ঢাকা, বুধবার 28 November 2018, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সংবাদমাধ্যমে সত্য সংবাদকে মিথ্যা বানানোর শঠতা পরিহার করতে হবে -ইব্রাহিম খালেদ

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর অর্থনীতিবিদ ড. খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেছেন, সংবাদ মাধ্যম সাধারণ মানুষের মেমোরি হিসাবে কাজ করে। এ জন্য সাংবাদিকদের উচিত পেশার মর্যাদা বজায় রাখা। সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদকে সত্য আবার সত্য সংবাদকে মিথ্যা বানানোর শঠতা পরিহার করতে হবে। সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ হতে হবে এমনটি নয়, আপনারা সত্যনিষ্ঠ হোন। সংবাদ কোনো দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। সত্য সংবাদ প্রচার করুন। ক্ষমতায় থাকাকালে কোন সরকার কি করেছে তাদের ভালো মন্দ সবকিছুই সঠিকভাবে তুলে ধরুন। সেই সংবাদের বিষয়ে জনগণ কি  সিদ্ধান্ত নেবে তাদের উপর ছেড়ে দিন। 
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জাগো বাংলা ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত 'আসন্ন নির্বাচন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা' শীর্ষক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-অর-রশিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মিজানুর রহমান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অবঃ) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, কলামিস্ট ও গবেষক সুভাষ সিংহ রায়, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুস, পিযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় জাগো বাংলা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী নাসির আহমেদ প্রমুখ।
গত দুই যুগে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শাসনামলকে নির্বাচনের আগে নির্মোহভাবে ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।
ড. ইব্রাহিম খালেদ বলেন, ২০০৮ থেকে ২০১৮ সালে দুই মেয়াদে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার আমলেই ব্যাংক লুট হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম সুশাসনের অভাবের কারণেই হয়েছে। বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর কথা তুলে ধরে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, নানা অভিযোগের পরও তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটিতে রেখেছিল সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো সরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে সরাতে পারে না। পারে শুধু বেসরকারি ব্যাংকের কাউকে সরাতে। কিন্তু চিঠি দিয়ে অনুরোধ করতে পারে।
অর্থমন্ত্রীর কাছে গভর্নরের চিঠি পাঠানোর প্রসঙ্গ তুলে সাবেক এই ডেপুটি গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বাচ্চুকে সরাতে চিঠি দেওয়া হলেও তা করেনি সরকার। আইনে লেখা আছে, সরকার এ ধরনের সুপারিশকে গুরুত্ব দেবে। কিন্তু গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং সেই চিঠি অনুযায়ী কাজ হয় নি। সেই চেয়ারম্যান তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের দিন চলে গেলেন। সরানো আর চলে যাওয়া এক কথা নয়।
এই ঘটনাটিকে অপশাসন’র উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, এই টাকা তো আওয়ামী লীগ সরকারের টাকা না, ব্যাংকের মালিকের টাকাও না। এটা জনগণের জমানো টাকা। আপনার আমলে এটা কেন হতে দিলেন? এজন্য এ সরকার দায় এড়াতে পারবে না।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচুর আলাপ ছিল, যদি জামায়াত থেকে বিএনপি আলাদা হতে পারে তবে বিএনপির একটি ভিন্ন চরিত্র পেতে পারে। কিন্তু অনেক সংঘাতের মধ্য দিয়ে আমরা দেখতে পেলাম যে, না এটা একটি মানিকজোড়। কেউ কাউকে ছাড়তে পারে না। বিএনপিও ছাড়েনা জামায়াতকে, আর জামায়াত ছাড়তে গেলে এমন ভাবে আঁকড়ে ধরে যে বিএনপির জান যায় অবস্থা। ফলে তারা একসাথে আছে এবং থাকবে। এর কারণ বোধ হয় এদের দুজনের মুরুব্বি এক জায়গায়। রাজনীতি করতে হলে টাকা-পয়সা লাগে তো। যার ফলে তাদের টাকা পয়সাসহ অনেক সহায়তা বাইরে থেকে আসে। সে জায়গা থেকে এরা দুজনে এক জায়গা থেকে সহায়তা পায়। এইজন্য কেউ কাউকে ছাড়তে পারে না।
তিনি বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি কী করেছে তা জনগণকে মনে করিয়ে দিতে হবে সাংবাদিকদের লেখনি দিয়ে। এবং ২০০৯ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ কি করেছে সেটাও আমাদের মনে করিয়ে দিতে হবে। আমরা কাউকে বলছি না যে আপনি একজনের পক্ষ নেন। আপনারা শুধু পরিবেশন করবেন খাওয়ার টেবিলের মতো। আপনারা যেহেতু মেমরি, আপনার খুঁজে বের করেন। সত্য কে সত্য লিখবেন, কোন মিথ্যে লেখার দরকার নেই। ২০ জন হলে ২০ জনই লিখবেন, ২১ জন লেখার দরকার নেই। আবার ১৮ জন্যও লেখার দরকার নেই। এত দুটো চরিত্র বের হয়ে আসবে। এবং এ থেকে কোনটি ভাল এবং মন্দ সেটি জনগণই বুঝে নেবে।
গণতন্ত্র নিয়ে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, আওয়ামী লীগ বলে আমাকে ভোট দিতে হবে এই জন্য, যাতে গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। আর বিএনপি বলে তাকে ভোট দিতে হবে এই জন্য, যাতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়। পুনরুদ্ধার অর্থ হচ্ছে এখন নাই, আগে ছিল, এখন আবার উদ্ধার করতে হবে। ২০০১ থেকে ০৬ পর্যন্ত আপনারা যখন ছিলেন, তখন যে বোমাবাজি চাঁদাবাজি হয়েছিল, সেটা কী গণতন্ত্র? গণতন্ত্র এটি একটি দৃষ্টি। অনেক কিছু আইনে লেখা থাকে আবার লেখা থাকে না এটা দেখতে হয় দৃষ্টি দিয়ে। আর সেই দৃষ্টিই হচ্ছে গণতন্ত্র। আবার গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো নির্বাচন। এজন্য নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া দরকার। জনগণের মতামত দেয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
হারুন-অর-রশিদ বলেন, গণমাধ্যম গণমানুষের হয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। গণমাধ্যম যেন কোনো দল, গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী মহলের প্রচারে ব্যবহার না হয়।
সুভাষ সিংহ রায় বলেন, সাংবাদিকরা একটু বেসামাল কথাবার্তা বলা লোকদের কভারেজ দেয়। এই নীতি থেকে সাংবাদিকদের সরে আসতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ