ঢাকা, শুক্রবার 14 December 2018, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিক-মুমিনুল সহ ৪ ইউকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

চালকের আসনে বসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিন দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু জার্ভিস-টিরিপানোর ভয়ঙ্কর বোলিংয়ে শুরুতেই চার উইকেট হারিয়ে ফেলে। 

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট হারিয়ে ৫২২ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে ৩০৪ রানে গুটিয়ে যায়। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৮ রানে এগিয়ে থেকে আজ বুধবার চতুর্থ দিন ব্যাটিং করছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৪ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ৩৩ রান। মোহাম্মদ মিথুন ১৫ ও মাহমুদুল্লাহ ১ রানে ক্রিজে আছেন।

ফলো অন না করিয়ে নিজেরা ব্যাট করতে নেমেছিলেন দ্রুত রান তুলে বড় লক্ষ্য দিবেন ভেবেই। কিন্তু তাই করতে গিয়ে শুরুতেই বড় বিপদে পড়েছে বাংলাদেশ।দলের বিপর্যয় আরও বাড়িয়ে বিদায় নিলেন মুশফিকুর রহিমও। প্রথম ইনিংসের নায়ক এবার বাজে শটে বিদায় নিলেন ৭ রানেই।

পানি পানের বিরতির পর সেটি ছিল প্রথম বল। অফ স্টাম্পের বাইরে খানিকটা শর্ট বল করেছিলেন ডোনাল্ড টিরিপানো। মুশফিক খেললেন পুল শট, বল মাটিতে রাখার চেষ্টাই করলেন না। স্কয়ার লেগে ক্যাচ নিলেন ব্র্যান্ডন মাভুটা।

এর আগে শুরুতেই দুই ওপেনারের পর সাজঘরে ফিরেন আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হক। ডোনাল্ড টিরিপানোর অফস্টাম্পের বেশ বাইরে করা বলে কাট করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন উইকেটরক্ষক রেগিস চাকাভার হাতে। ৫ বলে ১ রান করেছেন মুমিনুল।

আগেই দুই ওপেনিং জুটি ভেঙেছিলেন কাইল জার্ভিস। পরে তুলে নিলেন আরেক ওপেনার লিটন কুমার দাসকে। দারুণ এক বলে লিটনকে বোল্ড করেছেন তিনি। স্টাম্পে রাখা বলে রক্ষণাত্মক ঢঙেই খেলতে চেয়েছিলেন লিটন। কিন্তু সুইং করলে মিস করেন তিনি। বল আঘাত হানে তার অফস্টাম্পে। ১৪ বলে ৬ রান করেছেন এ ওপেনার।

রোববার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় ম্যাচটি শুরু হয়।

তাইজুলের ভেলকিতে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং লাইনাপে ধস নেমেছিল। কিন্তু ব্রেন্ডন টেইলর-পিটার মুরের দারূণ জুটিতে ঘুরেও দাঁড়িয়েছিল। মোস্তাফিজ-খালেদ কিংবা তাইজুল-মিরাজ যখন জুটি ভাঙ্গতে ব্যর্থ তখন বল হাতে ত্রাতা হয়ে এসেছেন আরিফুল হক। পিটার মুরকে ফিরিয়ে মিরপুরে স্বস্তি এনে দেন।  ৬ষ্ঠ উইকেটে ১৩৯ রানের জুটি ভাঙ্গে পিটার মুরের (৮৩) আউট হওয়ার মাধ্যমে। মুরের পর ফিরে যান টেইলরও। তার ব্যাট থেকে আসে ১১০ রান। ইলর-মুর ফিরে গেলে দ্রুত মাভুটা-চাকাবার উইকেট হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে।

তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে তিন উইকেট নিয়ে লাঞ্চে যান টাইগাররা। লাঞ্চ থেকে ফিরে তাইজুল বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান সিকান্দার রাজা ও ভয়ঙ্কর হতে থাকা শেন উইলিয়ামসকে। সিকান্দার রাজা বিনা রানে ফিরে গেলেও উইলিয়ামসের ব্যাট থেকে আসে ১১ রান।

তাইজুল নাইটওয়াচম্যান ডোনাল্ড টিরিপানোকে ফিরিয়ে উইকেটের সূচনা করেন। এর পর মিরাজ ফিরান ক্রিজে থিতু হওয়া ব্রিয়ান চারিকে। টিরিপানো ৪৬ বলে ৮ রান করেন। ব্রিয়ান চারির ব্যাট থেকে ১২৮ বলে ৫৩ রান। গতকাল দ্বিতীয় দিনের  শেষ মুহূর্তে মাসাকদজাকে ১৪ রানে ফিরতে বাধ্য করেন তাইজুল। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল নেন সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট। এ ছাড়া মেহেদী মিরাজ তিন ও আরিফুল হক নেন একটি উইকেট।

প্রথম ইনিংসে মুশফিক-মিরাজ অপরাজিত ছিলন। ক্যারিয়ার সেরা ২১৯ রান করে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে দুই ডাবল সেঞ্চুরির মালিক হন। ৪২১ বল খরচ করে ১৮টি চার ও ১টি ছক্কার মারে তিনি রান করেন। মিরাজ ১০২ বলে ৬৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। মুমিনুল হক খেলেন ১৬১ রানের ঝকঝকে ইনিংস। মাহমুদুল্লাহ ৩৬ রান করে ফিরে যান সাজঘরে।  মুশফিক-মুমিনুলের অসাধারণ পারফরম্যান্সে টাইগাররা প্রথম ইনিংসে বড় স্কোর গড়ে।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ