ঢাকা, রোববার 18 November 2018, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে যমুনার বুক জুড়ে ধু-ধু বালুচর

এম. এ. জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : ভারত কর্তৃক পানির প্রবাহ একতরফাভাবে নিয়ন্ত্রণ করায় উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য নদীর ন্যায় শাহজাদপুর উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া যমুনার পানি শুকিয়ে ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। সেই সাথে জলাবায়ূর বিরুপ প্রভাব, অবৈধ নদী দখল আর ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে দিন দিন মরে যাচ্ছে প্রধান  নদী যমুনা। ১৯৭৫ সালের ১২ এপ্রিল ভারত কর্তৃক ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর পর থেকেই যমুনার পাশাপাশি অন্যান্য শাখা নদীও  ক্রমে ক্রমে মরণদশা শুরু হয়। প্রতি বছর বন্যার সময় বালুর আস্তরণ জমতে জমতে যমুনা নদী হারাচ্ছে তাঁর নির্দিষ্ট প্রবাহ। নদী গর্ভে বালু জমে বিশাল বিশাল চর সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মওসুমে বড় বড় ড্রেজার দিয়ে নদীগর্ভ থেকে বালু উত্তোলন করায় বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছরের ভাঙ্গন পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। যমুনা নদীর বিভিন্ন অংশে পানি শুকিয়ে অসংখ্য চরে পরিণিত হওয়ায় যমুনা চরের মানুষের চলাচলে চরম সমস্যা হচ্ছে। যেখানে বন্যার সময় নৌকা দিয়ে যমুনা চরে ৩০ মিনিট সময় লাগতো সেখানে জেগে উঠা চরের কারণে বিভিন্ন চর ঘুরে পানির প্রবাহ দিয়ে যেতে সময় লাগছে ২ ঘন্টারও বেশি। সরেজমিন ঘুরে ভাট দিঘুলিয়ার চর হয়ে সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, মাকড়ার চর, ছোট চানতাঁরা ও বড় চাঁনতারা চরের মাঝখানে বিশাল দীর্ঘ এক বালুচর লক্ষ করা গেছে। এই সুদীর্ঘ এবং গভীর এই বালুচর চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের চলাচলে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বালুচরে দাঁড়ালে মনে হয় যেন একটি মরুভূমি। যমুনা চরের কয়েকটি গ্রাম উন্নয়নবঞ্চিত, তাই বিস্তীর্ণ বালুচর তাঁদের অর্থনীতির জন্যও বড় বাঁধা। বালুচর গভীর হওয়ায় এখানে কোনরকম  চাষাবাদ করা সম্ভব হয়না।  বালুচর আবাদ অনুপোযোগী হওয়ায় সেখানে কালাই, সরিষা, বাদামসহ বিভিন্ন ফসল নানা প্রতিকূলতার মধ্যে আবাদ করার পর বন্যার করাল গ্রাসে প্রতি বছরই তা বিলীন হয়ে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ