ঢাকা, রোববার 18 November 2018, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে অবৈধ ইটভাটা

 

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় প্রতি বছর অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কৃষি জমি অকৃষি জমি দেখিয়ে এবং জনবসতি এলাকায়  অপরিকল্পিত ভাবে ইটভাটা গড়ে ওঠায় ফসলি জমি ও জনবসতি এলাকা হুমকির মুখে পড়েছে। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় পরিবেশ বিবর্ণ হয়ে উঠছে। আর এ কারণে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, কৃষি ও কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখিন হলেও নির্বিকার স্থানীয় প্রশাসন। স্থানীয় প্রভাবশালীরা কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পর¯পর যোগসাজসে কৃষি জমি অকৃষি দেখিয়ে, তিন ফসলি জমিকে এক ফসলি দেখিয়ে এবং জনবসতি এলাকাকে জনশূন্য হিসাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই দিনের পর দিন গড়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ ইটভাটা। এসব অবৈধ ইটভাটার কারণে কৃষি ও কৃষক উভয়ই মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবী অবৈধ ইটভাটার কারণে আশেপাশে ধান, সবজি, আম, কাঁঠাল, নারিকেলসহ বিভিন্ন ফলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষির যেমন ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। অন্যদিকে ইটভাটা মালিকেরা কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসাবে কাঠ পোড়াচ্ছে। আইন অমান্য করে জমি মালিকদের টাকার প্রলোভন দিয়ে ফসলি জমির উপরি ভাগের মাটি কেটে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এত কিছু প্রশাসনের চোখের সামনে ঘটলেও প্রশাসন তা দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে- বর্তমান মওসুমে এই উপজেলায় ২৪ টি ইটভাটার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।  জীবননগর-কালীগঞ্জ ও দেহাটি-সন্তোষপুর মহাসড়কের পাশে সবচেয়ে বেশী ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভার অধিকাংশেরই পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন ছাড়পত্র নেই। প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে অবৈধ ইটভাটাগুলো। উপজেলার বাঁকা, আন্দুলবাড়ীয়া ও কেডিকে ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশী অবৈধ ইটভাটা কার্যক্রম চলছে। এসব অবৈধ ইটভাটার অধিকাংশের মালিক ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। বেশীর ভাগ ইটভাটা ফসলি জমি, জনবসতি ও প্রাতিষ্ঠানিক এলাকায় গড়ে উঠেছে।

জীবননগর বিশ্বাস ব্রিকসর মালিক আব্দুল হালিম বিশ্বাস বলেন, আমার জানামতে উপজেলার বিবিএম, আউয়াল ব্রিকস, মাসুম ব্রিকস, এএনজেএম ব্রিকস, লতিফ ব্রিকস, ভাই ভাই ব্রিকস ও মোল্যা ব্রিকস ইটভাটায় কৃষি বিভাগের ছাড়পত্র, প্রশাসনের অনুমতি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে ইট উৎপাদন করা হচ্ছে। আমার ইটভাটা পরিবেশ বান্ধব করে গড়ে তোলায় এলাকার পরিবেশ ও ফসলের কোন ক্ষতি হবে না। অবৈধ ইটভাটাগুলো কি ভাবে চলছে তা আমার জানা নেই। যারা চালাচ্ছে শুধু তারাই বলতে পারবেন।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন, পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া এবং পরিবেশ সম্মত না হলে ইটভাটা নির্মাণ করা যায় না। জনবসতি ও কৃষির ক্ষতি না হয় এমন স্থানে ইটভাটা গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ