ঢাকা, শনিবার 25 May 2019, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৯ রমযান ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ছাত্রদের ক্রীতদাসের মতো খাটান আমেরিকার এই বাঙালি অধ্যাপক

আমেরিকার মিসৌরি ইউনিভার্সিটির বাঙালি অধ্যাপক অসীম মিত্র

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

যেমন বলবেন স্যার, তা কী কী করতে বলেন স্যার? প্রশ্নের উত্তর যা এল তা লজ্জার। ক্লাসের পরই স্যারের বাড়ির বাগান সাফাই, পোষ্যের দেখভাল, বাজার সবই করতে হয় পড়ুয়াদের।ঘটনাটি  আমেরিকার, তবে সেই অত্যাচারী অধ্যাপকটি বাঙালি।সে দেশের মিসৌরি ইউনিভার্সিটির বাঙালি অধ্যাপক অসীম মিত্র দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে এইভাবেই পড়ুয়াদের খাটাচ্ছেন, শুধু ছাত্রদের কোমরে দড়ি বাঁধতে বাকি।

আমেরিকার ঝকঝকে শহর কানাসে মিসৌরি ইউনিভার্সিটির বিশাল ক্যাম্পাস। সেখানেই দিনের পর দিন ক্রীতদাসের জীবন কাটছে ডক্টরেট করতে আসা কয়েকশো ছাত্রের। কারণ, তাঁরা ইউনিভার্সিটির সবচেয়ে জ্ঞানী, ক্ষমতাবান অধ্যাপক অসীম মিত্রের ছাত্র। ডক্টরেট হওয়ার বদলে এইটুকু তো করতেই হবে, ছাত্রদের ঠিক এই হুমকি দিয়েই বছরের পর বছর এই অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছেন অসীম মিত্র।

পড়ুয়ারা জানাচ্ছেন, অধ্যাপক ও তাঁর স্ত্রী কোথাও ঘুরতে গেলে তাঁদের উপর আরও চাপ দেওয়া হত। টানা সাত-আট দিন বাড়ি ছেড়ে, পড়াশোনা গুটিয়ে স্যারের বাড়ির উপর নজর দিতে হত। সেই সময় বাগান পরিষ্কার থেকে কুকুরের দেখভাল, বাজার, ইলেকট্রিক বিল, ফ্রিজ থেকে আসবাব পরিষ্কার সবই করেন ছাত্ররা।

বিশ্বর অন্যতম নামজাদা ইউনিভার্সিটির উচ্চপদস্থরা অসীম মিত্রকে কিন্তু মাথায় তুলে রেখেছেন। তাই তো টানা ২৪ বছর এভাবেই ছাত্রদের স্রেফ ক্রীতদাসের মতো খাটাচ্ছেন তিনি। আর সব জেনেও মুখে তালা ঝুলিয়েছেন ফ্যাকাল্টি মেম্বাররা। কারণ একটাই, কলেজের সবচেয়ে জ্ঞানী এই স্যারকে না কি তাঁরা হারাতে চান না। তাই স্ব-মহিমায় নিজের স্বৈরাচারীতা চালিয়ে যাচ্ছেন অসিম মিত্র।

তবে, বাঙালি এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে আর এক বাঙালিই। তিনি মৃদুল মুখোপাধ্যায়। মিসৌরি ইউনিভার্সিটিরই অধ্যাপক মৃদুল চুপ থাকেননি। ২০১৬ সালে একবার অসিত মিত্রের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন তিনি। এবার একেবারে আইনি পথেই বিরুদ্ধে গেলেন। ছাত্রদের অভিযোগের ভিত্তিতে অসিত মিত্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন তিনি।

জ্যাকশন কানট্রি সারকিউট আদালতে চলছে সেই মামলা। অসিত মিত্রের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন তাঁর প্রাক্তন ছাত্ররাও।

সূত্র: দি ওয়াল

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ