ঢাকা, সোমবার 3 December 2018, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনার ছয়টি আসনে মহাজোট প্রার্থীর বিপক্ষে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী কারা এমন প্রশ্ন সর্বমহলে

খুলনা অফিস : একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের আমেজ এখন চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বস্থানে। নির্বাচনে কোনো দলের কে চূড়ান্ত প্রার্থী হয়েছে। আবার ঐক্যফ্রন্টের কে চূড়ান্ত প্রার্থী হচ্ছেন এমন প্রশ্ন গোটা খুলনাবাসীর মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। যতই প্রার্থীতার জন্য গ্রুপিং ও লবিং করুক না কেন আগামী ৯ ডিসেম্বর চূড়ান্তভাবে বেরিয়ে আসবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের খুলনার ৬টি আসনের বিপরীতে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কারা নির্বাচনে লড়বে?

খুলনার সংসদীয় ৬টি আসনে ৫১জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে খুলনা-১ আসনে ৭ জন, খুলনা-২ আসনে ৯ জন, খুলনা-৩ আসনে ৭ জন, খুলনা-৪ আসনে ৯ জন, খুলনা-৫ আসনে ৭ জন এবং খুলনা-৬ আসনে ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

খুলনা-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী পঞ্চানন বিশ্বাস, বিএনপির প্রার্থী আমীর এজাজ খান, জাতীয় পার্টির সুনীল শুভ রায়, সিপিবির অশোক কুমার সরকার, ওয়ার্কার্স পার্টির গৌরাঙ্গ প্রসাদ রায়, ইসলামী আন্দোলনের আবু সাঈদ, স্বতন্ত্র হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত ননী গোপাল ম-ল।

খুলনা-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা আবদুল আউয়াল, সিপিবির এইচ এম শাহাদাৎ হোসেন, জাকের পার্টির কে এম ইদ্রিস আলী বেল্টু, মুসলীম লীগ এস এস ইসমাইল আলী, জাতীয় পার্টির এস এম এরশাদুজ্জামান ডলার, বিএনএফের এস এম সোহাগ ও গণফ্রন্টের মনিরা বেগম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করাকালে এরশাদুজ্জামান ডলারের মনোনয়নপত্রটি বাতিল করা হয়েছে। 

খুলনা-৩ আসনের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ মনোনীত বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, বিএনপির রকিবুল ইসলাম বকুল ও এস এম আরিফুর রহমান মিঠু, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক, বাসদের জনার্দন দত্ত, জাকের পার্টি এস এম সাব্বির হোসেন ও জেএসডির আ ফ ম মহসীন।

খুলনা-৪ আসনের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ মনোনীত আবদুস সালাম মুর্শেদী, বিএনপির আজিজুর বারী হেলাল ও শরীফ শাহ কামাল তাজ, ইসলামী আন্দোলনের ইউনুস আহমেদ শেখ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কে এম আলী দাদ, খেলাফত মজলিসের এস এম সাখাওয়াত হোসেন, জাকের পার্টির শেখ আনসার আলী, বিএনএফের শেখ হাবিবুর রহমান ও জাতীয় পার্টির এম হাদিউজ্জামান।

খুলনা-৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ মনোনীত নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বিএনপির ড. মামুন রহমান, ডা. গাজী আবদুল হক ও  জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় পার্টির সাঈদ আলম মোড়ল, সিপিবির চিত্ত রঞ্জন গোলদার ও ইসলামী আন্দোলনের শেখ মুজিবুর রহমান।

খুলনা-৬ আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আকতারুজ্জামান বাবু, বিএনপির জেলা সভাপতি এডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা ও মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু ও মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, জেএসডির আইয়ুব আলী, ইসলামী আন্দোলনের গাজী নূর আহমেদ, সিপিবি’র সুভাষ চন্দ্র সাহা, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট মির্জা গোলাম আযম, জাকের পার্টির শেখ মোর্তজা আল মামুন, স্বতন্ত্র সুব্রত কুমার বাইন ও মো. আবদুল কাদের।

এদিকে লেভেলপ্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, গণগ্রেফতার বন্ধ এবং অংশগ্রহণমূলক অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ হেলাল হোসেনকে ৭দফার স্মারকলিপি দিয়েছে নগর বিএনপি। শনিবার খুলনা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে গিয়ে তারা স্মারকলিপি তুলে দেন। এতে স্বাক্ষর করেন নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। স্মারকলিপির দফাসমূহ হলো প্রতিদিন নির্বাচনী আইন সরকারি দল ভঙ্গ করে বড় বড় নির্বাচনী সভা করছে, যানবাহনে পোস্টার, স্টিকার লাগিয়েছে নতুন করে দেয়ালের পোস্টার এখনো অপসারিত হয়নি। নির্বাচনী আচারণবিধি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী শাস্তির দাবি। সিটি মেয়র দু’টি গাড়ি নির্বাচনী প্রচারণায় খুলনা শহর ও রামপাল-মংলায় ব্যবহার করছে, এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ঢেলে না সাজানোর কারণে বর্তমান সরকারের দশ বছরে সরকারি দলের নেতাদের তদবিরে রাজনৈতিক বিবেচনায় খুলনায় আগতরা তাদের হুকুমের গোলামে পরিণত হয়েছে। এদের সরিয়ে নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়তে হবে। নির্বাচনী কর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিবেদন প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে এবং সরকারি দলের সমর্থক ও একটি বিশেষ ধর্মের মানুষদের প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দাকোপ বটিয়াঘাটা থেকে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের খুলনা শহরে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া বন্ধ করা। বিগত ভোট ডাকাতির মেয়র নির্বাচনী ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের সিংহভাগ নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে সৎ সাহসী খুলনা শহরে বসবাসকারীদের নিয়োগের পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে নির্বাচনে নিয়োজিত সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ বর্তমান প্রশাসন বিগত ভোট ডাকাতির নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। 

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামরুজ্জামান জামাল বলেন, প্রতিটি আসনে একাধিক প্রার্থী থাকলেও মনোনয়ন ঘোষণার পরই নৌকার সমর্থনে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ খুলনা-২ আসনে নতুন প্রার্থী শেখ জুয়েলের পক্ষে দলীয় কর্মকা-ে বর্তমান সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমানকে সক্রিয় দেখা গেছে। ওয়ার্ড ও উপজেলা পর্যায়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সকলে অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি খুলনার উন্নয়নে ও আগামী প্রজন্মের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষ একযোগে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ জুয়েল।

খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সরকারি দলের সমর্থক দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা থেকে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নির্বাচনী কাজে খুলনা মহানগরীতে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে নির্বাচনে নিয়োজিত সেনবাহিনীকে কাজে লাগাতে হবে। এছাড়া বিগত মেয়র নির্বাচনে ২৮৯টি ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা বিতর্কিত প্রিজাইডিং ও পুলিশ অফিসারদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে।

খুলনার ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিপক্ষে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের কে প্রার্থী হিসেবে যোগ্য এমন প্রশ্ন এখন চায়ের দোকান শুরু করে সকল স্থানে। আগামী ৯ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থীদের হিসাব নিকাশ মিলবে।

নির্বাচনী মোবাইল টিম কর্তৃক জরিমানা : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ উপলক্ষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিধিমালা প্রতিপালনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার খুলনার নির্দেশে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছেন। তার অংশ হিসেবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে শুক্রবার ও শনিবার ১৭টি মোবাইল কোর্ট টিম নির্বাচনী আইনসহ বিভিন্ন আইনে মোট ৩০ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করেন। নির্বাচন বিধিমালা প্রতিপালনের জন্য খুলনা জেলায় ২০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ