ঢাকা, রোববার 18 November 2018, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

‘হাসিনা :এ ডটারস টেল’ প্রামাণ্য চলচিত্র প্রদর্শন বন্ধের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: ‘হাসিনা: এ ডটারস টেল’ প্রামাণ্য চলচিত্র প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন বন্ধের দাবি জানিয়েছে  বিএনপি। গতকাল শনিবার বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই দাবি জানান।

তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার ১৪(২) ভঙ্গ করে শেখ হাসিনা গণভবনে দলের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। তার ওপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র ‘হাসিনা: এ ডটারস টেল’ ডকুমেন্টারী ফিল্মটি রাজধানীর স্টার, সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাষ্টর সিনেমাসি, মুধমতি ছাড়াও চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে একজন প্রার্থী। শেখ হাসিনা একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সেই কারণে ইতিহাসের নানা ঘটনা, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ক্ষমতার পালাবদল, ব্যক্তি ও রাজনৈতিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতা এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি এককেন্দ্রীকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে- যা আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। অবিলম্বে শেখ হাসিনার ওপর নির্মিত ডকুমেন্টারী ফিল্মটি সিনেমা হলেগুলো থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।

নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার ১২ ধারা তুলে ধরে রিজভী বলেন, নিজে (শেখ হাসিনা) প্রার্থী হয়ে নিজেই কীভাবে আচরণবিধি ভঙ্গ করেন তার বোধগম্য নয়। নির্বাচন বিধিমালার ১২ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, ভোট গ্রহণের তিন সাপ্তাহ পূর্বে কোনো প্রকার প্রচার শুরু করা যাবে না। একই সঙ্গে বিধিমালার ১০(ঙ) ধারানুযায়ী নির্বাচনী প্রচারণার জন্য প্রার্থীর ছবি বা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণামূলক কোনো বক্তব্য দেয়া যাবে না। এই ডকুমেন্টারী ফিল্মটি কি প্রচারণামূলক নয় ? নির্বাচনী বিধিমালার ৭ এ পোস্টার ব্যবহারের বিধি-নিষেধও আছে। সেখানে বলা আছে, সিটি কর্পোরেশন ও পৌর এলাকার কোথাও পোস্টার সাঁটানোর কোনো সুযোগ নাই। অথচ ডকুমেন্টারী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অর্থাৎ সিনেমা হলগুলোয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত পোস্টারসহ রীতিমতো মহড়া আকারে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে এসব করা হলেও নির্বাচন কমিশন নীরব দর্শকের ভূমিকায়। এই কমিশন পুরোপুরি নির্বিকার। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক কর্মকা- দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশনকে বলব, আপনারা দ্রুত আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন, নির্বাচনের লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার চেষ্টা করুন। অন্যথায় আপনাদের পরিচালনায় যে নির্বাচন তা জনগণের কাছে উপহাসে পরিণত হবে।        

রিজভী বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, বিএনপিসহ বিশ দলীয় জোট এমনকি আওয়ামী জোট ছাড়া অন্যান্য সব রাজনৈতিক দল নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার দাবি করছে। কারণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের যাবতীয় কার্যক্রম এখনও বাকী রয়েছে, তফসিল ঘোষণার সপ্তাহ পরে চলছে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ। অন্যান্য নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগই দেয়া হয়নি। নির্বাচনী গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলবাজ কর্মকর্তারা বহাল আছেন, তাদের সরিয়ে দিয়ে নিরপেক্ষভাবে প্রশাসন সাজানো হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে সাজানো হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের ন্যুনতম কোনো পরিবেশ তৈরি করতে পারেনি কমিশন, মানুষের মন থেকে ভীতি দূর করতে পারেনি। ভোট দেয়া দূরে থাক, মানুষ নির্ভয়ে মুখ খুলে কথা বলবে এমন পরিস্থিতিও দেশে নেই। বর্তমান মন্ত্রী পরিষদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। কিন্তু এখনো বর্তমান সরকার বহাল আছে। একবার বলা হয় নির্বাচনকালীন সরকার ছোট করা হবে, আবার বলা হয় এ সরকারই নির্বাচনকালীন সরকার, অথচ নির্বাচনকালীন সরকার বলতে সংবিধানে কিছুই নেই। সংসদ ভেঙে দেয়া হয়নি। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করার পরও আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যরা উন্নয়ন কার্যক্রম উদ্বোধনসহ নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন লাভজনক পদে তারা এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্ব পালন সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের কোনো আচরণবিধি এখনও তৈরি হয়নি। রিটার্নিং কর্মকর্তারা যারা ডিসি পদ মর্যাদার লোক তারা কীভাবে মন্ত্রী-এমপিদের নিয়ন্ত্রণে রাখবে এ প্রশ্ন মানুষের মুখে মুখে। তারা সর্বদা মন্ত্রী-এমপিদের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে আছেন। আওয়ামী লীগ ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে তা মোটেও সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যে হানাহানি ও সহিংসতায় তফসিল ঘোষণার পর ৬ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অর্ধশত। কই দেখলাম না তো নির্বাচন কমিশনকে কোনো ব্যবস্থা নিতে। সুতরাং বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিন্দু পরিমাণ কোনো পরিবেশ নেই। এতসব ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন পিছিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করা অত্যাবশ্যক। বন্ধুরা, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়-একজন কমিশনারের মেয়ের বিয়ে, তাই ৩ জানুয়ারীতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশন একমত হলে উক্ত কমিশনার বাধ সাধেন। এছাড়া জানুয়ারীর মাঝামাঝিতে বিশ^ ইজতেমা তাই নির্বাচন পেছানো যাবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল। কিন্তু বিশ^ ইজতেমা স্থগিত করা হয়েছে। তাই বিরোধী দলগুলোর দাবি অনুযায়ী নির্বাচন তিন সপ্তাহ পেছানোর দাবি জানাচ্ছি।

ঢাকা মহানগর, চট্টগ্রাম, কুষ্টিয়া, কুমিল্লা, ঝিনাইদহসহ সারাদেশে আটক নেতা-কর্মীদের তালিকা তুলে ধরে তাদের মুক্তির দাবিও জানান রিজভী। তিনি বলেন, চকবাজার থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম রাসেল মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসার পর থেকে এখনও পর্যন্ত কোথাও তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে তার পরিবার-পরিজন ও দলের নেতাকর্মীরা গভীরভাবে উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় আছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনই তাকে আটক করেছে। আমি অবিলম্বে শফিকুল ইসলাম রাসেলকে জনসমক্ষে হাজির করার জোর দাবি জানাচ্ছি। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যাপক কুতুবউদ্দিন বাহার এবং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পরও তাদেরকে পূণরায় জেল গেট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে জেল গেট থেকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়।

কুষ্টিয়া জেলা দৌলতপুর থানা যুবদল নেতা জমসেদকে কোনো মামলা ছাড়াই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কুমিল্লা জেলা বিএনপি’র ১ম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এম এ আউয়াল খানকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

ঝিনাইদহ জেলা সদর থানার ওসি এমদাদুল হক শেখ দুই বছর থেকে থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই দুই বছরে তিনি বিএনপি’র ২০ হাজারের অধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গত দুই দিনে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে এবং টাকা আদায় করছে।

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ারুল হক রয়েল, বর্তমান সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. আতিক, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রদল মহসিন হলের আহ্বায়ক মাহবুব মিয়া, জিয়া হল ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, মশিউর, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রদল সহ-সভাপতি সুরুজ ম-ল, যুগ্ম-সম্পাদক আনিসুর রহমান সুমন, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল সহ-সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, নেত্রকোণা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ মুন্না, নেত্রকোণা জেলা ছাত্রদল সভাপতি ফরিদ এবং জেলা ছাত্রদল নেতা হোসেন বাবু, রাকিব, মান্নান ও পিংকুকে গত ১৪ নবেম্বর ২০১৮ সেগুনবাগিচা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা সবাই এখন পল্টন থানায় ৫ দিনের রিমা-ে আছে। আমি নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে মিথ্য মামলা প্রত্যাহারসহ তাদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি। পল্টন থানায় রিমা-ে থাকা নেতাকর্মীদের রিমা- বাতিলসহ তাদেরও নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ