ঢাকা, শুক্রবার 9 November 2018, ২৫ কার্তিক ১৪২৫, ২৯ সফর ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জনগণকে সাথে নিয়ে গণ-অবস্থানে বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে  -- নজরুল ইসলাম খান

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘দুইচার জন রাস্তায় নামলে সরকার গ্রেফতার করে জেলে ভরবে। দু’একশ’ রাস্তায় নামলে পুলিশ গুলী করবে। দশ-বিশ হাজার ও লাখ লাখ রাস্তায় নামলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলী করার সাহস দেখাতে পারবে না।’ পাহাড়সম লুটপাটের কারণে ক্ষমতা ছাড়ছে না সরকার। কিন্তু দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। এ পরিবর্তন করতে জনগণকে সাথে নিয়ে গণ-অবস্থান করতে হবে। গণ-অবস্থানেই বর্তমান ভয়ংকর অবস্থার পরিবর্তন হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে লেবার পার্টি আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সংহতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- জিনাফ সভাপতি লায়ন মো.আনোয়ার, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন ও শাহবাগ থানা কৃষকদলের সভাপতি এম জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশ অনেকদিন থেকে দু:সময় সময় অতিক্রম করছে। এ দুঃসময় কাটিয়ে ওঠার জন্য নির্বাচনকে সামনে রেখে একটা সুযোগ এসেছিল। যে সংলাপের আয়োজন করা হয়েছিল সেই সংলাপের মধ্য দিয়ে একটি সমাধান আনা সম্ভব ছিল এবং তাতেই দেশের সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতো। জনগণের ভোটের মাধ্যমে একজন জনপ্রতিনিধি জাতীয় সংসদের সদস্য হতে পারতো। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে সরকারের জেদের কারণে তাদের আত্মরক্ষার জেদের কারণে তা সম্ভব হলো না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসার কারণে বেগম জিয়াকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে আবার জেলে নেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা তো জানতে পারলাম না, যে অসুস্থতার কারণে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল সেই অসুস্থতা থেকে তিনি মুক্ত হয়েছেন কিনা। যে ডাক্তাররা বেগম জিয়াকে আগে চিকিৎসা করিয়েছিলেন যাদেরকে আমরা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বোর্ডে রাখতে বলেছিলাম তারাও জানে না তাঁর এখন কী অবস্থা। বেগম খালেদা জিয়া ৭৩ বছর বয়সের অসুস্থ একজন মানুষ। তাঁকে হাসপাতালে রাখলে সরকারের কি এমন সমস্যা হতো। কিন্তু না, তাকে কারাগারে পাঠাতে হবে। যেখানে একজন সুস্থ মানুষ থাকলে অসুস্থ হয়ে যাবে এমন কারাগারে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে রাখা হয়েছে। এতে সরকারের মানসিকতার নির্মমতা জাতির কাছে প্রকাশ পেয়ে গেছে। 

দেশের যুবসমাজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জনগণ পরিবর্তন চায়। আর সে পরিবর্তনের দায়িত্ব আমাদের সবার কাঁধে। এ ক্ষেত্রে যুবকদের দায়িত্ব বেশি করে নিতে হবে। গণ-অবস্থান করে এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, মনে রাখবেন দু-চারজন আন্দোলন করলে গ্রেফতার হবেন। দশ-বিশজন আন্দোলন করলে গুলী করবে। আর হাজার হাজার জন আন্দোলন করলে কিছুই করতে পারবে না। তাই আমাদের হাজার হাজার জনগণ এক হয়ে আন্দোলন করতে হবে। তাহলেই দেশের অবস্থা পরিবর্তন হবে।

তিনি বলেন, সরকার এতো অন্যায়, খুন, গুম, ব্যাংক লুট, অর্থপাচার ও দুর্নীতি করেছে যে এখন ক্ষমতা ছাড়তে ভয় পাচ্ছে। বাংলাদেশ একটি অস্বাভাবিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সারা দুনিয়া বলছে সরকার অনৈতিকভাবে দেশ চালাচ্ছে। তারা নিন্দা জানাচ্ছে কিন্তু নিন্দাতে সরকার কোনো পরওয়া করছে না। আওয়ামী লীগ বার বার গণতন্ত্র হত্যা করেছে। আর জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়া বার বার গণতন্ত্র উদ্ধার করেছেন। এবারও তিনি ধ্বংস হওয়া গণতন্ত্রকে উদ্ধার করবেন। 

মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, এতো উন্নয়ন করেছেন তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে ভয় কেন? বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচন দিয়ে আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। শেখ হাসিনাও নিজের আসনে পাস করতে পারবেন না। ভুট্ট যেমন এ দেশের মানুষের মতামত গ্রহণ করেনি। তেমনি শেখ হাসিনাও জনগণের মতামতকে গ্রহণ না করে একগুয়েমি করছে। এখন শেখ মুজিবের ঘোষণার মতো জনগণের কাছে যা যা আছে তাই নিয়ে এ সরকারকে প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। দেশের মানুষ, ছাত্রসংগঠন ও শ্রমিকদের আন্দোলনের প্লাটফর্ম তৈরি করে দিতে হবে। 

তিনি বলেন, দেশে এখন দু’টি ধারা চলছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ব্যাংক, কয়লা, পাথার, শেয়ারবাজার লুটকারীরা, অর্থপাচারকারী ও সন্ত্রাসীরা। অন্যপক্ষে রয়েছে দেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী, গণতন্ত্রকামী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত দেশ প্রেমিক জনগণ। সাংবিধানিকভাবে এ দেশের মালিক জনগণ। তাই জনগণ এবার তাদের অধিকার রক্ষায় সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে। দু:শাসন স্বৈরচারীদের বিরুদ্ধে জনগণের আন্দোলন সব সময় বিজয়ী হয়েছে। গণতান্ত্রিক এ আন্দোলনেও জনগণের বিজয় সুনিশ্চিত।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ