ঢাকা,বৃহস্পতিবার 15 November 2018, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কেন্দ্রীয় নেতা ড. মামুন ও চরমপন্থী শিমুল ভূঁইয়াসহ ৮ জনের নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল

খুলনা অফিস : খুলনা জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফুলতলা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠু এবং তার দেহরক্ষী নওশের গাজী হত্যা মামলার চার্জশীট আদালতে দাখিল হয়েছে। চার্জশীটে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী সদস্য ড. মামুন রহমান ও চরমপন্থি নেতা শিমুল ভূঁইয়াসহ ৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত ৭ নবেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফুলতলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলাম এ চার্জশীট দাখিল করলেও আদালত এখনো কোন আদেশ দেয়নি। ২০১৭ সালের ২৫ মে রাতে ফুলতলার নিজ অফিসে ঢুকে মিঠু ও তার দেহরক্ষীকে গুলী করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। 

চার্জশীটে অভিযুক্ত আসামিরা হলেন-ফুলতলা থানার জামিরা গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী সদস্য ড. মামুন রহমান (৬০), দামোদর গ্রামের মৃত নাসির উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে চরমপন্থি নেতা শিমুল ভূঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে ফজল মোহাম্মাদ (৪৮), শিমুল ভূঁইয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ওরফে মুক্তা (৪৪), নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার চর কালনা গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মনিরুল ইসলাম ওরফে পিটপিটে সুমন (৩৫), দামোদর কলোনী পাড়ার মো. ওমর আলী মোড়লের ছেলে মো. তাইজুল ইসলাম রনি (২৫), দামোদর ভূঁইয়া পাড়ার মৃত জিন্নাহ ভূঁইয়ার ছেলে দামোদর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শিপলু ভূঁইয়ার ভাইপো মুশফিকুর রহমান রিফাত ভূঁইয়া (২৫), গাড়াখোলা গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের ছেলে নিহত মিঠু’র কথিত দেহরক্ষী শিমুল হাওলাদার (২৫) ও দামোদর ভূঁইয়া বাড়ির আব্দু হান্নান ভূঁইয়ার ছেলে উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব হাসনাত রিজভী ওরফে মার্শাল ভূঁইয়া (৩২)।

মিঠু হত্যাকান্ডের পর জড়িত সন্দেহে পুলিশ মো. তাইজুল ইসলাম রনি, মুশফিকুর রহমান রিফাত ভূঁইয়া, শিমুল হাওলাদার ও হাসনাত রিজভী ওরফে মার্শাল ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে। ২৮মে খুলনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় মিঠু’র কথিত দেহরক্ষী শিমূল হাওলাদার ও মুশফিকুর রহমান রিফাত ভূঁইয়া। ৩০ মে উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব হাসনাত রিজভী মার্শালকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি মিঠু হত্যাকান্ডের অর্থ জোগানদাতা, কিলিং মিশনের পরিচালকের নাম প্রকাশ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। খুলনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার দালাল এ জবানবন্দী রেকর্ড করেন। 

তাদের জবানবন্দীতে বলা হয়, সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীতার দ্বন্দ্বে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী সদস্য ড. মামুন রহমান (প্রবাসী)’র ৩০ লাখ টাকা অর্থায়নে কিলিং মিশনের প্রধান চরমপন্থি নেতা শিমুল ভূঁইয়া হত্যাকান্ড পরিচালনা করেছে। চুক্তি মোতাবেক হত্যাকান্ডের আগেই কিলিং মিশনের প্রধান শিমুলের কাছে ২০ লাখ টাকা পৌঁছে দেন ফুলতলা উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব হাসনাত রিজভী মার্শাল।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ মে রাত সোয়া ৯টার দিকে ডিবি’র পোশাক পরিহিত ৪ জন সন্ত্রাসী ফুলতলা দামোদর এলাকার খুলনা-যশোর রোডের মিঠুর অফিসে ঢুকে দেহরক্ষী নওশের গাজী বুকে দু’রাউন্ড গুলী চালায়। এরপর ভিতরের কক্ষে গিয়ে মিঠুর মাথায় শর্টগান ঠেকিয়ে গুলী করে তারা মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। এ সময় তার শ্বশুর সৈয়দ সেলিমসহ আরো একজন গুলীবিদ্ধ হয়। এ ঘটনায় ২৭ মে সরদার আলাউদ্দিন মিঠুর ছোট ভাই সরদার রাজ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে ফুলতলা থানায় মামলা দায়ের করেন (নং-২৯)। এর আগে ১৯৯৮ সালে নিহত মিঠুর পিতা দামোদর ইউপি চেয়ারম্যান সরদার আবুল কাশেম ও ২০১০ সালে তার বড় ভাই একই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার আবু সাঈদ বাদল দুর্বৃত্তদের গুলীতে নিহত হন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ