ঢাকা, সোমবার 17 December 2018, ৩ পৌষ ১৪২৫, ৯ রবিউস সানি ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা, নিহত ৪৩

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক :

ইরাক সীমান্তের কাছে সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় একটি  গ্রামে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দমনের নামে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত ৪৩ জন সিরিয় নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৯ জনই নারী ও শিশু।এছাড়া আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে হতাহতদের সবাই বেসামরিক নাগরিক।

শনিবার ইউফ্রেতিস নদীর পূর্বতীরের হাজিনের কাছে বুকান এলাকায় আবু আল হাসান নামে ওই গ্রামে চালানো হামলায় এরা নিহত হয়।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস এর প্রধান আব্দুর রহমান বলেন, নিহতদের মধ্যে ১৭ জন শিশু ও ১২ জন নারী রয়েছেন।

এ বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জোট বাহিনীর মুখপাত্র বুকানে হামলার কথা নিশ্চিত করলেও সেখানে বেসামরিক হতাহতের কথা অস্বীকার করেছেন।

জোটের মুখপাত্র কর্নেল সিন রায়ান বলেছেন, “বেসামরিক হতাহত এড়ানোর জন্য জোট আইএসআইএসের জঙ্গিদের শনাক্তে ও সঠিক লক্ষ্যে হামলা চালাতে অত্যন্ত সতর্কর্তা অবলম্বন করে।”  

আইএসের বার্তা সংস্থা আমাক একটি মেডিকেল সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাও ওই হামলায় বহু বেসামরিক নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে।

ওই এলাকায় থাকা পরিবারগুলোর স্বজনরা ও সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে হাজিন ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে মার্কিন জোটের বিমান হামলায় কয়েক ডজন লোক নিহত হয়েছে। 

এক সপ্তাহ আগে মার্কিন জোটের এ ধরনের একটি বিমান হামলার বিষয়ে জাতিসংঘের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছিল সিরিয়ার সরকার। হাজিনে আইএসের বিরুদ্ধে চালানো ওই হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নিহত হয় বলে অভিযোগে জানিয়েছিল তারা।

সিরিয়ায় ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে আড়াই লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নিহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার বিমান হামলায়।এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখের বেশি মানুষ। সিরিয়ার চলমান সংকট নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিপরীতধর্মী।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য তারা আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) নাম করে সরকারি বাহিনীর ওপর বিমান হামলা চালাচ্ছে।

আসাদ সরকারের দাবি, আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে যুক্তরাষ্ট্র মূলত বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করতে সরকারি বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। আর রাশিয়া বাশার আল আসাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।

আসাদ সরকারের সমর্থনে রাশিয়া-ইরানও আইএস এবং বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালাচ্ছে। সিরিয়া সংকট কেন্দ্র করে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র ছায়াযুদ্ধে মেতে উঠেছে বলে অনেকেই মনে করেন।

সূত্র: খবর দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট/এএফপি/রয়টার্স/ডেইলি সাবাহ

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ