ঢাকা, রোববার 18 November 2018, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ঐক্যফ্রন্ট কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন বর্জন করবে না -ড. কামাল

‘খালেদা জিয়াকে জেলখানায় রেখে নির্বাচন হতে পারে না, সরকার দিন-রাত সংবিধান লঙ্ঘন করছে, দেশকে রক্ষা করতে হলে সংঘবদ্ধ হতে হবে, আমরা হাজার হাজার মানুষ ভোট কেন্দ্রে থাকবো,  আলোচনা ছাড়া ইভিএম ব্যাবহার করতে দেয়া হবে না।’

 

 

# নির্বাচনকে আন্দোলন হিসেবে নিয়ে জয়ী হতে হবে ----মির্জা ফখরুল

#  সরকার অনেক চেষ্টা করেছে যাতে আমরা নির্বাচনে না যাই ---মওদুদ

 

স্টাফ রিপোর্টার: শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকার ঘোষণা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। গতকাল শনিবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনে ‘জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট’ আয়োজিত আইনজীবী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যো ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, যত বাধাই আসুক না কেন, আমরা নির্বাচন বর্জন করবো না। আগের নির্বাচন নিয়ে সরকার ১৬ কোটি মানুষের সঙ্গে ভাওতাবাজি করেছে। এ ভাওতাবাজির জন্য তাদের গোল্ড মেডেল দেয়া উচিৎ। তিনি বলেন, এই সরকার কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেয়। অথচ এরা দিনরাত সংবিধান লঙ্ঘন করছে। নির্বাচনে ইভিএম ব্যাবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইভিএম ব্যাবহার করতে চাইলে সকলের সঙ্গে অবশ্যই আলোচনা করতে হবে। তা ছাড়া এটা ব্যাবহার করতে দেয়া হবে না। একইসঙ্গে তিনি বলেন, একটি সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী থেকে নির্বাচন করবেন আর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালদা জিয়া জেলে থাকবেন, সেটা হতে পারেনা।  

জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদিনের সভাপতিত্বে এবং আইনজীবী ফ্রন্টের সদস্য সচিব ও সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও বিএনপির আইন সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়ার পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান বক্ত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন ও নিতাই রায় চৌধুরী, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন, সমিতির সম্পাদক ও আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইনজীবী মজিবুর রহমান সারোয়ার, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার ও আইনজীবী বোরহান উদ্দিন, সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আইনজীবী মাওলানা আবদুর রকিব, পিপলস লীগের সভাপতি আইনজীবী গরীবে নেওয়াজ, গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়া মুক্তি আইনজীবী আন্দোলনের সভাপতি ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সহ-সভাপতি মনির হোসেন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয় পার্টির নেতা শফিউদ্দিন ভূঁইয়া, বিকল্পধারার মহাসচিব আইনজীবী শাহ আহমেদ বাদল, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা খান, ইসলামিক ল’ ইয়াস কাউন্সিলের এস এম কামালউদ্দিন, জেএসডির কে এম জাবির, সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি ফাহিমা নাসরিন মুন্নী ও এবিএম ওয়ালিউর রহমান খান ও ড. রফিকুল ইসলাম মেহেদী, জামালপুরের ওয়ারেস আলী, কুমিল্লার কাইমুল হক রিংকু প্রমুখ। এছাড়া দেশের ৫৪টি বারের আইনজীবী নেতা ও প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। 

২০১৪ সালের নির্বাচনের পরবর্তী শাসনের চিত্র তুলে ধরে ড. কামাল হোসেন বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন হয়েছিল। হাইকোর্ট আমাকে এ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দিয়েছিল। তারা নির্বাচন বিষয়ে আমার মতামত জানতে চাইলে বলেছিলাম, বলতে গেলে দুই মিনিটেই বলা যায় কোনো নির্বাচনই ছিলনা। সে সময় সরকার বলেছিল, সাংবিধানিক প্রয়োজন মেটাতে নির্বাচন করেছে। দ্রুত আলোচনা করে আরেকটি নির্বাচন কীভাবে করা যায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমি ভেবেছি সরকার যেহেতু বলেছেন নির্বাচন হবে। কিন্তু এ দ্রুত মানে কি ৫ বছর মেয়াদকে বোঝায়? সরকার এতোটাই হালকা হয়ে গেছে যে দ্রুত মানেও তারা জানে না।  তিনি বলেন, আমি আন্দাজে বলছি না। কোর্টের রেকর্ড আছে। কোর্টও বলেছেন নির্বাচন দিবে যেহেতু বলেছেন তাহলে এটাই হোক। কিন্তু দ্রুত নির্বাচন মানে কি পাঁচ বছর? আমি এটা জানতে চাই।

ড. কামাল হোসেন বলেন, আমি মোবারকবাদ জানাই যে সরকার ১৬ কোটি মানুষের সঙ্গে ভাওতাবাজি করেছে। তার পাঁচ বছর যেভাবে শাসন করেছে আমি এটাকে ভাওতাবাজি বলবো। ভাওতাবাজির জন্য তাদের গোল্ড মেডেল দেওয়া উচিৎ। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে কোর্টে দাঁড়িয়ে আপনারা কী বলেছিলেন কথাগুলো কি মনে নাই। দ্রুত নির্বাচনের কথা বলে পাঁচ বছর চলে গেল। এ পাঁচ বছরে আমরা কোনো গণতন্ত্র দেখতে পাইনি। জনগণের শাসন থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে, গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, সংসদীয় শাসন থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যেনতেনভাবে শাসন করেছে এটা কি আমরা মেনে নিতে পারি? মেনে নিলে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি অবমাননা করা হবে ।

সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধান অমান্যের অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার সংবিধান অমান্য করেছে। আমি মাঝে মাঝে ভাবি আমি কীভাবে সংবিধান অমান্য করার বিষয়টি সহ্য করেছি। সরকার সংবিধানের কথা বললে আমার হাসি পায়। এই সরকারের ক্ষমতায় থাকাই অসাংবিধানিক। দিনে-রাতে ও সন্ধ্যায় নিজেরা সংবিধান লঙ্ঘন করছে। নামকাওয়াস্তে নির্বাচন করে তোমরা কাকে সংবিধান দেখাচ্ছ। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যে ১৫৪ জন সংসদ সদস্য (এমপি) হয়েছে তাদের কে নির্বাচিত করেছে? কেউ ভোট দেয়নি। তথাকথিত এমপিরা দলের মনোনীত হয়ে এমপি হয়ে গেছেন। তাদের কোনোভাবে বলা যাবে না এমপি। মানুষের ন্যনতম লজ্জাবোধ থাকা উচিত। লজ্জা না থাকলে মানুষ পরিচয় দেয় কীভাবে? নির্বাচিত না হয়ে এমপি নামের ব্যাবহার করাও ভাওতাবাজি। ১৫৪ জন এমপির নতুন সংজ্ঞা দিয়ে তিনি বলেন, তারা এমপি নয়, তারা জিপি। জিপি মানে ‘ঘোষিত প্রতিনিধি’। এদের মাননীয় বলাও অসম্ভব মনে করি। এদের ‘ডিসঅনারেবল’ বলতে হবে। সরকারের বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন জারির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারি প্রেসে প্রজ্ঞাপন জারির অর্থ ফেরত দিতে হবে। 

ড. কামাল বলেন, আমরা একবার নির্বাচন বয়কট করে ভুগতে হয়েছে। ওরা যত ১০ নম্বরিই করুক, হাজারে হাজারে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। প্রতি ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণকে বোঝাতে হবে। সত্তরের নির্বাচনে এ কাজটি আমরা করেছি। ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে ৬ দফার দাবি বুঝিয়েছি। এবারও যেতে হবে। আমাদের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। 

দেশকে রক্ষা করতে হলে সংঘবদ্ধ হতে হবে। যতই গু-াপা-া আসুক সংঘবদ্ধ হলে তারা দুর্বল হয়ে যাবে। যারা তরুণ আছেন তারা সংঘবদ্ধ হোন। ২ কোটি তরুণ ভোটার সংঘবদ্ধ হলে জালিয়াতি করে টিকতে পারবে না। সরকারের ঘাটতি তুলে ধরে তিনি বলেন, এ সরকার জনগণের মতামতের তোয়াক্কা করে না। চার-পাঁচজন একটি কক্ষে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। সরকার যা বলে তাই চূড়ান্ত। কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। তার সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। তাকে কারাগারে রাখা ন্যায়সঙ্গত নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীকে কারাগারে রেখে নির্বাচন করবেন এটা গ্রহণযোগ্য নয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর উদ্বেগজনক আঘাত এসেছে। জেলা জজ আদালতে কি ধরনের হস্তক্ষেপ হচ্ছে কীভাবে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে যার কারণে বিচারকদের দায়িত্ব পালন অসম্ভব হয়ে ওঠছে। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তার সঙ্গে আরো সাতজন বিচারক ছিলেন। কিন্তু সাত বিচারকের বিষয়ে কিছু না বলে বিচারপতি এস কে সিনহাকে আক্রমণ করা হয়েছে। একজনমন্ত্রী বলেছেন ‘তোকে কে নিয়োগ দিয়েছে?’ যে বলেছে তার এ কথায় এখনো আদালত অবমানননার মামলা হতে পারে। আমরা দেখাবো কেউ পার পেতে পারে না। আজ হোক কাল হোক বিচার হবে। 

সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিতে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বানে তিনি বলেন, যত রকমের দশনম্বরি তারা করে, আমরা ভোট দেব। আপনারা তৈরি হন। আমরা হাজারে হাজারে গিয়ে ভোট দেব। আপনারা ঘরে ঘরে যাবেন। ভোট চাইবেন। এর জন্য দুই কোটি তরুণ ভোটারদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি ‘খুবই ন্যায়সঙ্গত’ মন্তব্যা করে তিনি বলেন, দেশের একটি বিরোধী দলের প্রধান ছিলেন তিনি। যেহেতু একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এতদিন পরে হতে যাচ্ছে, তাতে একটা দলের নেত্রী সরকারের প্রধান থাকবেন, আর আরেক দলের নেত্রীকে সেই সেন্ট্রাল জেলে রেখে অপমান করা হবে-এটা একদমই মেনে নেওয়া যায় না। উনাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করা দরকার, যাতে উনি তার নেতাদের নিয়ে দেশের মানুষের কাছে গিয়ে নির্বাচনে ভোট চাইতে পারেন।

 ভোটগ্রহণে ইভিএম ব্যাবহারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সকলের মতামত উপেক্ষা করে কোটি কোটি টাকা ব্যায় করে কেন ইভিএম ব্যাবহার করা হবে? এই সরকারের বড় ঘাটতি হল- এরা পাচঁজন যা মনে করে, তাই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। জাতীয় নীতির তোয়াক্কা না করে তারা এসব করছে।

বাহাত্তরের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান কামাল বলেন, সংবিধানের মৌলিক কথা হচ্ছে, জনগণ ক্ষমতার মালিক। কিন্তু জনগণ যদি তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে তাদের ক্ষমতা না প্রয়োগ করাতে পারে তাহলে স্বাধীনতার উপরে আঘাত দেওয়া হয়। দেশ স্বাধীন থাকে না। এই দেশটাকে পরাধীন দেশ বানাতে দিতে পারি না। লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। এই স্বাধীনতার অর্থ হলো জনগণ এই ক্ষমতার মালিক। কিন্তু এই পাঁচ বছরে মূলত এই দেশকে যেভাবে শাসন করা হয়েছে, তা জনগণের সাথে ভাওতাবাজি ছাড়া কিছু না। সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের কঠোর সমালোচনা করে গণফোরাম সভাপতি বলেন, মন্ত্রী যে বলা হচ্ছে, এরা কারা? উপদেষ্টা, এরা কারা? তারপর যাদেরকে মেম্বার বলা হচ্ছে তারা কারা? আল হামদুলিল্লাহ, অবৈধ ১৫৪ জন মনোনীত। তারা বলে এমপি। এই এমপি মানে মনোনীত প্রার্থী। এমপি যে মেম্বার অব পার্লামেন্ট- এটা কোনোভাবেই বলা যাবে না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে ঐক্যফ্রন্ট। সময় কম, জাতিকে বাঁচাতে হলে এখনই ভোটযুদ্ধে নেমে পড়তে হবে। নির্বাচনকে আন্দোলন হিসেবে নিয়ে জয়ী হতে হবে। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা তার রায়ে বলে গেছেন, এ সরকার একটা দানব সরকার। এ দানব সরকারকে পরাজিত করতে হবে। তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগের কোনো প্রশ্নের জবাব দিই না। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, সকল সাম্প্রদায়িক শক্তি ধানের শীষে এক হয়েছে। এটার জবাব না দিয়ে পারছিনা। সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন কি সাম্প্রদায়িক শক্তি? মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আসম আবদুর রব কি সাম্প্রদায়িক? মাহমুদুর রহমান মান্না কি সাম্প্রদায়িক? কর্ণেল অলি আহমদ কি সাম্প্রদায়িক? মেজর জেনারেল ইবরাহিম কি সাম্প্রদায়িক? বরং উনারা দেশের মানুষের কাছে সর্বজন শ্রদ্ধেয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এমন এক রাষ্ট্রে বসবাস করছি, যেখানে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করায় আইনজীবীদের কারাগারে যেতে হয়। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন কারাগারে। আইনজীবী নিপুণ রায়কে কারাগারে থাকতে হচ্ছে। বিচার বিবাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আজকে বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়। বিচারহীনতার শাসন চলছে। আইনের শাসন নেই। ওপর থেকে যা হুকুম হয় সেটা পালিত হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব হচ্ছে নিন্ম আদালতের নিয়ন্ত্রক। উচ্চ আদালত থেকে জামিন দেওয়া হলেও নিন্ম আদালতে সেটা বাতিল করা হয়। শুনানির সময় দেওয়া হয় দুই তিন মাস পর।

আমরা যখন আক্রান্ত হই তখন উচ্চ আদালতে আসি। দুভাগ্য সেই আশ্রয়টুকুও নেই। সরকারের চাপের মুখে নতি স্বীকার করে গণতন্ত্রের আপোষহীন নেত্রী খালেদা জিয়াকে সাজা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। কারণ এরা সুষ্ঠুভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতেও সক্ষম নয়। আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছিলাম সংবিধান আপনাদের ক্ষমতা দিয়েছে সোজা হয়ে দাঁড়ান, মেরুদ- শক্ত করে দায়িত্ব পালন করুন।  তিনি বলেন, ইভিএম কোনো রাজনৈতিক দল চায়নি। সরকারের ইচ্ছাতে ইভিএমে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছ্।ে এ ইভিএম নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। কারণ এতে চুরির সুযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্র থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু, এবার স্থায়ী সেন্টারে ফলাফল নিয়ে গিয়ে একসঙ্গে সেন্ট্রাল থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এটা কেউ মেনে নেবে না। জনগণ মেনে নেবে না।

খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। আজকে গণতন্ত্রের লড়াইয়ে তাকে কারাগারে যেতে হয়েছে। তিনি কারাগারে যাওয়ার আগেও গণতন্ত্রের জন্য শান্তিপূর্ণ লড়াই করতে বলেছেন। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলেছেন। সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে জয়ী হওয়ার। 

ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বলেন, আইনজীবীরা দেশের ক্রান্তিকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ঠিক তেমনি এই ক্রান্তিকালে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে তারা এগিয়ে এসেছেন। আপনাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে অন্যায়ভাবে মিথ্যা রায় দেয়া হবে, আগে থেকেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। কারণ, সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যোর মাধ্যমে এটা স্পষ্ট ছিল। এজন্য জেলে যাওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন, আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, ক্ষমতা চাই না। আমি চাই আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন। আর আওয়ামী লীগের কোনো ফাঁদে আপনারা পা দিবেন না। আমার সৌভাগ্য হয়েছে, জেলে তার সঙ্গে কয়েকবার দেখা করার। প্রত্যেকবার তিনি আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বলেছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, সর্বশেষ যেদিন দেখা করেছি, সেদিনও তিনি ঐক্যবদ্ধ থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কাজ করে যেতে বলেছেন। তিনি ড. কামাল হোসেনকে সালাম জানিয়েছেন এবং তার নেতৃত্বে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি দাবি আদায়ের অংশ হিসেবে। নির্বাচনে আছি, থাকব। সরকার অনেক চেষ্টা করেছে যাতে আমরা নির্বাচনে না যাই। এতো কিছুর পরেও মানুষ ভোট দিতে চায়। ঐক্যফ্রন্টের কারণে মানুষের মধ্যে উৎসাহ ও জাগরণ এসেছ্।ে সুষ্ঠু ভোট হলে ব্যাাপক ব্যবধানে আওয়ামী লীগ হারবে। বিএনপির জোয়ারে নৌকা ভেসে যাবে। কিন্তু শর্ত আছে। মানুষের মনে ভোটকেন্দ্রে যেতে চাওয়া ও ভোট দিতে পারা নিয়ে শঙ্কা। মানুষকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। প্রত্যেক ভোটারকে লড়াই করেই ভোট দিতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও বিএনপির নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তিসহ ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন।

দিনাজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির (বারের) সভাপতি আব্দুল হালিমের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জেলা নেতাদের বক্তৃতা শুরু হয়। বগুড়া আইনজীবী সমিতির (বারের) সভাপতি মোখলেসুর রহমান বলেন, আজ এখানে কেন্দ্রীয় নেতারা আছেন। আমরা আপনাদের কাছ থেকে নির্দেশনা নিয়ে যেতে চাই শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার। তিনি বলেন, অনেক ষড়যন্ত্র-নির্যাতন হবে, তবুও নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে দেব না। আমাদের শেষ পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে, যাতে আমাদের বিজয় কেউ কেড়ে নিতে না পারে।

সমাবেশে অংশ নেয়া চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির (বারের) সভাপতি নিজাম উদ্দিন চৌধুরীও একই কথা বলেন। পাশাপাশি আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী বলেও জানান। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের নির্বাচনী এলাকা থেকে সমাবেশে অংশ নেয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির (বারের) সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাকে মনোনয়ন দিলে বর্তমান আইনমন্ত্রীকে ধরাশায়ী করব ইনশাল্লাহ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ