ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 November 2018, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ডেসটিনির সম্পত্তি দখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডেসটিনির বিনিয়োগকারীদের উদ্যোগে ডেসটিনির পরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল আমীনসহ শীর্ষ পরিচালকদের মুক্তির দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের নিজস্ব সম্পত্তি বেদখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারী ও পরিবেশকরা। তাদের অভিযোগ ডেসটিনির ক্রয় করা সম্পত্তি পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় কুচক্রী মহলের দখলে চলে যাচ্ছে। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ডেসটিনির বিনিয়োগকারী ও পরিবেশকরা এ অভিযোগ করেন। এ সময় ডেসটিনির শীর্ষ পরিচালকদের মুক্তিরও দাবি জানান উপস্থিত প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারী ও পরিবেশকরা।
সাংবাদিক সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম নামে ডেসটিনির একজন বিনিয়োাগকারী লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘ডেসটিনির কেনা বিভিন্ন বাগানের গাছ ও জমি দখল করে নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। এছাড়া, রাজধানীর আনন্দ ও ছন্দ সিনেমা হলের কোনও আয়-ব্যয়ের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। এই সিনেমা হল থেকে মাসে ২০-২৫ লাখ টাকা আয় হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এই অর্থ ডেসটিনির ক্রেতা ও পরিবেশকরা পাওয়ার কথা থাকলেও তা পাচ্ছেন না। আদালতের নির্দেশে পুলিশকে তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দেওয়া সত্ত্বেও স্থাপত্য ও অর্থ লুটপাট ও  ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’
ডেসটিনির সম্পত্তি দখল ও অর্থ আত্মসাতের বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কলাবাগান থানা এলাকার ৮৯ বীর উত্তম সি আর দত্ত রোডের নাসির ট্রেড সেন্টারের ৬ ও ৭ ও ৮ তলায় ডেসটিনি গ্রুপের কার্যালয় ছিল। সেখান থেকে উন্নতমানের অফিস ফার্নিচার, অত্যাধুনিক কম্পিউটার সার্ভার সিস্টেম, আধুনিক ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মিলে প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের জিনিসপত্র ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে গেছে ভবনটির মালিক পক্ষ।
তিনি আরও বলেন, ‘কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে ১৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে চার তারা মানের একটি হোটেল অষ্টম তলা পর্যন্ত কাঠামো নির্মাণ শেষে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এটি ধংস হবার পাশাপাশি মাদক সেবন ও অনৈতিক কাজের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। খুলনা শহরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৭ তলা এবং বরিশাল শহরে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৬ তলা বাণিজ্যিক ভবনের ভূ-গর্ভস্থ অংশের নির্মাণ কাজ সমাপ্তির পর বন্ধ হয়ে গেছে। এসব জায়গায় একটি কুচক্রী মহল মাছ চাষ করছে। রাজধানীর কাকরাইলে রাজমনি ঈশা খাঁ ভবনের পাশে এবং উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের সামনে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির জায়গা পুলিশ কমিশনারের হেফাজতে থাকা অবস্থায় সেখানে জোর করে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে এবং ভবন তৈরির কাজ চলছে। চট্টগ্রামের লামায়, বান্দরবানের পাইতং, হাটহাজারী ও সাতকানিয়ায় ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন প্রজেক্টের বাগান অরক্ষিত থাকায় বনদস্যুরা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ গাছ কেটে নিয়ে গেছে। এছাড়া, বিভিন্ন জেলা শহরে ডেসটিনির ব্যয় বহুল সাজসজ্জাপূর্ণ অফিসগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ