ঢাকা, রোববার 18 November 2018, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

‘বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টোরি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন আজ

স্টাফ রিপোর্টার: ‘বেগম খালেদা জিয়া : হার লাইফ, হার স্টোরি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হচ্ছে আজ রোববার। বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবনী নিয়ে বই লিখেছেন সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ। ৭০০ পৃষ্ঠার এই বইয়ে তিনি তুলে এনেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রামের গল্প। গৃহবধূ থেকে প্রধানমন্ত্রী, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদে কারাবাস সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রীর জীবনের এসব ঘটনার অনেক অজানা কথা জানা যাবে এ বইয়ে। ইংরেজি ভাষায় রচিত বইটির নাম ‘বেগম খালেদা জিয়া : হার লাইফ, হার স্টোরি’।

বিএনপির চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, আজ রোববার বিকেলে গুলশানের হোটেল লেকশোরে বইটির মোড়ক উন্মোচিত হবে। অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল, লায়লা এন ইসলাম, নিউজ এজ সম্পাদক নুরুল কবীর, ইকতেদার কবীর, আনোয়ার হাশিম প্রমুখ উপস্থিত থাকবেন।

বইটির লেখক সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, বেসিক্যালি এই বইটা করা হয়েছে খালেদা জিয়ার জীবন ও জীবনের গল্প নিয়ে। তার রাজনৈতিক সংগ্রাম তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তার উত্থানের গল্প আছে বইটিতে। এই গ্রন্থে খালেদা জিয়ার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের বিষয়ে বলা হয়েছে।

‘বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টোরি’ বইয়ে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ ২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শেষ সময় পর্যন্ত তুলে ধরেছেন। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা খানম পুতুল কীভাবে সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর গৃহবধূর দায়িত্ব ছেড়ে নেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির গুরুদায়িত্ব এসবের বর্ণনা আছে বইটিতে।

বইয়ের লেখক মাহফুজউল্লাহ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সামরিক অভুত্থ্যানে জিয়াউর রহমান শহীদ হন। এরপর প্রায় ৭ মাস পর দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের আহ্বানে ১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন খালেদা জিয়া। রাজনীতিতে তার আগমন এবং ‘আপসহীন’ নেতৃত্ব, সামরিক এরশাদ সরকার বিরুদ্ধে টানা আট বছরের সংগ্রাম শেষে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার গল্পগুলো তুলে এনেছেন মাহফুজউল্লাহ। তার লেখা এ বইয়ে বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছে ওই সময়ের ঘটনা ও ঘটনার আড়ালের গল্প। ১৯৯১-এর আগে রাজনৈতিক সংগ্রাম, আন্দোলন এবং ২০০৬ সাল পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদে খালেদা জিয়ার জেলজীবন বইটির বড় অংশজুড়ে রয়েছে। তবে খালেদা জিয়ার গত কয়েক বছরে দলের নেতৃত্ব, ২০১৫ সালের তিন মাসের অবরোধ, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু, গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তিন মাস অবস্থান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবাস, এসব ঘটনা এ বইয়ে তুলে আনতে পারেননি সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ।

এর কারণে জানালেন মাহফুজউল্লাহ নিজেই, বললেন, এই কাজটি তো অনেক বছর ধরে করছি। ৭০০ পৃষ্ঠার বই, দীর্ঘ সময়। এর মধ্যে সর্বশেষ কেয়ারটেকার সরকারের সময় পর্যন্ত তুলে ধরা হয়েছে। 

সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবনীগ্রন্থ রচনা করেছেন। ওই বইটির নাম ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া অব বাংলাদেশ: আ পলিটিক্যাল বায়োগ্রাফি’। মাহফুজউল্লাহ জানান, খালেদা জিয়ার প্রকাশিতব্য বইটি তার সর্বশেষ জীবনীগ্রন্থ। এরপর তিনি আর কোনো ব্যক্তির জীবনী নিয়ে লিখবেন না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ