ঢাকা, বুধবার 28 November 2018, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

হলি অর্টিজান হামলার দ্রুত বিচার শুরু করায় ইতালীর রাষ্ট্রদূতের সন্তোষ প্রকাশ

গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার কার্যালয়ে জার্মান রাষ্ট্রদূত Peter Fahrenholtz সাক্ষাৎ করেন -পিআইডি

সংগ্রাম ডেস্ক : গুলশানে ২০১৬ সালে হলি অর্টিজান বেকারিতে হামলায় জড়িতদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করায় সন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদায়ী ইতালিয়ান রাষ্ট্রদূত মারিও পালমা দেশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর কর্মকর্তাদের কর্তব্য নিষ্ঠার প্রশংসা করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রদূত এই সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ভয়াবহ ঘটনার বিচার প্রক্রিয়ায় আমাদের দেশেও সাধারণত দীর্ঘ বিলম্ব হয়। যদিও বাংলাদেশ এই ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে খুব ভালো কার্য সম্পাদন করেছে।’
হলি অর্টিজান বেকারির সেই সন্ত্রাসী হামলায় ২২ জন নিহত হয়। যাদের মধ্যে ৯ জন ছিলেন ইতালির নাগরিক।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁর লাগাতার পদক্ষেপ গ্রহণের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই হলি অর্টিজান রেকারির ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্ব আরোপ করেন, বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানান।
ইতালির রাষ্ট্রদূত এ সময় বাংলাদেশের ছবির মতন সুন্দর গ্রামীণ জনপদ বিশেষ করে বাঘেরহাট, খুলনা এবং মংলার পর্যটন কেন্দ্রগুলো, খান জাহান আলীর মাজার এবং লালন শাহের মাজার ও সেখানে বাউল মেলা প্রত্যক্ষ করা নিয়ে উচ্ছাস ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, তিনি ফকির লালন শাহের অনেক গানও নিজের মাতৃভাষায় অনুবাদ করেছেন। রাষ্ট্রদূত এ সময় কাজের জন্য বাংলাদেশী নাগরিকদের ইতালিতে বসবাসের প্রশংসা করে বলেন, তারা ইতালীয় সমাজ এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখছে, এমনকি তারা এখন কৃষিক্ষেত্রেও অবদান রাখছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে গ্রামীণ দরিদ্র জনগণের জীবনমানের পরিবর্তন এবং তাঁদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধন করা।
প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী এবং মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ অসাধারণ সম্ভাবনাময় দেশ -জার্মান রাষ্ট্রদূত
সংগ্রাম ডেস্ক : বাংলাদেশে নবনিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোলদ বলেছেন, বাংলাদেশ একটি অসাধারণ সম্ভাবনাময় দেশ। এ দেশে জার্মান ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত একথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি খুবই সম্ভাবনাময় দেশ। এ দেশে জার্মান কোম্পানিগুলো স্বচ্ছন্দে ব্যবসা করছে। তারা বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে আরো বিনিয়োগ করতে চায়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তদানিন্তন জার্মানির দুই অংশই সমর্থন দিয়েছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনেও জার্মানি ব্যাপক সহায়তা দিয়েছে।
শেখ হাসিনা বৈঠকে বিভিন্ন সময় বিশেষ করে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের পর তাঁর জার্মানিতে অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন।
জার্মান রাষ্ট্রদূত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। জার্মানি এ পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বুঝি শরণার্থীরা বাংলাদেশের জন্য একটি বোঝা। কারণ বিশ্বের অন্যান্য অংশের বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জার্মানি প্রায় ৩শ’ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছে। জার্মানির সহায়তায় বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট প্রকল্প এগিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগে জার্মান বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জার্মানির বিনিয়োগকারীরা বিশেষভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চলে তাদের শিল্প স্থাপন করতে পারেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ