অধীন হবে কি না জনগণ চিন্তাভাবনা করবেন। 

উপসংহারে বলা যায় যে, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বৈষম্য এখনো বাংলাদেশে রয়েছে। সূচকে সামান্য এগিয়েছে মাত্র। সূচকে যদিও কিছু ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, দলিত, বঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ বেশি উপকৃত হতে পারে নাই। এর জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্যের ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। কিন্তু মজুরি না বাড়ায় মানুষ এখনও অতি দরিদ্র থেকে বেরুতে পারছে না। দারিদ্র্য কমলেও ছিন্নমূল গরিবের সংখ্যা বেড়েছে। এদের ন্যূনতম চাহিদা পূরণের সক্ষমতাও কমেছে। দেশে আয় বৈষম্য রয়েছে ব্যাপক। তাই পত্রিকার শিরনাম হয়েছে “দারিদ্র্য কমলেও বৈষম্য বাড়ছে” (২৫ অক্টোবর ২০১৮ -দৈনিক সংবাদ)। দেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে, যার মধ্যে ১ কোটি মানুষ অতিদরিদ্র বলে জানিয়েছেন  অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত (২২ অক্টোবর ২০১৮ দৈনিক সংবাদ)। আমরা মনে করি বর্তমান সরকার যে সংখ্যার মাধ্যমে যতগুলো মানুষকে দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছেন বলে মতামত দিয়েছেন তার থেকে অনেক বেশি মানুষ বাংলাদেশে দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। এছাড়াও অপর এক খবরে জানা যায় যে, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সত্ত্বেও এশিয়া- প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ৫০ কোটি মানুষ এখনও ক্ষুধার্থ জীবন যাপন করেছে। এ অঞ্চলের দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবন যাপনের মৌলিক চাহিদাগুলো অর্জন থমকে গেছে (৩ নবেম্বর ২০১৮ দৈনিক সংবাদ)। এ প্রসঙ্গে দলিত ও বঞ্চিত মানুষের পক্ষে কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন যে- “আমি সেই দিন হবো শান্ত, যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না, অত্যাচারীর খড়গকৃপান ভীম রণভূমে রনিবে না, আমি সেই দিন হব শান্ত”। 

লেখক : সভাপতি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, জয়পুরহাট জেলা শাখা ও এ্যাডভোকেট, জজ কোর্ট, জয়পুরহাট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ