ঢাকা, সোমবার 12 November 2018, ২৮ কার্তিক ১৪২৫, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মুমিনুল-মুশফিকের সেঞ্চুরিতে প্রথম দিনটি বাংলাদেশের

রফিকুল ইসলাম মিঞা : সিলেট টেস্টে হারলেও ঢাকা টেস্টে ভালোই ঘুরে দাড়িয়েছে বাংলাদেশ। মুমিনুল আর মুশফিকের সেঞ্চুরিতে প্রথম দিনটি নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা। প্রথমদিনেই ৫ উইকেটে ৩০৩ রান করে দিন পার করেছে বাংলাদেশ। মুমিনুল সেঞ্চুরিসহ ১৬১ রান করে আউট হলেও সেঞ্চুরিসহ ১১১ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন মুশফিক। মুশফিকের সাথে শূন্য রানে ব্যাটিংয়ে আছেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আজ দ্বিতীয় দিনে ইনিংসটা আরো বড় করতে নামবেন মুশফিক-রিয়াদ জুটি। এই জুটির ওপর নির্ভর করবে দ্বিতীয় দিনটা কেমন করবে টাইগাররা। গতকাল দলীয় ২৬ রানে প্রথম তিন উইকেট হারানো দলকে টেনে তুলেন মুমিনুল-মুশফিক জুটি। চতুর্থ উইকেট জুটিতে এই দুই ব্যাটসম্যান ২৬৬ রানের রেকর্ড পার্টনারশীপ গড়ে প্রথম দিনটি নিজেদের করে নেয়ার সুযোগ করে দেন। দু-জনেই করেন সেঞ্চুরি। তবে প্রথম দিনে সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল আউট হওয়ায় আজ দলকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্ব থাকবে মুশফিকের ওপর।
গতকাল টেস্টেও প্রথম দিনে আরো ভালো করার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু দিনের শুরুটা আর দিনের শেষটা ভালো হয়নি। কারণ দিনের শুরুতে মাত্র ২৬ রানে প্রথম দিন উইকেট হারানোর পর একেবারে শেষ বিকেলে বাংলাদেশ হারায় মুমিনুলের উইকেট। না হলে প্রথম দিনটা আরো ভালো হতো টাইগারদের। অবশ্য সিলেটে প্রথম টেস্টে বিশাল ব্যবধানে হারায় এই টেস্টে ঘুরে দাড়ানো ছাড়া বিকল্প ছিলনা বাংলাদেশের সামনে। তবে এই টেস্টে ঘুরে দাড়ানোর ইঙ্গিতটা ভালোই দিয়েছে টাইগাররা। গতকাল ঢাকা টেস্টে টস জিতে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন দ্বিতীয় টেস্টে নতুনভাবে শুরুর আশায়। কিন্তু প্রথম ইনিংসের শুরুটা আশানুরূপ হয়নি। কারণ দলীয় ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর দলীয় ২৬ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়েছিল বাংলাদেশ। সাবধানি শুরু করেও উইকেটে টিকে থাকার মানসিকতায় ব্যর্থ হয়েছেন দু-ওপেনার ইমরুল-লিটন। আর অভিষেকে ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খুলতেই পারেননি মোহাম্মদ মিথুন। আগে ব্যাট করতে নেমে সপ্তম ওভারে জার্ভিসের বলেই হয় বাংলাদেশের উইকেট পতন। দলীয় ১৩ রানে ওপেনার ইমরুলকে হারায় বাংলাদেশ। রানের খাতা খোলার আগে জার্ভিসের বল ব্যাটের কোনায় লেগে জমা পড়ে উইকেটকিপারের হাতে। দলীয় ১৬ রানে এই জার্ভিসই এক ওভার বিরতি দিয়ে ফেরান অপর ওপেনার লিটন দাসকে। লিটন মিড উইকেটে খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন মাভুতার হাতে। ফলে ১৬ রানে দুই ওপেনারকে হারায় বাংলাদেশ। অবশ্য দিনের তৃতীয় ওভারেই উইকেট পেতে পারতেন জার্ভিস। তার শর্টার লেন্থের বল ক্যাচ আউটের আবেদন করলে আম্পায়ার ক্যাটেলবোরো আঙুল তুলে দিয়েছিলেন। লিটন রিভিউ নিলে বাতিল হয়ে যায় সেই আবেদন। তবে ৯ রান করার পর আর টিকতে পারেননি লিটন। মোহাম্মদ মিথুনও টেস্ট অভিষেক রাঙাতে পারলেন না। একটি বাজে শট খেলে ব্যর্থতা সঙ্গী করে ফিরেছেন। তিরিপানোর বাইরের বল অযথা খেলতে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন মিথুন। আর এই অভিষেকে ৪টি বল খেলে বিদায় নিয়েছেন রানের খাতা খোলার আগেই। দলীয় ২৬ রানে প্রথম তিন উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা। তবে এই বিপদ থেকে দলকে টেনে তুলেন মুমিনুল-মুশফিক জুটি। এই জুটির ২৬৬ রানের ওপর নির্ভর করেই প্রথম দিন ৩০৩ রার করতে পারে টাইগাররা। না হলে প্রথম দিনেই অলআউট হতে পারত বাংলাদেশ। গতকাল প্রথম সেশনে ৫৬ রানে তিন উইকেট হারানো দলকে দ্বিতীয় সেশনে কোন উইকেট না দিয়েই ১৫১ রান এনে দেয় এই জুটি। এই সেশনেই টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি করেন মুমিনুল হক। আর শেষ সেশনটাও খারাপ হয়নি। দুই উইকেটে এসেছে ৯৬ রান। একেবারে শেষের দিকে দলীয় ২৯২ রানে মুমিনুলের উইকেটটা না হারালে পুরো দিনটাই থাকত টাইগারদের। তবে ছাতারার বলে আউট হওয়ার আগে ২৪৭ বলে ১৯ চারে সেঞ্চুরিসহ ১৬১ রান করেছেন মুমিনুল। এর আগে ১৫০ বলে ১২ চারে তিনি করেছেন সেঞ্চুরি । এই ইনিংসের মাধ্যমে মিরপুরের ভেন্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস খেললেন মুমিনুল । তার এমন ইনিংসে পেছনে পড়ে গেলেন বাংলাদেশের আরেক ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। এতোদিন মিরপুরের এই ভেন্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ছিলো তামিমের। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে ১৮টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১৮৩ বলে ১৫১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। মুমিনুলের বিদায়েই ভাঙ্গে চতুর্থ উইকেট জুটির নতুন রেকর্ড ২৬৬ রানের জুটি। এর আগে শ্রীলংকার বিপক্ষে লিটন-মুমিনুলের ১৮০ রানে পার্টনারশীপটা ছিল সর্বোচ্চ রানের জুটি। মুমিনুল আউট হওয়ার পর দিনটি পার করার জন্য নাউট ওয়াচম্যান হিসেবে পাঠানো হয়েছিল তাইজুল ইসলাকে। কিন্তু ৪ রান করার পর জার্ভিসের বলেই ফিরতে হয় তাকে। ফলে দলীয় ২৯৯ রানে বাংলাদেশ হারায় ৫ উইকেট। ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের রানের খাতা খোলার আগেই প্রথম দিনের খেলা শেষ। তবে মুশফিক শেষ বলে একটি বাউন্ডারি মেরে দলকে ৩০৩ রানে পৌছে দেন। আর সেঞ্চুরীসহ ১১১ রান করে ব্যাটিংয়ে থাকায় আজও তার ওপর ভরসা রাখছে বাংলাদেশ। সাথে অধিনায়ক রিয়াদের দায়িত্বপুর্ণ ব্যাটিং প্রত্যাশাটা তো থাকছেই। গতকাল জিম্বাবুয়ের পক্ষে জারভিস একাই নেন তিন উইকেট। থিরিপানো আর ছাতারা নিয়েছেন একটি করে উইকেট। সংক্ষিপ্ত স্কোর : বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস----৩০৩/৫ (মুমিনুল ১৬১, মুশফিক ১১১ অপ, জার্ভিস-৪৮/৩)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ