ঢাকা,বৃহস্পতিবার 15 November 2018, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অজানা কথা

মোহাম্মদ সুমন বাকী : লাল-সবুজ পতাকায় ঘেরা বাংলাদেশ। এখানে প্রকৃতির বাহার খুবই চমৎকার। পাহাড়-পর্বত, সমদ্র-নদী-পুকুর, গাছ-পালা, ফসলের ছায়াতলে এই দেশ। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের মানচিত্র এর প্রতিচ্ছবি। ক্রীড়াঙ্গন শতভাগ সুফল পাবে কি? বার বার প্রশ্ন দেয় উঁকি। উত্তর খোঁজার পথে পা রেখে এগিয়ে চলেছে এ অঙ্গন। সুফলের স্বপ্ন পূরণে স্পন্সর অবশ্যই প্রয়োজন। তা দিবে কে? প্রশ্ন জাগে সেটা নিয়ে? এই ক্ষেত্রে সমস্যার শেষ নেই। যা ফুটে উঠে। বাস্তব ধারার সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশাতে দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে। সেটা স্পোর্টসকে ঘিরে। তা নতুন করে না বললেও হয়। ৬৪টি জেলা নিয়ে বাংলাদেশ। এর হৃদয়ে খেলা যেন মাতাল করা প্র্যাকটিকেল লড়াইয়ের বিনোদন। যা জানা আছে সবার। ক্রীড়া ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। যেখানে সমস্যা বার বার ভেসে উঠে। সেটা স্থায়ী ভাবে বাসা বেঁধেছে। তা হতে কি পরিত্রাণ পাওয়া যাবে? খেলাধুলার প্রতি গাঢ় ভালোবাসার জোয়ারে এমন প্রশ্ন অন্তরে উঁকি দিয়েছে। ফুটবল দেশে জনপ্রিয়। এর চাহিদা মাফিক শতভাগ হারে কোটি কোটি ক্রীড়া পাগল প্রেমীর হৃদয়ে স্থান নিয়ে খুশির উৎসবে মেতে রেখেছে। সেখানে সংখ্যাটা অনেক অনেক বেশি। যা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। অবাক কান্ড! এরপরও সমস্যার শেষ নেই। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ টানা যায় নোয়াখালী অঞ্চলের লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জকে। এখানে কোনো স্থায়ী মাঠ নেই খেলার জন্য। স্টেডিয়াম নির্মাণতো দূরের কথা। তা অবশ্যই উল্লেখ করা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন হয়। যা দেখা যায় মাঝে মাঝে। সে কথা বলাবাহুল্য। তা সকলের বোধগম্য। উপজেলায় একমাত্র সম্বল রামগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠ। যেখানে বিভিন্ন ক্রীড়ার টুর্নামেন্ট আয়োজিত হয়। সেটা বিনোদনের খোড়াক যোগায় ঠিক। তবে ধারাবাহিকতার স্পর্শে নয়। যা আয়োজন করে বছর গ্যাপ দিয়ে রামগঞ্জ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা। নুন আনতে পানতা ফুরায়! এমন ধারায় তা। অপ্রিয় হলেও, সেটা সত্য কথা। কলেজ মাঠেই শুধু ফুটবল নয়, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বাকী খেলাগুলো হারিয়ে গেছে আনমোনা মনে। কেউ কি খোঁজ নিয়েছে? বাস্তব সমস্যা সমাধানের পথে প্রশ্ন জাগে! এর উত্তর কি বিশ্বের অন্যতম ক্রীড়া সংগঠক, বাফুফের আস্থাভাজন কর্মকর্তা এবং লক্ষীপুর জেলার সন্তান হারুন অর রশিদ দিতে পারবেন? এখানে ক্রীড়াঙ্গনের অবস্থা ভালো নয়! জেলা সদর!! এর বিপরীত চিত্রে রামগঞ্জ উপজেলার অবস্থা খুব খারাপ হবে সেটাই স্বাভাবিক!!! এ প্রসঙ্গে ভাদুর ক্রীড়া চক্রের কর্মকর্তা দারিছ মাহমুদ দিপু বলেছেন, রামগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনের অবহেলায় পড়ে আছে। স্টেডিয়ামতো পরের বিষয়, উন্নত মানের মাঠ নেই। এটা মূল সমস্যা। তা খেলাধুলা বিকাশের পথে গোপাল ভাড়ের রাজ্যের ন্যায় হাস্যকর। বলা যায়, আজব রাজার আজব দেশ। রামগঞ্জ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা হাসির পাত্রে অবস্থান নেবার ধারায় খুবই বেশ। যেখানে সমস্যার নেই শেষ। আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ করার মাধ্যমে এর সমাধান কি হবে? কক্সবাজার জেলা সদর। হোটেল আল হেরা ছাদ প্রাঙ্গন। ক্রীড়ার অনুশীলনের জন্য প্রস্তুত! তা কি ভাবা যায়? না, যায় না। অথচ বাস্তবতার জগতে যা ফুটে উঠে। সেটা সত্যকে পুঁজি করে। ঘটেছেও তাই। সাবেক উশু তারকা, কোচ ও আর্ন্তজাতিক জাজ দিল মোহাম্মদ (ডি এম) রুস্তম সেখানে এসে উপস্থিত হন। কয়েকজন প্লেয়ারকে অনুশীলন করাবেন তিনি। যাদের মধ্যে সরোয়ার, উমং, জান্নাতুল ফেরদৌস যারা অন্যতম। উশু প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তারা। হোটেল আল হেরার এই ছাদ প্রাঙ্গনের উম্মুক্ত আকাশের ছায়াতলে। কর্মকর্তা জসিম বসে পর্যবেক্ষণ করছেন।
অনুশীলন চলেছে উশু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে। এ সংগঠনের সচিব ও সাংবাদিক সারোয়ার সাইদ এমন সমস্যার বিষয়ে বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে একাধিক ক্রীড়ার চর্চা হয়। সে কথা বলাবাহুল্য। আর শেখ কামাল স্টেডিয়াম ক্রিকেটের স্থায়ী দখলে। তা কখনো পরিবর্তন হবে না। বর্তমানে সিদ্ধান্তটি এই পর্যায়ে রয়েছে। যা সবার জানা আছে। এ অবস্থায় উশুর উন্নয়নের জন্য মাঠ প্রয়োজন। তার সঙ্গে একই সুরে তাল মিলিয়েছেন দিল মোহাম্মদ রুস্তম। তিনি এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (মাঠ) সমাধানের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেন। তার মতে, কবিতা স্মরণীর হুদা মঞ্চের দক্ষিণ পাশে বাংলাদেশ সরকারের খাস জায়গা আছে। সেখানে উশু ফাউন্ডেশন একাডেমি স্থাপন করলে ভালো হয়। এই দিকে আধুনিক পদ্ধতিতে জিমন্যাসিয়াম গড়ার স্বপ্ন দেখছেন কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক অনুপ বড়ুয়া অপু। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও মন্ত্রণালয়ে পেশ করা বাজেট পাশ করার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ-সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (চট্টগ্রাম) এর ইলেকট্রিকেল বিভাগের ছাত্র প্রকাশ রবি দাস। সে একজন ক্রীড়াপ্রেমী কাম  খেলোয়াড়। তার কোনো লক্ষ্য নেই। তা কেন? মজার উত্তরে, তার ভাষ্য, আমাদের কলেজে ক্রীড়া চর্চা হয় শুধুমাত্র বিনোদন পাবার জন্য। টেলেন্ট প্লেয়ার রয়েছে অসংখ্য। তা ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন ডিসিপ্লিনে। যা চার দেয়ালে বন্দী। সেটা অর্থনৈতিক সাপোর্ট না পাবার জন্য। তা আসল সমস্যা বলে মনে করি আমি। ক্রীড়ার প্রাণ দেশের মিডিয়ার সাহায্য এ ব্যাপারে পাওয়া যাবে কি? শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা নদীর ছোঁয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলার অবস্থান। এমন ধারায় সব খেলার উত্তেজনা কোনো অংশে কম নয় এখানে। খেলা পাগল ভক্তরা মাতাল হয়ে সবুজ ঘাসের ময়দানে উপস্থিত হন। যা শতাব্দী হতে শতাব্দী ধরে বজায় রয়েছে এখন পর্যন্ত। নদীমাতৃক জেলা নারায়ণগঞ্জ। মোশারফ, সেতেরার মতো তারকা সাঁতারু অনেক আছে। এর বিপরীতে প্রশিক্ষণের জন্য সুইমিংপুল নেই! অথচ চারদিকে নদী, পুকুর রয়েছে। এর উপর সম্বল করে প্লেয়ার জন্ম নিচ্ছে। জেলার ফতুল্লা থানার কাশিপুর এলাকায় সরকারের জমি অভাব নেই। যেখানে সুইমিংপুল বাস্তবায়নের স্বপ্ন দেখছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্রীড়া সংগঠক কুতুবউদ্দিন আকসির। তা কয়েক যুগ ধরে। এই বিষয়ে তিনি স্থানীয় সংসদ শামীম ওসমানের সাহায্য কামনা করেছেন। ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা রবি। ক্রীড়ার উন্নয়নে সেখানে আধুনিক স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল, জিমন্যাসিয়াম কিছু নেই। তাই নিভু নিভু প্রদ্বীপ হয়ে আছে বিভিন্ন ক্রীড়া। অন্য জেলায়ও করুণ অবস্থা এমন ক্ষেত্রে। তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে কি? এই হলো দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অজানা কথা। কেমন লাগছে ক্রীড়া ভক্তদের?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ