ঢাকা, শনিবার 17 November 2018, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য

শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। বিশেষত একাডেমিক শিক্ষার একটা বয়স আছে। সাধারণত ৪ থেকে ৫ বছর বয়সের মধ্যে শিশুদের একাডেমিক শিক্ষা শুরু হয়। এ শিক্ষার ধারাবাহিতা ৩০ অথবা তার ২/১ বছর আগেই শেষ হলে ভালো হয়। এরপর সরকারি চাকুরির পেছনে দৌড়ঝাঁপ শুরু করতে হয়। কিছুদিন থেকে অবশ্য চাকুরি শুরুর বয়সসীমা ৩৫ বছর করবার আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাজীবন শেষ হতে আজকাল যেসময় লাগে তাতে এ দাবি অনেকটাই যৌক্তিক। কিন্তু কর্তৃপক্ষের তেমন সাড়াশব্দ নেই বললেই চলে। মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যতীত আমাদের দেশে শিক্ষা তেমন নির্ভরযোগ্য নয়। একাডেমিক শিক্ষা অর্জন করলেই চাকুরি পাবার আশা নেই। তাই শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দেশে বেড়েই চলেছে প্রতিবছর।
এমনিতেই মানসম্মত শিক্ষার অভাব তীব্র। তারপর প্রয়োজনীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নেই। তাই একশ্রেণির শিক্ষাবণিক যেখানেসেখানে কিন্ডারগার্টেন, ইংলিশ মিডিয়ম, নার্সারি স্কুল, বাহারি নামের কলেজ প্রভৃতি খুলে বসেছেন। এগুলোর বেশিরভাগেই মানসম্মত শিক্ষা দেবার জন্য দক্ষ শিক্ষক এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ নেই। এমনকি শিক্ষার পরিবেশ ও ক্লাসরুমও নেই। অথচ ভর্তি ও টিউশন ফি'র জন্য প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয় অভিভাবকদের কাছ থেকে। ঢাকার শুধু ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও থানা এলাকাতেই একটু পরপর বিভিন্ন আবাসিক ভবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অগণিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এগুলোতে না আছেন উপযুক্ত শিক্ষক, না রয়েছে শিক্ষাউপকরণ। খেলার মাঠ, লাইব্রেরি, এমনকি খোলামেলা ক্লাসরুমও নেই। কোনওরকমে চিপা গলিপথে ঢুকতে হয় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এগুলো থেকে যেমন উপযুক্ত শিক্ষা পায় না কোমলমতি শিক্ষার্থীরা, তেমনই তাদের মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হয়। শিশুদের প্রকৃত শিক্ষা দেবার জন্য এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে তা নিশ্চিত করে বলবার উপায় নেই আদৌ। বরং শিক্ষার নামে বাণিজ্যিক মানসিকতাই কাজ করেছে এসব প্রতিষ্ঠান স্থাপনে। উপযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না পেয়ে অসহায় অভিভাবকরা এগুলোতেই ভর্তি করাতে বাধ্য হন তাদের প্রিয় সন্তানদের।
বাণিজ্যিক মানসে প্রতিষ্ঠিত এসব স্কুল-কলেজে ভর্তির সময় যেমন গলাকাটা অর্থ আদায় করা হয়, তেমনই টিউশন ফিও নেয়া হয় মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার করে টাকা। আবার পিএসসি, জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময়ও নেয়া হয় ৫ থেকে ১৫ হাজার করে টাকা। অথচ বোর্ড ফিস খুব সামান্যই বলা চলে। কোথায় যায় এতো টাকা? কেন নেয়া হয় অভিভাবকের গলাকাটা এই অর্থ? অন্যান্যবারের মতো এবারও এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের জন্য অতিরিক্ত অর্থ নেবার অভিযোগ উঠেছে ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। কোনও কোনও স্কুলে দুদকের টিম অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে। প্রকৃত অর্থে শিক্ষার কোনও পর্যায়েই বাণিজ্যিক প্রবণতা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ