ঢাকা, সোমবার 3 December 2018, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শাসকরা যেভাবে জনবিছিন্ন হয়ে পড়ে

ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের অযোধ্যায় রামমন্দির বানাবেই। এ বিষয়ে তারা মরিয়া। কিন্তু সেখানকার চাষীরা মন্দির নয়, দু’বেলা পেট পুড়ে খেতে চান। এটাই তাদের প্রাণের দাবি। ‘দিল্লি চলো’ ডাকে সাড়া দিয়ে গত শুক্রবার দিল্লির সংসদ মার্গ চত্বরে সমবেত হয়েছিলেন হাজারো দরিদ্র কৃষক। রামলীলা ময়দান, আনন্দ বিহার, নিজামুদ্দিনসহ কয়েক জায়গায় রাত কাটিয়ে সকল ১০টায় শুরু হয় ‘কিষান মুক্তি মার্চ’। তাদের দাবি ঋণ মওকুফ আর জমিতে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম।
আনন্দবাজার-এ পহেলা ডিসেম্বরে মুদ্রিত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত শুক্রবার দিল্লির সমাবেশে গোটা দেশ থেকে এসেছিল পঁয়ত্রিশ হাজার কৃষক। তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে দিল্লীবাসী। আলিগড়ের ডাক্তাররা চিকিৎসা করেছেন। আইনজীবীরা ব্যবস্থা করেছেন খাবার ও পানি। বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রগতি ময়দানে কাজ করতে আসা শ্রমিকরাও কৃষকদের সাহায্য করেছেন সাধ্যমতো। সমাবেশে আসা উত্তরপ্রদেশের পিলভিটের আখচাষী বিক্কর সিংহের ঋণের পরিমাণ ৭ লাখ রুপি। এত টাকা ঋণের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, চিনি কলগুলো আখ কিনে তিন বছর পর দাম দেয়। সে জন্যই ধার করতে হয়। প্রশ্ন জাগে, দিল্লীবাসীসহ সাধারণ শ্রমিকরাও চাষীদের সাহায্যে হাত বাড়িয়েছে, কিন্তু সরকার কাঙ্খিতভাবে কৃষকদের সাহায্যে হাত বাড়াচ্ছে না কেন?
প্রতিবেদনের আলোকে মনে হয় সরকার যেন কৃষকদের ভাষা বুঝতে পারছেন না। ফলে সম্পর্কে একটা ফাটল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  উল্লেখ্য যে, রামমন্দিরের দাবিতে গত শনিবার থেকে দিল্লীতে রথযাত্রা শুরু করে উগ্রপন্থী হিন্দুদল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। এ নিয়ে বিন্দুমাত্র উৎসাহ নেই ওই অঞ্চলের চাষীদের। তাদের বক্তব্য, মন্দির দেখিয়ে আর বোকা বানানো যাবে না আমাদের। দীর্ঘপথ হেঁটে দিল্লীর সমাবেশে এসেছেন তেলেঙ্গানা রাজ্যের কবিতা। তিন বছর আগে দেনায় ডুবে আত্মহত্যা করেছেন তার স্বামী কাসাইয়া। তাই এখন রামমন্দির নয়, পেটে ভাতই একমাত্র চিন্তা কবিতার। আনন্দবাজারের প্রতিবেদন থেকে উপলব্ধি করা যায়, ক্ষমতাপাগল শাসকরা কিভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এখান থেকে সবারই শেখার বিষয় আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ