ঢাকা, বুধবার 28 November 2018, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

আদালতকে ব্যবহার করে বিরোধী জোটকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে চায় ক্ষমতাসীন আ’লীগ -মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আদালতকে ব্যবহার করে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচন থেকে প্রতিহতের জন্যই দলের নেতাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে হাইকোর্ট রায় দিয়েছে। ‘নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে বিচারিক আদালতে কোনো ব্যক্তির দুই বছর বা তার বেশি মেয়াদে সাজা হলে ওই দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল চলাকালে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না’- হাইকোর্টের এ আদেশে এমন প্রতিক্রিয়া জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, যড়যন্ত্রের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার এ চক্রান্ত জনগণ মানবে না। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গুলশানে দলীয় চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
দুর্নীতির দায়ে বিচারিক আদালতের দেয়া দণ্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে আমান উল্লাহ আমানসহ বিএনপির পাঁচ নেতার আবেদন খারিজের আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানান আদালত। ফলে বিএনপি চেয়াপার্সন খালেদা জিয়াসহ আমান উল্লাহ আমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, আব্দুল ওহাব ও মশিউর রহমান আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতের ওই আদেশের পর নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আপিলে খালাস পেলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। নির্বাচনে অংশ নিতে হলে তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্তির পরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের আগে দেশের বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে উচ্চ আদালতের রায়ে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, এ রায় জনগণ ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। ঐক্যফ্রন্ট ও নির্বাচন প্রতিহত করতেই এ রায় দেয়া হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, নির্বাচনের আগেই চেয়ারপার্সন মুক্তি পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। কিন্তু সরকার আদালতকে ব্যবহার করে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এ রায় দেয়া হয়েছে।
এদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল এবং নতুন মিত্র জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের ৬০টির বেশি আসন দেয়া হবে না বলেও জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১ টার দিকে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসায় ফ্রন্টের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টন নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দলগুলোর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।  তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনের আসন বণ্টন নিয়ে গণফোরামসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দলগুলোর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকে ইশতেহার বিষয়ে আলোচনা হয়। আজ বুধবার ইশতেহার চূড়ান্ত করা হতে পারে। এছাড়া গণফোরামের মনোনয়ন তালিকা প্রকাশ হতে পারে।
নিন্দা ও প্রতিবাদ: গতকাল দুপুরে পাবনা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ইশ^রদি পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুকে ঢাকা থেকে র‌্যাব গ্রেফতার করেছে। কিন্তু র‌্যাব জাকারিয়া পিন্টুকে গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে কব্জায় নিয়ে গণতান্ত্রিক আচার আচরণ তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দম্ভে অগণতান্ত্রিক পন্থায় দেশ শাসন করছে। জনগণকে উপেক্ষা করে দেশ শাসনের ফলে বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার জনগণ থেকে সম্পূর্ণরুপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে ধারাবাহিকভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে, অপহরণ করে গুম করা হচ্ছে। আর তারই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ইশ্বরদি পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুকে র‌্যাব গ্রেফতার করলেও গভীর উদ্বেগের বিষয় এই যে, তাকে গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করা হচ্ছে। সরকার নির্বাচনের আগে জনগণকে ভয় পাইয়ে দিয়ে ভোটের ফলাফল জোর করে নিজেদের অনুকূলে নিতেই আইন শৃঙখলা বাহিনীকে দিয়ে বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যা, অপহরণ ও গুমের মাধ্যমে ভয়ঙ্কর কর্মকা- অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী সরকার ভুলে গেছে যে, যুগে যুগে নিষ্ঠুর স্বৈরাচারদের ভাগ্যে কি পরিণতি ঘটেছে। আমি অবিলম্বে জাকারিয়া পিন্টুকে সুস্থ অবস্থায় জনসমক্ষে হাজির করে পরিবারের নিকট ফিরিয়ে দেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ