ঢাকা, সোমবার 12 November 2018, ২৮ কার্তিক ১৪২৫, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিও মাঠপর্যায়ে অকার্যকর

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে অনুষ্ঠিত দুই দফার সংলাপ ব্যর্থ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দেয়া সাত দফার কোনটিই আমলে নেয়নি ক্ষমতাসীন আওয়ামী মহাজোট। তবে বিরোধী ঐক্যফ্রন্টের সাথে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সব প্রতিশ্রুতিও অকার্যকর। দেশব্যাপী চলছে বিরোধী নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার। সমাবেশে যাতে নেতাকর্মীরা আসতে না পারে সেজন্য জনসভাস্থল ও এর আশেপাশে চলেছে অঘোষিত কারফিউ। ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে এমন ভয়াবহ নেতিবাচক আচরণ সত্ত্বেও একাদশ সংসদে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ২০ দলীয় জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বিরোধীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্দোলনের অংশ হিসেবেই তারা একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চান। তারা দেখতে চান সরকার ও নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড করে কি-না। একইসাথে তারা একটি সংকেতও দিয়ে রেখেছে। ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমরা নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছি। এখন নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনের। তারা যদি আমাদের দাবি ও নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী না করে তার জন্য উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকার ও ইসির। পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, বিরোধী জোট নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবে কিনা সেটা নির্ভর করছে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আচরণের ওপর। তারা বলছেন, এখনই যারা বিরোধী পক্ষকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে প্রচার করছে সেটি দেখতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন গতকাল বলেছেন, আন্দোলনের অংশ হিসেবেই তারা নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তিনি বলেন, ভীষণ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের অংশ হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, একটা অংশগ্রহণমূলক এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের যাবতীয় দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতির পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কড়া নজর রাখবে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণের প্রতি। আমরা বলে দিতে চাই, জনগণের দাবি মানা না হলে উদ্ভূূত পরিস্থিতির দায়-দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির তথাকথিত নির্বাচন মানুষের ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকার, স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার হরণ করেছে। নিশ্চিতভাবে আগামী নির্বাচনটি দেশের মানুষের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের নির্বাচন হবে। সেই লক্ষ্যে মানুষ তার নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য ভোটের ময়দানে থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি, দশম সংসদ নির্বাচনের পর দেশে গণতন্ত্রের যে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে, সেই সংকট দূর করে আমাদের ঘোষিত ১১ দফা লক্ষ্যের ভিত্তিতে একটা সুখী, সুন্দর, আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রামে দেশের জনগণ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পাশে থাকবে।
ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দাবি আদায়ের আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচনের অংশগ্রহণ করার জন্য ও নির্বাচনে পরিবেশ ঠিক করার জন্য আন্দোলন চলবে। যখনই প্রয়োজন হবে সব কিছু করা হবে। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট চিঠি দিয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপ করেছে। কিন্তু সংলাপের পর সরকারি দল সমঝোতার কোনও মনোভাব দেখায়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আমরা সরকারের কাছে যে সাত দফা দাবি দিয়েছি, তার প্রায় সবগুলো তারা পূরণের কোনও আশ্বাস তো দেনইনি, উপরন্তু কয়েকটিকে অসাংবিধানিক অভিহিত করেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে বলেছিলেন আমরা সভা করলে কোনও বিধিনিষেধ থাকবে না। এছাড়া গায়েবি মামলায় বিএনপি নেতাদের ধরপাকড় বন্ধ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। রাজশাহীতে বিএনপির জনসভায় নেতাকর্মীদের আসতে বাধা দেয়া হয়েছে। এছাড়া একদিনেই প্রায় ৫২ জনেরও বেশি বিএনপি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পরেই আমাদের দুটো জনসভা হয়েছে। একটি ঢাকার এবং অপরটি রাজশাহীতে দুটো জনসভারই লিখিত অনুমতি দিতে দেরি করে এবং সরকারি মদদপুষ্ট পরিবহন সংকট সৃষ্টি করে মানুষের জনসভায় অংশগ্রহণের পথ রুদ্ধ করা হয়। রাজশাহীতে জনসভা হওয়ার দুদিন আগে থেকেই ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এমনকি রাজশাহীর সাথে আশপাশের  জেলার বাস যোগাযোগ বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, এই দুই দিনের জনসভাকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শত শত নেতা-কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর একদিনে ১২০০ এর বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যখন অবিশ্বাস্যরকম বৈপরীত্য দেখা যায়, তখন আমাদের এটা ধরে নিতেই হয়, সরকার আসলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে ন্যূনতম সমঝোতা করার ক্ষেত্রে আন্তরিক ছিলো না।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট নির্বাচন নিয়ে উৎসব করে যাচ্ছে। কিন্তু তার সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানে বিরোধী জোট। তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা এতো নির্যাতন, হামলা-মামলার পরও চেষ্টা করছে দলকে চাঙ্গা রাখতে। সেজন্যই প্রতিদিনই খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে তার কার্যালয়কে সরগরম রাখতে নেতাকর্মীরা মধ্যরাত পর্যন্ত অবস্থান করছেন। তিনি আরও বলেন, দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে পরামর্শ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠক করে দলের আগামী দিনের করণীয় সম্পর্কে জানাবেন সিনিয়র নেতারা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এম এল আর সরকার বলেন, ক্ষমতাসীনদের সাথে বিরোধী জোটের বহুল আলোচিত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপিসহ আলোচনায় অংশ নেয়া কেউই সংলাপের ফল নিয়ে সন্তুষ্ট নন এবং হওয়ার কথাও নয়। তদুপরি আলোচনার যে পথ উন্মোচিত হয়েছে, সে পথ ধরেই একটি গন্তব্যে পৌঁছার বিষয়ে আশাবাদী হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একদিনে সবকিছু অর্জন করা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, দাবি আদায় হয়নি জেনেও বিরোধী জোট নির্বাচনে যাচ্ছে। তবে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করাটা ক্ষমতাসীনদের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। সংবিধান মানুষ ও রাষ্ট্রের কল্যাণার্থে মানুষের তৈরি কিছু নিয়মাবলীর সমষ্টিমাত্র। মানুষের জন্যই যখন এ সংবিধান, তখন মানুষের প্রয়োজনেই এটি সংশোধন করা অসম্ভব নয় বলেই প্রতীয়মান হয়। সংবিধান সংশোধন করেও একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন এবং সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব। দেশের জনগণও মনে করে এটি সম্ভব।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, নির্বাচনী সংকট নিরসনে পৌনে পাঁচ বছর নেতিবাচক সুরে কথা বলে হঠাৎ নির্বাচনের প্রাক্কালে এ প্রসঙ্গে সরকারের ভিন্ন সুরে কথা বলার মধ্যে যে ‘ফন্দি ফিকির’ আছে তা আগেই অনুমিত হয়েছিল। তা না হলে যে সরকারি দল প্রহসনের দশম সংসদ নির্বাচনের পর থেকে বিরোধী দলগুলোর সংলাপের দাবি কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে আসছিল, হঠাৎ সে দলেরই একাদশ সংসদ নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার প্রাক্কালে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বর্ধিত সংখ্যায় গায়েবি মামলা ও নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের মধ্যে আচমকা সংলাপে রাজি হওয়ার মধ্যে যে কোনো সদিচ্ছা নেই, তা অনুমিত হয়েছিল। তিনি বলেন, পৌনে পাঁচ বছর যে বিএনপির সঙ্গে সরকার সংলাপ করেনি, সেই বিএনপি হঠাৎ কী করে সরকারি দলের কাছে দেশপ্রেমিক দলে রূপান্তরিত হয়ে গেল? কী এমন পরিবর্তন সরকার বিএনপি ডমিনেটেড ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে দেখল যে, চিঠি দেয়ার পরপরই দ্রুত ঐক্যফ্রন্টকে সংলাপে আহ্বান জানাল? তিনি বলেন, সংসদ ভেঙে, সরকার পদত্যাগ করে দলনিরপেক্ষ সরকার এবং পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশনের অধীনে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিএনপির দাবির প্রতি সরকার আগ্রহ দেখায়নি। কাজেই সংলাপ থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রাপ্তি শূন্য। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচন যে কি রকম হবে সেটি সময়ই বলে দিবে। তবে সরকার চাইলে এখনও সে পথে যাওয়ার সুযোগ আছে। সংসদের একটি স্বল্পকালীন জরুরি অধিবেশন ডেকে দলনিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সংসদ নির্বাচনের বিধানসংবলিত বিল সংসদে পাস করার পর নির্বাচনী সিডিউল ঘোষণা করে সরকার সাংবিধানিকভাবে ঐক্যফ্রন্টের দাবি মেনে ইনক্লুসিভ নির্বাচন করতে পারে। আর নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে চাইলে সে কাজটিও সরকারের পক্ষে করা সম্ভব। কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, দীর্ঘস্থায়ী একগুঁয়েমি, গণতন্ত্রহীনতা ও নির্যাতন-নিপীড়নের ভূমিতে নতুন করে অঙ্কুরোদ্গম হতে পারে ঐক্যবদ্ধ বিরোধী আন্দোলন, জঙ্গি তৎপরতা, এমনকি রাজনৈতিক ভূমিকম্প।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ্ বলেন, ১৯৫৪ সালে মুসলিম লীগ বনাম যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি হয়েছিল। সেই নির্বাচনে মুসলিম লীগ সর্বসাকুল্যে ৯টি আসনে জয়লাভ করতে পেরেছিল। মুসলিম লীগের মার্কা ছিল হারিকেন বা লণ্ঠন, অন্যদিকে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা। সেই নির্বাচনের সময় কোনো নির্বাচন কমিশন ছিল না। নির্বাচন পরিচালনা করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ছোটবেলায় এ নির্বাচনটি দেখে নির্বাচন সম্পর্কে কিছু প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পেরেছিলাম। পাকিস্তান সৃষ্টির মাত্র ৭ বছর পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে যে দল পাকিস্তান আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল সেই মুসলিম লীগের এমন ভরাডুবি হবে ভাবাও যায়নি। তিনি বলেন, দেশের একটি অস্থির পরিস্থিতিতে বিরোধী জোট নির্বাচনে যাবার ঘোষণা দিয়েছে। এটি পজেটিভ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সরকার তাদের আস্থায় রাখতে পারেন কিনা সেটিই দেখার বিষয়। তিনি বলেন, এখন ভাট কেন্দ্র দখল করতে হয় না। সরকারি কর্মকর্তা নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করতে চান না, এমনটি দাবি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এ কথা সত্য যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন বিতর্কিত হয়ে পড়েছে। নাগরিক হিসেবে আমাদের কপাল কি এতই মন্দ যে আমাদের জীবদ্দশায় একটি মেরুদ-সম্পন্ন নির্বাচন কমিশন দেখতে পাব না?
পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, আলাপ, সংলাপ হয়, কোনো সমাধান হয় না। আলাপের পর চলে বিলাপ। বিলাপ জনগণের হতাশার কারণ হয়। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হতেই হবে। তাই নির্বাচন কমিশন ৮ নবেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট নেয়া হবে ২৩ ডিসেম্বর। দেশব্যাপী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের অনুকূল আবহ সৃষ্টি হয়েছে বলে সিইসি দাবি করলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সরকারের এখনও সমঝোতা হয়নি। তারপরও বিরোধী পক্ষ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রশ্ন হল- এ অবস্থায় নির্বাচন নিরেপক্ষ হবে তো? মানুষ নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। ভোট দিতে চায়। যদি আবারো রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতা শুরু হয় তহালে দেশ পিছিয়ে যাবে, উন্নয়ন থমকে যাবে, অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। বিশ্লেষকরা বলছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ সংকটের সমাধান না হলে বিএনপিসহ বিরোধীরা যে পথে চলার কথা বলেছে, তা কারও জন্যই সুখকর হবে না। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন না হলে, ভোট নেয়ার পরিবেশ সৃষ্টি না হলে, সর্বোপরি ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হলে সেই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে, যা জনগণের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয়। সাধারণ মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সুন্দর পরিবেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশায়। সংলাপ হয়েছে, কিন্তু এতে কী ফল পাবে দেশ ও জাতি? যদি আগামী নির্বাচন বিরোধী দলের দাবি, জনগণের আকাক্সক্ষা, সরকার প্রধানের আশ্বাস মোতাবেক সর্বোপরি, গণতন্ত্রের স্বার্থে সুষ্ঠুভাবে হয়, সেটা সবার জন্যই অত্যন্ত মঙ্গলজনক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ