ঢাকা, সোমবার 3 December 2018, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চোরের দশদিন গৃহস্থের একদিন

খান মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী : গ্রাম্য সে প্রবাদ বাক্যটি আজ বার বার মনে পড়ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেমন প্রায়ই বলে থাকেন “চোরের মার বড় গলা”, তেমনি “চোরের দশদিন আর গৃহস্থের একদিন” কথাটি হয়তো তাঁর মুখ দিয়েই বের হবে। কথাটার মূল বক্তব্য হলো দশদিন তুমি বলে বা করে যাবে একদিন অন্যরা ঠিকই এর জবাব দিবে। দেশে নানা রকম ইস্যু তৈরি হয়, বড় ধরনের একটি ইস্যু জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ইস্যু শেষ হয়নি এর মধ্যে চরিত্র ইস্যুটি আলোচনায় চলে এসেছে। ২১ অক্টোবর রাতে এক টকশোতে দর্শক প্রশ্ন করেছিলেন “চরিত্রের সার্টিফিকেট কোন দোকানে পাওয়া যায়? তখন প্রথমে এর উত্তর শোনার জন্য অপেক্ষা করলাম কিন্তু কোনো আলোচক এর জবাব দিলেন না। সংগত কারণেই মনে পড়ে গেলো মরহুম সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কথা। যতটুকুই লেখাপড়া করেছি, ছাত্র একেবারে খারাপ ছিলাম না বলে অনেক কথা মনে থাকে। তিনি মহান সংসদে বলেছিলেন ‘মাননীয় স্পীকার দেশে এক আজব মেশিন বের হয়েছে যে মেশিনের একদিক দিয়ে রাজাকার ঢুকালে অন্যদিক দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বেরিয়ে আসে।” এতদিন পর কথাটি মনে হলো এ কারণে, যখন শুনতে হয় বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী রাজাকার ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী রাজাকার ব্যরিস্টার মইনুল হোসেন, ড. কামাল হোসেন আর আ স ম আবদুর রবকে এখনো রাজাকার না বললেও “ছোট শৌল বলেছে টাকি বলার বাকি কি”, এ অবস্থায় আছে। ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন কোন রাজনৈতিক ব্যক্তি নন তার বাবাও সরাসরি রাজনৈতিক নেতা না থাকলেও কে না চিনে তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে? যিনি বঙ্গবন্ধুর হাতকে কেবল শক্তিশালীই করেননি বরং নেপথ্যের রূপকার ছিলেন। মানিক মিয়া এভিনিউ আজ যে মানিক মিয়ার নামে ধন্য সে মানিক মিয়ার সন্তানই মইনুল হোসেন। জাতীয় সংসদ ভবনটি যে জায়গায় অবস্থিত তাও মানিক মিয়ার। জানতে ইচ্ছে হয় দেশের জন্য যাদের এত বড় অবদান। তাদেরকে যদি তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হয় তখন তারা সংযম রক্ষা করতে ব্যর্থ হন অনেক সময়। তবে মইনুল সাহেবের কথাটা আরো সুন্দর হলে ভালো হতো তা বলেছেন তার ভক্তরাও। সাংবাদিক শওকত মাহমুদ বলেন, “মইনুল সাহেবের এমন উক্তি সরাসরি করা ঠিক হয়নি আবার এ নিয়ে যত ঝড় তোলা হয়েছে তাও একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে”। টকশোতে পাপিয়া বলেন, যখন একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে আত্মমর্যাদায় আঘাত করে কথা বলা হয় তখন তারা উত্তেজিত হয়ে যান তাদের রক্ত গরম হয়ে যায়। ওই ভদ্র মহিলার এমন প্রশ্ন করা ঠিক হয়েছে কিনা আবার মইনুল সাহেবের এমন উক্তি ঠিক হয়েছে কিনা সে বিষয়টি নিয়ে মুন্সিয়ানা করার কোনো যোগ্যতা আমার নেই। তবে মানুষ এ নারীকে কতটা জানে তা আমার জ্ঞানের বাইরে। আমি যে তাকে চিনি না তা হলফ করেই বলতে পারি। টিভিতে কতজন উপস্থাপন করেন তাদের সবার নাম জানা আমার সাধ্যের বাইরে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে এ নারী বিশ্বময় পরিচিত হয়ে গেলেন তাতে লাভ তো তারই হলো। এখন কৌতুহলী মানুষ এ নারীর পরিচয় জানতে চাইবে বা চাচ্ছেও। কোনো নারীর চরিত্র নিয়ে উক্তি করা যেমন অপরাধ তার ব্যক্তিগত বিষয় ও চরিত্র সম্পর্কে জানতে চাওয়াও অনধিকার চর্চাই বটে। তবে তার চরিত্র সম্পর্কে জানার পর যখন দেখা যাবে তিনি একজন পবিত্রা সতী-সাধ্বী নারী তখন জনগণ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে কতই না ধিক্কার দিবে। মানুষ বলবে হায় এমন একজন নারী যিনি পূত-পবিত্র তার সম্পর্কে এমন মন্তব্য করা একজন প্রথিত যশা ব্যারিস্টারের পক্ষে মোটেও ঠিক হয়নি। তখনও লাভ হবে এ সম্মানিত ভদ্র মহিলার। তসলিমা নাসরিনও এ নারীর চরিত্র নিয়ে মন্তব্য করেছে এমন সব খোঁড়া যুক্তি দিয়ে সবকিছু জায়েজ করা সম্ভব নয়। তসলিমা নাসরিনদের মতো নারী যে দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন নাস্তিক্যতা আর শালীনতা বর্জিত কথার জন্য। তারা যাকে খারাপ বলবে আর অমনি সে খারাপ হয়ে যাবে এমনটি মনে করার সুযোগ নেই বরং কেউ কেউ মনে করছেন তসলিমা নাসরিন যাকে খারাপ বলেছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে সে খারাপ হতেই পারে না। আর যদি তার ব্যক্তিজীবনে কোনো দুর্বল দিক থেকেও থাকে তা জনসম্মুখে বলাও উচিত নয়। আমাদের ব্যক্তিগত চরিত্র, রাজনৈতিক চরিত্র কার কেমন তার সার্টিফিকেট নীলক্ষেতের কম্পিউটারের দোকানে পাওয়া গেলেও প্রকৃত অবস্থা আমাদের অজান্তেই রয়ে যায়। সময় হলে মানুষের আসল চরিত্র এমনিতেই বেরিয়ে আসে। আবার গল্প মনে পড়ে গেলো। এক লোকের গাছের কাঁঠাল চুরি হলে এলাকায় বিচার বসে। তখন সন্দেহভাজন চোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও সে সত্য কথা বলতেছিলো না। গ্রাম্য বিজ্ঞ সালিশ ব্যক্তি বলে ফেললেন, “এত কথা বলার কি দরকার? যে কাঁঠাল চুরি করেছে তার মাথায় কাঁঠালের আঠা লেগেই আছে, হঠাৎ চোর ব্যক্তি মাথায় হাত দিলো। অমনি বিচারক বললেন, তুমি মাথায় হাত দিয়েছো এর অর্থ হলো তুমিই কাঁঠাল চুরি করেছো”। চোর আর যায় কোথায় সবাই বলা শুরু করলো “চোরের দশ দিন আর গৃহস্থের এক দিন।” বিশ্ব নন্দিত দেশবরেন্য আলেম আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর চরিত্র নিয়ে যখন কথা সাজানো হয় তখন এক ব্যক্তি মহান সুপ্রিম কোর্টকে অপবিত্র করার দুর্বিসহ নিয়ে বলেছিলো “এই সাঈদী আমার ছোট দু’বোনের ইজ্জত নষ্ট করেছে।” ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল “৭১ সালে আপনার বয়স কত?” তিনি উত্তর দিয়েছিলেন ১২ বছর। শিক্ষাগতযোগ্যতা সনদে তার বয়স এমনটিই ছিলো তবে তার ছোট দুবোনের বয়স তখন কত ছিলো? জিজ্ঞেস করা হলে চোরদের সিঁদ কাটার কথা জিজ্ঞেস করলে যা হয় ঠিক তেমনটি হয়েছিলো। আরেক জন উন্নত চরিত্রের লোক সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে এসেছিলো। তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো, “আপনি তো গরু আর মুরগী চুরি করতেন কথাটা কি ঠিক”। সে উত্তর দিয়েছিলো তা প্রমাণ হয়নি। অন্যকে বিপদে ফেলানোর জন্য বিভিন্ন সময় যাদেরকে ফিটিং করা হয় অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের অপকর্ম ধরা পড়ে যায় এর নাম “চোরের দশ দিন গৃহস্থের একদিন।” ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে উত্তেজিত করার জন্য যার যোগ্যতা কাজে লাগানো দরকার তাকেই ফিটিং করা হয়েছিলো। দুর্ভাগ্য আমাদের ভদ্রলোক এ বিষয়টি বুঝতে পারলেন না। কার কোন বিষয় দুর্বলতা আছে মানুষ সে বিষয়টি কাজে লাগাতে চায়। জনাব এরশাদ যখন ক্ষমতায় তার নিকট থেকে তখন কোন কাজ আদায় করার জন্য নাকি তাদেরকেই প্রেরণ করা হতো যাদের প্রতি ওনার একটু সহানুভুতি ছিলো। মুন্নি সাহা একটি সাক্ষাৎকারে জনাব এরশাদকে প্রশ্ন করেছিলো “নারীদের প্রতি আপনার একটা দুর্বলতা আছে, এটা কেন।” তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, তুমি বিদিশার কথা বলছো? আমি তোমাকে দেখাতে পারবো সেই আমাকে প্রথম চিঠি দিয়েছিলো। প্রেসক্লাবে সাংবাদিকগণ একবার জিজ্ঞেস করেছিলেন “নারীর প্রতি আপনার টান, এটা কেন”? সাবেক এ রাষ্ট্রপতি উত্তর দিয়েছিলেন, “আল্লাহ আমাকে এত সুন্দর একটা চেহারা দিয়েছেন যে, নারীরা আমাকে দেখলে পাগল হয়ে যায়, আমার কি দোষ বলেন?” যথার্থই তিনি বলেছেন, যেমনটি বলেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতারা। জামায়াতের দেওয়া ফর্মূলা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে, জামায়াতের সাথে আমরা যাইনি বরং জামায়াতই আমাদের পিছে হেঁটেছে। আমাদের পিছনে যদি কেউ হাটে আমরা কি নিষেধ করতে পারি? কত সুন্দর যুক্তি। পত্রিকায় একটি বিশাল লেখা দেখলাম ‘মাসুদা ভাট্টিকে জাতীয় ঐক্য ভাঙ্গার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। লেখাটি পড়িনি কারণ এ বিষয় পড়ার কোন আগ্রহই আমার নেই, ছিলোও না। ছিলো না বলছি এ জন্য যে, যখন থেকে মঈনুল হোসেন অভিযুক্ত হয়েছেন তখনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাসুদা ভাট্টির জীবনী প্রচারিত হচ্ছিল। সেগুলোও আমি পড়িনি। আমার প্রশ্ন হলো টকশোতে বলা হলো মঈনুল হোসেন প্রকাশ্যে একজন নারীর চরিত্র নিয়ে কথা বলেছেন এবং নারী সমাজকে অপমানিত করেছেন”। কৌতুহলী মানুষ হওয়ার দরুন দু’টি বিষয় জানতে খুবই ইচ্ছে হলো। একটি হলো, হৃদয় আঘাত লাগলে নারী সমাজের আর সোচ্চার হলে বেশি পুরুষ সমাজ এটা কেন? আবার ভাট্টিকে প্রকাশ্যে মানহানিকর কথা বলেছেন, এমন বক্তব্যই শোনা যায়, কিন্তু কেউ বললেন না হায় এমন পুত-পবিত্র সতী-সাধ্বি নারী সম্পর্কেও এমন কথা কেউ বলে? আরো জানা গেলো ম্যাডাম তসলীমা নাসরিনও নাকি এ মাসুদা সম্পর্কে এমনটিই বলেছিলো। এমন ভালো মানুষ সম্পর্কে কেন এত বিভ্রান্তিকর উক্তি করা হবে? তবে কি দার্শনিকদের পরিকল্পনা এমনই ছিলো যে মঈনুল হোসেন যার সম্পর্কে কিছু বলার ক্ষমতা রাখেন তাকে দিয়েই উত্তেজিত করতে হবে, এরপর সে প্রশ্নের জবাব দেওয়ার অপরাধেই তাকে মোটা শিকের মধ্যে লকাপে রাখার মহা-সুযোগ পাওয়া যাবে। প্রয়াত: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জনাব আনিসুল হক ৯৬ এর জাতীয় নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ টেলিভিশনে একটি অনুষ্ঠান পরিচালনা করছিলেন, যার নাম ‘স-বিনয় জানতে চাই।’ ক্যারিশমাটিক উপস্থাপক জামায়াতের তৎকালীন সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে প্রশ্ন করেছিলেন, আপনারা সৎলোকের শাসন চান, পাকিস্তানীরা কি সৎলোক ছিলো?’ জনাব নিজামী উত্তর দেওয়ার জন্য এর প্রেক্ষাপট বলতে চাওয়ার সাথে সাথে জনাব আনিসুল হক বলেন, “এক কথায় বলতে হবে ‘সৎ ছিল কি না?’ তখন জনাব নিজামী বললেন, ‘না সৎ ছিল না’। আর যায় কোথায়? তিনি বললেন, ‘আপনারা সৎলোকের শাসন চান অথচ অসৎ লোকদের সমর্থন করেছিলেন।’ ৯৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় তখন জামায়াতের বর্ষীয়ান জননেতা অধ্যাপক গোলাম আযমকে জনকণ্ঠ পত্রিকা প্রশ্ন করেছিল, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যার খবর পাওয়ার পর আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল।’ এমনসব প্রশ্ন করাই হয় মানুষকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য। যদিও অধ্যাপক গোলাম আযম যোগ্য নেতার মত উত্তর দিয়েছিলেন। যেমন ‘শেখ মুজিবুর রহমান যখন নিহত হন তখন আমি লন্ডনে আমার ছেলের বাসায় অবস্থান করছিলাম। লন্ডনে বসে বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকায় জনগণের যে প্রতিক্রিয়া দেখেছি আমার প্রতিক্রিয়া তার চেয়ে ভিন্ন নয়। জনাব মুজাহিদ সাহেবকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘আপনারা যুদ্ধাপরাধী’। তিনি উত্তরে বলেছিলেন, ‘দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই।’ একথা নিয়ে পুরো দেশটা তোলপার। বুদ্ধিজীবীরা যখন দেখলো মুজাহিদ সাহেব হাওয়ার ওপর দিয়ে কথা বলেননি। সিমলা চুক্তির মধ্যদিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের যেমন ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে, আবার বর্তমান বাংলাদেশ তথা পূর্ব পাকিস্তানে কোনো যুদ্ধাপরাধী হয় কীভাবে। তখন তারা সুর ঘুরিয়ে দিয়ে বললো, যুদ্ধাপরাধীর বিচার করছি না, বিচার করছি মানবতা বিরোধী অপরাধের। প্রশ্ন করার দু’টি দিক রয়েছে। একটি হলো জানার জন্য অন্যটি হলো অন্যকে ঠেকিয়ে দেয়া বা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়ার জন্য। আমার বড় ভাইয়ের বড় ছেলে মতি, সাধারণ বা ধর্মীয় শিক্ষার সাথে কোনো দিন পরিচিত হতে পারেনি। হঠাৎ একটি পীরের দরবারে যায়। যেখানে একটি বাড়তি সুবিধা হলো নামায না পড়লেও সমস্যা নেই। আমার সে আদরের ভাতিজা আমাকে বলে ‘কাকা কি বলেন, আমার সাথে কথা বলতে না হয় সাঈদী সাহেবকেই আনবেন।’ অনেক ছাত্রছাত্রী আছে শিক্ষককে ঠেকানোর জন্য বইয়ের মাঝখান থেকে একটি অংক বা এমন কোনো ইংরেজি পড়াতে বলে যেন প্রস্তুতি না থাকার দরুণ সে বিব্রতকর অবস্থায় পরে। এমন সব চরিত্রের মানুষদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা আল্লাহর রাসূলের সামনে যেমন উঁচ্চকণ্ঠে  আওয়াজ করবে না আবার ইহুদি ও নাসারাদের মত প্রশ্নবানে জর্জরিতও করবে না।” সেসব চরিত্রের লোকদেরই বর্তমানে জয় জয়কার, তারা প্রশ্ন করে অন্যদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়ে- রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায়। জোট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণকারী এক ছাত্রের মা-বাবাকে প্রবোধ দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছেন।’ এখনো আমাদের কেউ মারা গেলে গ্রাম্য মুরুব্বীরা একথা বলেই আমাদেরকে সান্ত্বনা বা প্রবোধ দেন। অথচ একথার জন্য আন্দোলনে উত্তাল দেশ। আলতাফ হোসেনের মন্ত্রীত্ব যায় যায়, আর বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় একটি শিশু যখন ওয়াসার পাইপে পরে গেল, তখন বলেছিলেন, ‘এ কূপে তেলাপোকা আর ব্যাঙ ছাড়া কিছুই নেই।’ এরপর একজন সাধারণ ব্যক্তি সে কূপ থেকেই তার আবিষ্কৃত জাল দিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে। এতে মন্ত্রী মহোদয়ের কোনো দোষ হয়নি। দোষ হয়নি যখন মহিউদ্দিন খান আলমগীর সাহেব বলেছিলেন, ‘রানা প্লাজার পিলার ধাক্কা দিয়ে বিল্ডিং ফেলে দেয়া হয়েছে।’ দোষ হয় না যখন বলা হয় চার হাজার কোটি টাকা কিছুই না, আবার একই মুখে বলা হয়, এক লাখ টাকা অনেক টাকা। এদেশে তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া একটি নাম একটি ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তার কি অবদান তা জাতি জানে। সে মহান ব্যক্তির সন্তানদের যখন সামাজিক রীতিনীতি অমান্য করে এমন প্রশ্ন করা হয়, যা তার জন্য খুবই বিব্রতবোধের কারণ হয়। তখন তার উত্তরও রীতি বহির্ভূত হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে উত্তরদাতা আর প্রশ্নকর্তা দুজনই দোষী নয় কি? তবে কেন একজনের মানহানি হবে অন্যজনের কি কোনো মান সম্মান নেই? শেষ করতে চাই যে কথাটি দিয়ে তা হলো, অন্যের জন্য গর্ত করলে কি হয় তা একটি নাটকের মধ্যে দেখানো হয়েছিল। এক চোর ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি করতো, ঢাকনাবিহীন ম্যানহোলেই তার আদরের সন্তানটি পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে। তাই বলা হয়, চোরের দশ দিন আর গৃহস্থের একদিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ