ঢাকা, সোমবার 12 November 2018, ২৮ কার্তিক ১৪২৫, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গাজীপুরে ছাত্রদের হামলায় পুলিশের এএসআইসহ আহত ২ ॥ আটক ৯  

গাজীপুর সংবাদদাতা : গাজীপুরে শনিবার এক কলেজের শিক্ষার্থীদের হামলায় পুলিশের এক এএসআইসহ দুইজন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ওই এএসআই মো কামরুল ইসলাম ঢাকার উত্তরায় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় রাতে পুলিশ কলেজ হোষ্টেল ঘেরাও করে অভিযান চালিয়ে ৮-৯ জনকে আটক করেছে।  ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন সৌরভ ও স্থানীয়রা জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকাস্থিত ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের গেইট স্ট্যান্ড থেকে কয়েক শিক্ষার্থী শনিবার বিকেলে বাসে উঠতে গেলে পরিবহণ শ্রমিকরা তাদের উঠায় নি। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কলেজ গেইট এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বাস আটকাতে শুরু করে। এসময় নয়ন (৩২) নামের এক পরিবহণ শ্রমিককে তারা মারধর করে। এতে ওই শ্রমিক আহত হয়। এ নিয়ে ঘটনাস্থলে পরিবহণ শ্রমিকদের সঙ্গে কলেজ শিক্ষার্থীর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বিতন্ডা শুরু হয়। খবর পেয়ে কলেজ হোষ্টেল থেকে শিক্ষার্থীরা লাঠি-সোটা নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। এসময় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার কামরুল ইসলাম ও রজব আলী নামের দুই এএসআই ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতে মাথায় আঘাত পেয়ে এএসআই কামরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। আহত এএসআই কামরুলকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ও পরে ঢাকার উত্তরার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপর আহত নয়নকে স্থানীয় ক্লিনিকে প্রেরণ করা হয়। এদিকে এ ঘটনার পর রাতে কলেজের হোষ্টেল ঘেরাও করে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিন সরদার, সাদেক, শিমুল, রাকিবসহ ৮-৯জনকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীও রয়েছে। ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ জেরিনা সুলতানা বলেন, ওই সংঘর্ষের পর পুলিশ রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমাকে অবগত না করে কলেজ হোষ্টেল ঘেরাও করে অভিযান চালায়। এসময় সেখান থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীসহ ৯জনকে আটক করে নিয়ে গেছে। কলেজের হোষ্টেলে অভিযানের ব্যাপারে কেন জানানো হয়নি জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তাগণ অধ্যক্ষকে জানান, হোষ্টেলে মাদক-অস্ত্র রয়েছে এমন খবরের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয়েছে। আর মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে এ ধরণের অভিযানে অনুমতির প্রয়োজন হয় না।  গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ওয়াই এম বেলালুর রহমান এব্যপারে জানান, পরিবহণ শ্রমিক ও ভাওয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে এএসআই কামরুল মাথায় গুরুতর জখম হন। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ও পরে ঢাকার উত্তরার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে ওই ঘটনায় দুইজন আটকের কথা স্বীকার করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ