ঢাকা, রোববার 18 November 2018, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ সা.

 

মিয়া হোসেন : আখেরী নবী মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন। নৈতিক ও আধ্যাতিক সুস্থতার পাশাপাশি তিনি শারীরিক সুস্থতাকেও সমধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। রাসূল (সা.) নবুয়্যতপ্রাপ্তির পর পরই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার নির্দেশ পান। তিনি স্বাস্থ্য রক্ষার্থে সাহাবীদেরকে নিয়মিত ব্যয়াম, খেলাধুলা, তীর নিক্ষেপ, ঘোড় দৌড় ইত্যাদি বিষয়ে উৎসাহ দিতেন। স্বাস্থ্য রক্ষায় তিনি বৈধ স্বল্প আহার, অযু, গোসল এবং সময়মত বিশ্রাম ও ঘুমানোর ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। রাসূল (সা.) নিজে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন। কঠোর পরিশ্রমেও ক্লান্ত হতেন না।

স্বাস্থ্য সম্পর্কে রাসূল (সা.) এর অবিস্মরণীয় কথা, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে তার যত ধন সম্পদ আছে তার মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান হলো স্বাস্থ্য। রাসূল (সা.) মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন, হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে স্বাস্থ্য ও শান্তি কামনা করি। ইসলামে নামাযের যে বিধান রয়েছে, এতে স্বাস্থ্য রক্ষার অনেক অনুসঙ্গ নিহিত রয়েছে। নামাযের জন্য পাক সাফ হতে অযু করতে হয়। এতে দেখা যায় প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাযের আগেই মুসলমানদের স্টমাক পরিষ্কার হয়ে যায়। নামাযের জন্য মুসলমানদের প্রাকৃতিক কাজ সেরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে হয়। মূলত নামাযের পদ্ধতিটিই ব্যয়ামের মতো। মুসলমানদের ফজরের নামাযের অজু দেখে কাসেদিয়া যুদ্ধের সময় কাফির সৈন্যরা বলেছিল, দেখ ওরা সামরিক ট্রেনিং করছে। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পেশাব পায়খানার নিয়ম কানুন থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনাসহ সকল বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। রাসূলের জীবন সম্পর্কে অনেক মনীষী গবেষণা করেছেন। সকল মনীষীই রাসূল (সাঃ)কে বিশ্ব সভ্যতার মডেল হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আজও যদি রাসূলের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের ব্যক্তি জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় জীবন পর্যন্ত পরিচালনা করা যায় তাহলে সকল ক্ষেত্রেই সফলতা ও শান্তি ফিরে আসবে।

দয়া, আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক বিশেষ গুণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে হতে তোমাদের নিকট এক রাসূল এসেছেন, তোমাদেরকে যা বিপন্ন করে, তা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মোমিনদের প্রতি তিনি দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। (সূরা তাওবা ১২৮) তিনি আরো বলেন, আমি তোমাকে বিশ্বজগতের প্রতি রহমত রূপে প্রেরণ করেছি। (সূরা আম্বিয়া: ১০৭) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতক উক্তি থেকেও তা প্রমাণিত হয়। 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হয় না। (বুখারী-৫৫৩৭), দয়াশীলদেরকে আল্লাহ দয়া করেন। (তিরমিযী-৮৪৭১)। প্রত্যেক প্রাণীর সেবায় রয়েছে পুণ্যের ছোঁয়া। (বুখারী-২২৮২)। প্রত্যেক নামাজের সময় মিসওয়াক করা যদি আমার উম্মতের উপর পীড়াদায়ক না হত তবে তা বাধ্যতামূলক করে দিতাম। (বুখারী-১৪৪৭)

বিশ্বস্ততা ছিল রাসূলের অন্যতম গুণ, তার অন্যতম নমুনা হলো খাদিজা রা. এর সাথে রাসূল সাল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সত্য-নিষ্ঠ আচরণ। এ সম্পর্কে আয়েশা রা. বর্ণনা করে বলেন, “আমি কোন মহিলার ব্যাপারে ঈর্ষা করতাম না, যা খাদিজার ব্যাপারে করতাম। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর কথা স্মরণ করতে শুনতাম। এমনকি তিনি কোনো ছাগল জবাই করলে তাঁর বান্ধবীদের নিকট তা থেকে হাদিয়া প্রেরণ করতেন। একদা তাঁর বোন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং স্বস্তি বোধ করলেন। অন্য একজন মহিলা প্রবেশ করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উৎফুল্ল হলেন, সুন্দরভাবে তার খোঁজখবর নিলেন। যখন তিনি বের হয়ে গেলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-এ মহিলা খাদিজার জীবদ্দশায় আমার কাছে আসতো। নিশ্চয় সু-সম্পর্ক রক্ষা করা ঈমানের পরিচায়ক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ