ঢাকা, বুধবার 21 November 2018, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পৃথিবীর প্রধানতম পাঁচটি ধর্মের ধর্মগ্রন্থে মুহাম্মদ (সা:)

এডভোকেট আব্দুস সালাম প্রধান : মানব জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান, বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত মুহাম্মদুর রসুল্লাহ (দ:) এখন থেকে ১৫৬৯ বৎসর পূর্বে ঈসায়ী ৫৭০ অব্দে আরব জাহানের কেন্দ্রভূমি মক্কানগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ মতানুযায়ী আরবী রবিউল আউয়াল মাসে ১২ তারিখ সোমবার ভোর বেলা তিনি পৃথিবীতে আগমন করেন। পৃথিবীর প্রধানতম পাঁচটি ধর্ম যথা-হিন্দু, বৌদ্ধ পার্সি, ইয়াহুদি, খৃষ্টান ধর্মের প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে এবং মুহাম্মদ (দ:) এর আবির্ভাবকালে আরব অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার কিংবদন্তিতে মুহাম্মদ (দ:) এর শেষ নবী হিসেবে আগমনের বিষয়ে অনেক ভবিষ্যৎ বাণীর উল্লেখ আছে। ঐসব ভবিষ্যৎ বাণী বা কিংবদন্তিগুলো মুহাম্মদ (দ:) এর সর্বশেষ বা বিশ্বনবী হওয়ার জন্য কোন অপরিহার্য প্রমাণ বা চুড়ান্ত দলিল না হলেও ঐগুলোর ঐতিহাসিক গুরত্ব¡ অপরিসীম। এসব দলিলে সুস্পষ্টভাবে মুহাম্মদ (দ:) এর শেষ নবী হিসেবে আগমনের বার্তা প্রকাশ করে। কিন্তু ঐসব প্রাচীন ধর্মের অনুসারীরা ঐ সব ভবিষ্যৎ বাণী সম্পর্কে জ্ঞাত থাকা স্বত্বেও কেন মুহাম্মদ রসুল্লাহ (দ:) উপর ঈমান আনতে পারল না তা বিস্ময়কর। তথাপি ঐ সমস্ত ভবিষ্যৎ বাণী অধ্যয়নের মাধ্যমে তাদের মুহাম্মদ রসুল্লাহ (দ:) এর উপর ঈমান না আনার বিষয়টি আমরা বুঝতে পারি। মুহাম্মদ রসুুুলুল্লাহ (দ:) মানবজাতির নিকট আরøাহর পক্ষ থেকে হেদায়েতের বাণী নিয়ে সকল নবী ও রসুলগণের শেষে পৃথিবীতে আগমন করেন। বিষয়টি ইরানের মাযদাকী বা অগ্নি উপাসক মজুসী ধর্মের গুরুরা, ভারতবর্ষের সনাতন (হিন্দু) ধর্মের গুরু বা মুনি ঋষিরা এবং ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টান ধর্মের আহবার বা রুহবান উপাধিধারী পুরোহিতরা ভালোভাবেই অবগত ছিলেন। প্রাচীন আরবের ইয়াহুদিরা দীর্ঘদিন যাবৎ আল্লাহর একজন প্রতিশ্রুত নবীর আগমনের অপেক্ষায় ছিল। তারা এ ইয়াহুদি আরবদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছিল। তারা আরবদেরকে একথা শোনায়ে দিত যে, শেষ প্রতিশ্রুত নবীর আগমন হলে তাদেরকে আর নির্যাতিত হতে হবে না। তারাই ভবিষ্যতের পৃথিবীতে প্রভূত্ব করবে। কিন্তু ইসরাইলী বংশে মুহাম্মদ রসুল্লাহ (দ:) এর জন্ম না হওয়ায় ইয়াহুদিরা শেষ পর্যন্ত প্রতীক্ষিত শেষ নবী হিসাবে মেনে নিতে পারেনি। ইয়াহুদি এবং খ্রিষ্টানরা তাদের পাদ্রী পুরোহিতদের দ্বারা পরিচালিত হত। পাদ্রি পুরোহিতরা দুএকজন বাদে মুহাম্মদ রসুল্লাহ (দ:) এর আগমনের বার্তা সম্বলিত তাদের ধর্মীয় গ্রন্থের অনেকগুলি অংশ গোপন করে ফেলে। ফলে সাধারণ ইয়াহুদি খ্রিষ্টানরা ঐ সব ভবিষ্যৎ বাণী বা বার্তা সম্পর্কে জানতে পারেনি। বিগত দু’তিনশত বৎসর যাবৎ পৃথিবী জুড়ে জ্ঞানের রাজ্যে বিপ্লব সাধিত হয়। এবং শিক্ষার ব্যাপক বিস্তার ঘটে। প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ সমূহের সংকলন বা অনুবাদ মানুষের নাগালে আসা শুরু করে। ফলে মুসলমানরাও তাদের ধর্মগ্রন্থ পড়ে জানতে পারে যে, মুহাম্মদ রসুল্লাহ (দ:) এর শেষ নবী হিসেবে আগমনের বার্তা সকল প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে বিদ্যমান। বর্তমান নিবন্ধে মহানবী (দ:) এর শেষ নবী বা মানবজাতির মুক্তি দাতা হিসেবে আগমনের বিষয়ে ভবিষ্যৎ বাণী সমূহ তুলে ধরা হল। 

হিন্দু ধর্মগ্রন্থে মুহাম্মদ রসুল্লাহ (দ:)

হিন্দু বা সনাতন ধর্ম পৃথিবীর প্রাচীন ধর্ম সমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। এধর্মের অনুসারীরা তিনহাজার বছর আগে তাদের ধর্মসহ মধ্য এশিয়া থেকে দ্রাবিড় সভ্যতার লীলাভূমি তৎকালীন ভারতবর্ষে আগমন করে। তারা মধ্য এশিয়া থেকে আফগানিস্তান হয়ে বর্তমান পাকিস্তানের খাইবার পাখতুয়া প্রদেশের খাইবার গিরিপথ ধরে এ দেশে আগমন করে। তারা ভারত বর্ষের দ্রাবিড় জাতির তিলে তিলে গড়ে তোলা হরপ্পা, মহেঞ্জোদারো সভ্যতা সমূহ ধ্বংস করে দেয়। তাদেরকে ইতিহাসে আর্য জাতি নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এদের পূর্ব পুরুষরা মধ্য এশিয়া অর্থাৎ বর্তমান সময়ের উজবেকিস্তান, কাজাকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান অঞ্চলের যাযাবর জাতিগোষ্ঠির লোক ছিল। এসব অঞ্চলেই হযরত নুহ (আ:) এবং হযরত ইব্রাহিম (আ:) জন্ম হয়েছিল। বাস্তব কারণে এ ধর্মের আদিগ্রন্থ বেদ এবং উপনিষদ এবং পুরাণের অনেক স্থানের আল্লাহর একত্ববাদের কথা এবং মুহাম্মদ (দ:) আদম (আ:) এবং হাওয়া (আ:), নুহ (আ:), মুসা (আ:), ইসা (আ:) এবং তার মা মরিয়ম (আ:) এর কথা উল্লেখ আছে। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত নুহ (আ:) এর সময়কালের আল্লাহর গজব হিসেবে আসা মহাপ্লাবনের বর্ণনাও হিন্দু ধর্মের অন্যতম ধর্মীয় গ্রন্থ ভবিষ্যৎ পুরাণে পাওয়া যায়। “অনার্যের কানে বেদবাণী প্রবেশ করলে তার কানে জলন্ত শীষা ঢেলে দাও” হিন্দু ধর্ম গুরুদের এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার বর্তমানকালে অবসান ঘটেছে। হিন্দুদের আদি ধর্মগ্রন্থ বেদ যাকে হিন্দু ধর্মে ঈশ্বরের মুখনি:সৃত বাণী হিসেবে মানা হয়। এ গ্রন্থের লেখক বা লেখকরা এ বাণী কারও নিকট শুনে মুখস্থ করে রেখছিলেন সে কারণে বেদকে শ্রুতিও বলা হয়। বেদের চারটি ভাগ রয়েছে। যেমন-ঋগে¦দ, সামবেদ, অথর্ববেদ, যজুরবেদ। এসব বেদের মধ্যে সবচেয়ে বৃহৎ বেদ হল ঋগে¦দ। এ বেদটি গদ্য রীতিতে রচিত। সামবেদের শ্লোকগুলি পদ্যরীতিতে রচিত। যজুর বেদের যজুর শব্দের অর্থ পুজা অর্চনা, যাগ-যজ্ঞ। অথর্ব শব্দের অর্থ অচল। কিন্তু হিন্দু ধর্মের কিছু পন্ডিতের দাবী হল অথর্ব অর্থ অনঢ় বা অবিকৃত। চতুর্বেদ সহ হিন্দু ধর্মের বেশ কিছু গ্রন্থ আমার পড়ে দেখার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু অবিৃকত কোন গ্রন্থ আমার চোখে পড়েনি। যাহোক সে বিষয়ে অন্যকোন সময় সুযোগ হলে আলোচনা করা যাবে। হিন্দু ধর্মশাস্ত্র নিয়ে যারা গবেষণা করেছেন তাদের মতে সামবেদে আগে ১০০টি শাখা ছিল। এখন আছে ৮টি। ঋগে¦দে আগে ২১টি শাখা বা মন্ডল ছিল। বর্তমানে আছে ৫টি। যজুর বেদে ৮৬ থেকে ৬১টি শাখা ছিল, এখন আছে ২টি। তাহল শুক্ল যজুরবেদ এবং কৃষ্ণ যজুর বেদ। অথর্ব বেদে ১২,৩৩৩টি শুক্ত ছিল, এখন আছে ৫,৮৩৩টি। (পৃথিবীর ইতিহাস, বাবু দুর্গাদাস লাহিড়ী) ৬,০০০ থেকে ৭,০০০ বছর আগে বেদগুলি রচিত হয়েছিল মর্মে গবেষণাকারীদের অনুসন্ধানে জানা গেছে। ৬,০০০ থেকে ৭,০০০ বছর যাবৎ এগুলো বিভিন্ন স্বার্থবাদী ধর্মগুরুদের কবলে পড়েছিল। ফলে এগুলোকে নানাভাবে কাটছাট বা বিকৃত করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে নরশাংসা (প্রসংশিত মানব) নামক একজন অগ্নি বা আলোকিত মানুষের কথা তিনটি বেদে এখন পর্যন্ত অক্ষত আছে। তাছারাও হিন্দু ধর্মের ১২টি বিশ্বস্ত পুরাণের অন্যতম ভবিষ্যৎ পুরাণে মুহাম্মদ (দ:) এর নামসহ তার আগমনের বিষয় উল্লেখ আছে। ভবিষ্যৎ পুরাণ শব্দটির অর্থ ভবিষ্যতের ইতিহাস বা ফিউচার হিস্টরী। দাবী করা হয়েছে যে, গ্রন্থটি ৭/৮ হাজার বছর পূর্বে রচিত। যাহোক ধারাবাহিকভাবে বেদ পুরাণে উল্লেখিত মুহাম্মদ (সা:) আগমনের বিষয়ে যেসব ভবিষ্যৎ বাণী পাওয়া যায় তা উদ্ধৃত করা হল। 

যজুর বেদ অনুচ্ছেদ ২০ অধ্যায় ৩৭ : নরশংষ: প্রতি শুরো মিমানন্তনূপাৎ প্রতি যজ্ঞস্য ধাম। গোর্ভিবপাবান মধুনা সমঞ্জন হিরেন্যৈশ্চন্দ্রী যজতি প্রচেতা। 

বাংলা অর্থ : (হিন্দু ধর্ম শাস্ত্রবিদদের করা) নরশাংস প্রাজ্ঞ যজমান প্রতি সেইন্দ্রের যাগ করে, ঋত্বিকেরা শাস্ত্র মতে যার স্তুতি করে। যিনি প্রতিটি যজ্ঞের জ্ঞাতা। যিনি অগ্নিরূপে শরীরের রক্ষক। যিনি মধুর স্বাদযুক্ত ঘৃতের ভক্ষক ও স্বর্ণযুক্ত। অনুবাদ: শ্রী বিজন বিহারী গোস্বামী। প্রকাশক-হরফ প্রকাশনী, কলকাতা ভারত। 

দ্বিতীয় উদ্ধৃতি : ঋগবেদ ১ম মন্ডল ১৩ নং সুক্তের ৩ শ্লোকে নরসাংশার বিষয়ে নি¤েœাক্ত শ্লোকটি বিদ্যমান। 

নরাংশসমিহ প্রিয়ই স্তিন্যজ উপহবয়ে। মধুজিহবৎ হবিস্কৃকতম। 

অনুবাদ : এ যজনদেশে, এ যজ্ঞে, প্রিয়, মধুজিহব, হব্যনিস্পাদক, নরাশংস (৩) নামক অগ্নিকে আহবান করি। 

টিকা-(৩) এর ব্যাখ্যা : হিন্দু পন্ডিতগণ নিম্ন ভাষায় করেন :

 

নরাশংস অর্থ মানবপ্রশংসিত। অর্থাৎ প্রশংসিত

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ