ঢাকা, রোববার 16 December 2018, ২ পৌষ ১৪২৫, ৮ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভারতের নির্বাচনেও ইভিএম-এ আপত্তি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গত রাজ্যসভা নির্বাচনে ইভিএম চেকিং-এর সময় দেখা গিয়েছিল যে, যেখানেই ভোট দিক, ভোট গিয়ে পড়ছে সেই পদ্মফুলেই। এর ফলে ধরপাকড়ও শুরু হয়।তাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম (ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহারে বিজেপির বিরুদ্ধে কারচুপির আশংকা করছেন অনেক দল।তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি ইভিএমের মাধ্যমে ভোট কারচুপি করেছে। এবার পশ্চিমবঙ্গের লোকসভাতেও সেই ‘অপচেষ্টা’ করতে পারে বলে সতর্কতা উচ্চারণ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ শুক্রবার দলের বর্ধিত সাধারণ পরিষদের বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা। নেতাজি ইনডোরের ওই বৈঠক থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওরা ৪০ শতাংশ ইভিএম-এ কারচুপি করতে পারে। তাই আমাদের ভাল করে ক্রস চেক করে নিতে হবে।’ প্রসঙ্গত, ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের তরফেই ইভিএম পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে যান সমস্ত প্রার্থীর প্রতিনিধিরা। মক পোল করে, ফলাফল দেখে, সমস্ত এজেন্টরা ফর্মে সই করলে, তবেই সেই ইভিএমটি ভোট গ্রহণের জন্য ছাড়পত্র পায়। এবার সেই কাজ অত্যন্ত বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে দলের কর্মীদের সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এ দিন মমতা বলেন, “দরকার হলে মক পোলিং-এ তিন জনের জায়গায় ছ’জনকে পাঠাবেন। ব্লক সভাপতিরা দায়িত্ব নিয়ে এই কাজটা করবেন। তাতে যদি আমাদের ছেলেমেয়েদের একটু রুটি, ডিমের তরকারি খাওয়াতে হয়, সেটা নিজেদের মধ্যে পয়সা তুলে করবেন। কিন্তু কোনওভাবেই এই কাজে ফাঁক রাখা যাবে না। সেই সঙ্গে ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনিতেও জোর দিতে বলেন দিদিমণি। কার নাম উঠছে, কার নাম বাদ যাচ্ছে, এ বিষয়ে যাতে বুথ স্তরে দলের কাছে রিপোর্ট থাকে সেই নির্দেশ দেন তিনি।

এমনিতেই কংগ্রেস কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি করেছিল ব্যালটে ভোট করার। কিন্তু কমিশন তাতে রাজি নয়। অনেকের মতে, ইভিএম কারচুপি ইস্যুতে আন্দোলনের রূপ দেওয়ার প্রাথমিক কাজ সেরে রাখলেন মমতা। সেই সঙ্গে কৌশলে চাপে রেখে দিলেন নির্বাচন কমিশনকেও।

বিজেপি অবশ্য পাল্টা তোপ দেগেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “বিজেপির কারচুপি করার দরকার হয় না। বিজেপি মানুষের আশীর্বাদে ক্ষমতায় এসেছে। মানুষের আশীর্বাদে ক্ষমতায় থাকবে। তৃণমূল পঞ্চায়েতে বোমা-বন্দুক দিয়ে ভোট লুঠ করেছিল। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে গিয়েছেন, যে লোকসভা ভোট তৃণমূলের পেটোয়া পুলিশ দিয়ে হবে না। তাই এখন থেকেই ইভিএম কারচুপির কাঁদুনি গাইতে শুরু করেছেন।”

সূত্র: দি ওয়াল

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ