ঢাকা, সোমবার 12 November 2018, ২৮ কার্তিক ১৪২৫, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

তফসিল পেছানোর বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত জানাবে ইসি

স্টাফ রিপোর্টার: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল এক মাস পেছাতে নির্বাচন কমিশনে প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। অন্যদিকে নির্বাচন এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর করতে চিঠি দিয়েছে বিকল্পধারা বাংলাদেশ নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলনও নির্বাচন পেছানোর দাবি জানিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনের শিডিউল পেছাবে কি পেছাবে না, এটা ইলেকশন কমিশন ঠিক করবে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে এটা হতে পারে। তবে আদৌ নির্বাচন পেছানো হবে কি না, এ বিষয়ে আজ সোমবার জানাবে নির্বাচন কমিশন। গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এ কথা জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা।
নির্বাচনের তারিখ এক মাস পেছানো সম্ভব কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, এখন তো বলতে পারব না। যেহেতু আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আমাদের সাথে এগুলো নিয়ে কথাই হয়নি।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসার বিষয়ে জানতে চাইলেও কে এম নুরুল হুদা বলেন, আমাদের কাছে এখনো আসে নাই। আমি এখনো পাইনি। সরকারও নির্বাচন পেছানোর কথা বলেছে, এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বলেন, এ খবরটিও আমরা পাইনি।
এদিকে, গতকাল পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার কথা জানিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সেই সঙ্গে তারা নির্বাচনের তফসিল এক মাস পেছানোর দাবি জানিয়েছে। এই দাবিতে বিকেলে সিইসি কে এম নূরুল হুদার কাছে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
চিঠিতে মির্জা ফখরুল বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), ২০ দলীয় ঐক্যজোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গণতন্ত্র উদ্ধারের অংশ হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের মতামতকে উপেক্ষা করে তড়িঘড়ি করে নির্বাচন কমিশন যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, এত সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সব রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যা ইতিমধ্যে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
অতএব, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচনী শিডিউল এক মাস পিছিয়ে দিতে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই চাই, সব দল নির্বাচনে আসুক। তবে কখন কোথায় কী করা হবে, না হবে সেটি এখনই কিছু বলতে পারব না। কারণ কারো সাথেই আমার এ বিষয়ে কথা হয়নি।’
গত ৮ নবেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা। তিনি জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নবেম্বর সোমবার। মনোনয়ন বাছাইয়ের শেষ তারিখ ২২ নবেম্বর বৃহস্পতিবার। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নবেম্বর বৃহস্পতিবার। ২৩ ডিসেম্বর রোববার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সব দল চাইলে ভোট পেছাবে নির্বাচন কমিশন : সব রাজনৈতিক দল চাইলে ভোট পেছানো হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ। গতকাল রোববার বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) একটি প্রতিনিধি দল সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা জানান বলে জানিয়েছেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমরা কিছু কাজ করে থাকি। সে বিষয়টি অবহিত করতে সচিবের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমরা আমাদের কাজে কমিশনের সহযোগিতা চেয়েছি। সচিব বলেছেন, নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন পেছানো হবে কি না তা জানতে চেয়েছিলাম। তিনি বলেছেন সব দল যদি চায় তখন কমিশন সেইভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।’
তিনি বলেন, ‘সুজনের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থী নির্বাচনের লক্ষ্যে আমাদের কার্যক্রম অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের আগে-পরে সংবাদ সম্মেলন, জনগণের জন্য মুখোমুখি অনুষ্ঠান, ভোটারদের মধ্যে তথ্যচিত্র বিতরণ, সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের মাধ্যমে প্রচারণা, মানববন্ধন ও পদযাত্রা, প্রচারণায় সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারসহ নানা কাজ করে থাকি আমরা।  এসব কাজে নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন সচিব সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ