ঢাকা, সোমবার 3 December 2018, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রপ্তানী বৃদ্ধিতে আরো তৎপর হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সংগ্রাম ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উত্তোরণের সুযোগ গ্রহণ করে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি রপ্তানী বাণিজ্য বৃদ্ধিতে তাঁদের কর্মতৎপরতা আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা যে সুযোগটা পেয়েছি তাতে আমাদের ঋণ গ্রহণের সুবিধা হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা হবে।’
তিনি বলেন, ‘যে বিশাল সুযোগ আমাদের সৃষ্টি হবে রপ্তানী বাণিজ্য করার, সেই সুযোগটা আমাদের গ্রহণ করতে হবে। আর তার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রোববার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় রপ্তানী ট্রফি ২০১৫-১৬ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
 শেখ হাসিনা বলেন, এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে অন্য যে সুযোগগুলো আমরা পাই সেগুলো হয়তো পাব না, তাতে আমাদের কোন অসুবিধা হবে না। কারণ, সেভাবেই আমরা আমাদের নীতিমালাসহ সবকিছু প্রণয়ন করেছি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সভাপতিত্ব করেন।
এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন।
অনুষ্ঠানে ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য ও খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের জন্য ৫৬টি প্রতিষ্ঠানকে ‘জাতীয় রপ্তানি ট্রফি’ প্রদান করা হয়।
দল-মত নির্বিশেষে তাঁর দরজা ব্যবসায়ীদের জন্য সবসময় খোলা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেশ-বিদেশে ঘোরেন, আপনারাও খুঁজে বের করুন কোন দেশে আমাদের দেশের কোন কোন পণ্য রফতানি করা যায়।
তিনি বলেন, ‘বাজারকে খুঁজে নেওয়া এবং পণ্যটাকে তৈরি করা, সেটাও কিন্তু আপনাদের একটা দায়িত্ব। সেই ক্ষেত্রে যদি কোনো রকম সহযোগিতা লাগে, অবশ্যই সরকার হিসাবে আমরা তা করব।’
আসন্ন নির্বাচনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘যদিও সময় এখন সীমিত। আগামীতে ইলেকশন, কী হবে বলতে পারি না! যতক্ষণ আছি ততক্ষণে যা যা প্রয়োজন সেটা করে দিতে পারব, সেইটুকু কথা দিতে পারি।’
 শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী ইলেকশনে কী হবে তা বলতে পারি না। তবে আমরা যে একটা সিস্টেম করে রেখেছি, এরপর যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন কেউ দেশের উন্নয়নে বাধা দিতে পারবে না। বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়াকে আর কেউ থামাতে পারবে না।’
রপ্তানি বাণিজ্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান নিয়ামক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার অব্যাহতভাবে রপ্তানিতে উচ্চ-প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ সালে যেখানে রপ্তানি আয় ছিল ১০ দশমিক পাঁচ-দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১৭-১৮ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ দশমিক ছয়-সাত বিলিয়ন ডলার হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গোটা বাংলাদেশ যাতে উন্নত হয়- সেদিকে লক্ষ্য রেখেই কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সব সময় চাই, আমাদের দেশটা এগিয়ে যাক। তাঁর সরকার ব্যবসাবান্ধব, তবে নিজেরা ব্যবসায়ী নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সবসময়ই বলে এসেছি আমার সরকার ব্যবসা করবে না। ব্যবসা করবেন ব্যবসায়ীগণ। আমরা সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করব। আমরা আপনাদের সৃজনশীল প্রয়াসে সহায়তাকারীর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি। আমরা সরকারে এসে ব্যবসা-বাণিজ্যটা যাতে ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ হয় সেই ব্যবস্থাটা করে দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৩৫টি পণ্যে ২ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা প্রদান এবং রপ্তানি শিল্পের কাঁচামাল আমদানির জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ)-এর সংস্থান করা হয়েছে।
বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি সব সময়ই দেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার লাভের বিষয়টি তুলে ধরেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, এর ফলে আমরা চিলি, ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে শুল্কমুক্ত পণ্যের প্রবেশাধিকার লাভ করেছি। জাপান ও রাশিয়ায় জিএসপি সুবিধার পরিধি বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছি। বাজার বহুমুখী করার জন্য ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ার দেশসমূহে রপ্তানি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছি। তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের ফলে সমগ্র বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য উন্মুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলায় প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মেয়েরা তো এখন বেশি এগিয়ে এসেছে। তাই আরও ভালোভাবে শিক্ষিত করে, ট্রেনিং দিয়ে একটা শক্তিশালী জনগোষ্ঠী সৃষ্টি করে তাদের শ্রম ও মেধা কাজে লাগিয়ে দেশকে আরও উন্নত করতে পারব। সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা ছিল। ইতোমধ্যে আপনারা জানেন এলএনজি আমদানি শুরু করে দিয়েছি। ফ্লোটিং এলএনজি টার্মিনাল করা হয়েছে। কিন্তু আমরা এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি ল্যান্ড বেইজ এলএনজি টার্মিনাল করবো। যাতে গ্যাসের আর কোন সমস্যা কোথাও না থাকে। যাতে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও সুবিধা হয়।
তিনি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের খ-চিত্র তুলে ধরে বলেন, আমি শুধু এইটুকুই বলব, আজকে আমাদের অর্থনীতি যথেষ্ট মজবুত। আমাদের যে উন্নয়ন প্রকল্প তার ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা অর্জন করেছি এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। উন্নত দেশের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।
আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্প্রসারণে তাঁর সরকারের প্রচেষ্টা সমূহ তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশকে আমরা উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত দেশ হবে বাংলাদেশ- সেই পরিকল্পনা নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, আমরা ২০২১, ২০৪১ এবং ২১০০ ডেলটা প্ল্যান হাতে নিয়েছি। এই ডেলটা প্ল্যান নেদারল্যান্ড সরকারের সাথে যৌথভাবে বাস্তবায়ন করব। যার ফলে বাংলাদেশের এই এগিয়ে যাওয়া আর কেউ থামাতে পারবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ