ঢাকা, সোমবার 26 November 2018, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অফিসার্স ক্লাবে ‘গোপন বৈঠক’ কয়েক সচিবের প্রতিবাদ

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপি’র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারি দলের পক্ষে নির্বাচন প্রভাবিু করার কৌশল ঠিক করতে প্রশাসন ও পুলিশের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণ সপ্তাহে ঢাকার অফিসার্স ক্লাবে গোপনে এক বৈঠক করেছেন। কিন্তু এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না বলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন সচিব হেলাল উদ্দিন, জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ ও বেসামরিক বিমান চলাচল এবং পর্যটন সচিব মো. মহিবুল হক। তবে মুহিবুল হক বিবিসি বাংলাকে শনিবার বলেছিলেন, আমরা ব্যাচ-মেটরা মাঝে মধ্যে একসাথে বসি, ভবিষ্যতেও বসবো। এটাকে পলিটিসাইজ করার কিছু নেই।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম-সচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন, ঐ ‘গোপন বৈঠক’ হয়েছে ২০ নবেম্বর রাতে ঢাকার অফিসার্স ক্লাবের চারতলার পেছনের দিকের একটি সম্মেলন কক্ষে। পুলিশ ও প্রশাসনের কোন কোন কর্মকর্তা সেই বৈঠকে ছিলেন, সেখানে তিনি একটি তালিকাও দেন।
শনিবারই বেসামরিক বিমান চলাচল এবং পর্যটন সচিব মো মহিবুল হক বিবিসিকে বলেন, তাদের ব্যাচ-মেটদের মেলামেশাকে রাজনৈতিক রং দেয়া হচ্ছে।
বিবিসি’র শাহনাজ পারভিনকে সচিব মহিবুল হক বলেন, আমরা ব্যাচ-মেটরা মাঝে মধ্যে একসাথে বসি, ভবিষ্যতেও বসবো। এটাকে পলিটিসাইজ করার কিছু নেই।
অথচ গণকাল রোববার বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবাদপত্রে জানানো হয়, বিমান সচিব মহিবুল হক ওইদিন (২০ নবেম্বর) তিনি সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হোটেল সোনারগাঁয়ে পূর্বনির্ধারিত একটি অনুষ্ঠানে ছিলেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের উদ্ধৃতিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হককে জড়িয়ে অস্যু ও বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা অফিসার্স ক্লাব সরকারের বিভিন্ন পদে কর্মরত ও প্রাক্তন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি ক্লাব। অফিস সময়ের পর অবসরে ক্লাবের সদস্যরা এ ক্লাবে খেলাধুলা, বিনোদনসহ অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। তাই সন্ধ্যার পর ক্লাবে উপস্থিত থেকে বিনোদন ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মতো অতি স্বাভাবিক একটি কার্যক্রমকে রাজনৈতিক রং লাগিয়ে প্রকাশ করা চরম বিভ্রান্তিকর এবং একজন ক্লাব সদস্যের জন্য অবমাননাকর।
এতে আরও বলা হয়, বিমান ও পর্যটন সচিব মো. মহিবুল হক ওই দিন (২০ নবেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হোটেল সোনারগাঁ-এ হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের (হিল) পূর্বনির্ধারিত বার্ষিক সাধারণ সভা ও পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থিত ছিলেন। এই ধরনের বিভ্রান্তির বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকার জন্য সংম্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন সচিব।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ‘গোপন বৈঠক’ করার অভিযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রতিবাদপত্র দিয়েছে। এতে বলা হয়, কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান ওইদিন অফিসার্স ক্লাবে যাননি। তাকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে।
গণকাল রোববার প্রাধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের একান্ত সচিব আবু নাইম মোহাম্মদ মারুফ খান সই করা এক প্রতিবাদপত্রে এ কথা জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, ২৪ ও ২৫ নবেম্বর প্রকাশিত বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় প্রশাসন ও পুলিশের কিছু দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ‘ভোট নিয়ে ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০ নবেম্বর রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবে একটি গোপন বৈঠক হয়’ মর্মে অভিযোগ করেন।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসানকে জড়িয়ে যে তথাকথিত বক্তব্য প্রদান করেছেন তা সম্পূর্ণ অস্যু, বিভ্রান্তিকর ও কল্পনাপ্রসূত। কেননা সংবাদের যে তারিখ ও সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেই তারিখ ও সময়ে তিনি অফিসার্স ক্লাবেই যান নাই। অথচ তাকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে, যা তার সুনাম ও সম্মানের জন্য হানিকর।
এতে আরও বলা হয়, তিনি মনে করেন, অসত্য বক্তব্য দিয়ে দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অধিকার কারো নেই। এ ধরনের অসত্য বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
জনপ্রশাসন সচিব
আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে অফিসার্স ক্লাবে কয়েকজন সচিবের ‘গোপন বৈঠকের’ যে অভিযোগ বিএনপির পক্ষ থেকে করা হয়েছে, তা নাকচ করেছেন জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ।
তিনি বলেছেন, গত ২০ নবেম্বর তিনি অফিসার্স ক্লাবেই ছিলেন না, ফলে বৈঠকে অংশ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
গতকাল রোববার জনসংযোগ কর্মকর্তার মাধ্যমে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদপত্রে জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, কল্পিত ঘটনায় জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদকে জড়িয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যে বক্তব্য প্রদান করেছেন, তা অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। যে তারিখ ও সময়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেই তারিখ ও সময়ে জনপ্রশাসন সচিব মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন শেষে রাত ৮টায় পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অফিস ত্যাগ করেন।
ওই দিন তিনি অফিসার্স ক্লাবেই যাননি অথচ তাকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে, যা তার সুনাম ও সম্মানের হানিকর।
ইসি সচিব
গণ ২০ নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের চতুর্থ তলার পেছনের কনফারেন্স রুমে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘গোপন মিটিং’ সম্পর্কে বিএনপির অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলেছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি এ ধরনের কর্মকান্ডের জন্য বিএনপিকে ভবিষ্যতে সুর্ক হতে বলেছেন।
বিএনপির দাবি অনুযায়ী ওই বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীনও ছিলেন। বিএনপির এই অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে শনিবার সন্ধ্যায় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, এটা মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগ। তিনি এসব কর্মকান্ডের জন্য বিএনপিকে ভবিষ্যতে সুর্ক হতে বলেছেন।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগের বিষয়ে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘তাদের অভিযোগ এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আপনারা জানেন, আপনারা এখানে থাকেন। আমি এখানে (ইসি ভবন) আটটা নয়টা পর্যন্ত থাকি। সংবাদ সম্মেলনে যে কথা বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ মিথ্যা একটা অভিযোগ আনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিব প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা। নির্বাচন কমিশন একটি ইনডিপেনডেন্ট বডি। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বাইরে ইসি সচিবে কোনো সত্তা নেই। সেই জন্য বলছি, বিএনপির বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি তীব্র নিন্দা জানাই। এ ধরনের মিথ্যা প্রপাগান্ডা যাতে আর না করা হয়, এ ব্যাপারে সুর্ক থাকতে বলব। বিুর্কিত করতে এবং অহেতুক চাপ সৃষ্টির জন্য, হেয় করার জন্য এসব করা হচ্ছে।’
বিএনপিকে সুর্ক করতে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমি আগামীকাল বিষয়টি কমিশন বৈঠকে তুলব, সেখানে সিদ্ধান্ত হবে।’
বিএনপির নেুা রুহুল কবির রিজভী প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিসার্স ক্লাবে বৈঠকের অভিযোগ করেছেন, তাঁদের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হকও আছেন। বিএনপির এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অফিসার্স ক্লাবে অফিসাররাই তো যাবেন। আগেও গেছেন, ভবিষ্যতেও যাবেন। এটাকে ভিন্ন খাতে নেওয়া দুঃখজনক।’
এ ব্যাপারে আরও কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। তাঁরা এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি। শুধু বলেছেন, অফিসার্স ক্লাবে সরকারি কর্মকর্তারা নিয়মিতই যান।
বিএনপির যা অভিযোগ
বিএনপির যুগ্ম-সচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঐ 'গোপন বৈঠকে' একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী ৩৩টি সিট নৌকার 'কনফার্ম আছে' এবং ৬০-৬৫ টিতে কনটেস্ট হবে, বাকী আর কোনো সম্ভাবনা নেই। "কাজেই সাংঘাতিক কিছু করা ছাড়া এটি উৎরানো যাবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ