ঢাকা, সোমবার 3 December 2018, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

তথাকথিত পার্বত্য শান্তিচুক্তি নামে অসাংবিধানিক কালোচুক্তি বাতিলের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদ ও পার্বত্য নাগরিক পরিষদের যৌথ উদ্যোগে পার্বত্য শান্তি চুক্তি (কালো চুক্তি) বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
গতকাল রোববার হাইকোর্টের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় এই দাবি জানায়। পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের নেতা সাহাদাত ফরাজি সাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথি ছিলেন, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামুন ভূঁইয়া। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা শেখ মোহাম্মদ রাজু, নাগরিক পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কবি ফাতেমা খাতুন রুনা, পিবিসিপির পেনেল সভাপতি ইব্রাহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদাল হামিদ রানা, সিনিয়র সহসভাপতি সারোয়ার জাহান খান, সাধারণ সম্পাদক মো: সাহাদাত ফরাজি সাকিব প্রমুখ।
পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলকাছ আল মামন ভূঁইয়া বলেন, শান্তির জন্য করা চুক্তির কারণে অশান্তি আরো বেড়েছে, আগে চাঁদা দিতে হতো একটি সংগঠনকে এখন দিতে হয় তিনটি সংগঠনকে, অনির্বাচিত জেলা পরিষদ লুটপাটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। তাই এটা ভেঙ্গে দিয়ে দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে তথাকথিত শান্তি চুক্তি (১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির নামে অসাংবিধানিক পার্বত্য কালো চুক্তি করা হয়েছে) বাতিল করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের  বৈষম্য মূলক উপজাতীয় কোটা বাতিল করে পার্বত্য কোটা চালু করতে হবে। আঞ্চলিক পরিষদসহ সকল জেলা পরিষদে শীঘ্রই নির্বাচন দিতে হবে। জাতীয় সংসদে সংশোধিত পার্বত্য জেলা পরিষদ (সংশোধনী) আইন-২০১৬ ইং বাতিল করতে হবে এবং সর্বক্ষেত্রে বাঙ্গালীদের সমঅধিকার বা সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যাহারকৃত সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন করতে হবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের র‌্যাব এবং সেনাবাহিনী দিয়ে অভিযান চালিয়ে সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। সন্ত্রাসের গডফাদার জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তুলারমা গং কর্তৃক লালিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ভিতর পার্টির  (জেএসএস, ইউপিডিএফ, জেএসএস সংস্কার) কর্তৃক চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, সন্তু লারমা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর একজন নেতা সন্তু লারমা।
মানববন্ধনে বক্তারা, সন্তুলারমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে, সাম্প্রতিক সন্তুলারমা পার্বত্য জেলাকে অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে অচল করে দেওয়ার কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
প্রধান অতিথি আরোও বলেন, উদ্দেশ্যে ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিনিধি আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ ও জনসংহতি সমিতির সভাপতির স্বাক্ষরিত তথাকথিত শান্তি চুক্তির নামে আদালত কর্তৃক ঘোষিত অসাংবিধানিক কালোচুক্তি করা হয়েছিল তা এক পক্ষীয় ও সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক। তিনি আরোও বলেন, সন্তুলারমা একজন রাষ্ট্রদ্রোহী, যুদ্ধাপরাধী, সন্ত্রাসী ও ত্রিশ হাজার নিরস্ত্র বাঙ্গালী হত্যার নির্দেশদাতা। তিনি অবিলম্বে সন্তুলারমাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ