ঢাকা, সোমবার 3 December 2018, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে দেশীয় মাছের সন্ধানে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির মেয়েরা

তাড়াশ : ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মেয়েরা বিলে নেমেছে মাছ ধরছে -সংগ্রাম

শাহজাহান তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) : সারা বছর শ্রম বিক্রি করে পরিবার চলে চলনবিলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির মেয়েরা। খেত খামারে মাঠে ময়দানে সারা বছর ছুটে চলে ওরা পেটের জন্য খাদ্যের সন্ধানে। এমনি একটি দৃশ্য দেখা যায় চলনবিলের সলঙ্গার ছোট্র একটি খালে ক্ষুদ্র  গোষ্ঠির নারীদের দেশীয় মাছ ধরতে।
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গাতে দেশী প্রজাতি মাছের সন্ধানে মহাউৎসবের সাথে মাছ শিকার করছে ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠীর মেয়েরা। আমশড়া, বেতুয়া, চুনিয়াখা, শ্যামিঘণ, লক্ষিপুর, চকঝুরঝুরি, বোয়ালিলা, খেইশ্বরসহ বিভিন্ন গ্রামের খাল, বিল প্রভাবশালীদের দখলের কারণে নাব্যতা হ্রাসে পরিণত হয়েছে মরা খালে।  এই সমস্ত খালে এক সময়ে পাওয়া যেতো প্রচুর পরিমাণ দেশীয় প্রজাতের হরেক রকমের মাছ।  যা গোলসা, মাগুর, মোয়া, টেংরা, বোয়াল, শোল, গজার, পঁটি, ননদোইসহ অনেক প্রজাতির মাছ। আজ দেশীয় মাছতো দুরে কথা একটা পোকাও পাওয়া জায়না। সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউপি চৈত্রহাটির নৃগোষ্ঠির মেয়েদেরকে খেইশ্বর খালে মাছধরতে দেখা যাই। খৈইশ্বর গ্রামর পরভত আলী এই প্রতিনিধিকে জানান,যে উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর করতোয়া নদীর সংযোগ শাখা খালগুলি এক সময়ে কর্মচঞ্চল ছিল।  এই খাল দিয়ে এক সময়ে এলাকার মানুষ জনেরা এলাকার বিভিন্ন হাট- বাজারে যা আমশড়ার হাট, কালিবাড়ির হাট, কেশনাদীঘির হাট, উনুখার হাট, সলঙ্গার হাটগুলিসহ এলাকার বিভিন্ন হাটে নৌকা যোগে যাতায়াত করে কেনাকাটা করতো। এতে সড়ক পথের চেয়ে খরচ কমহতো  এমনকি দুর্ঘটনাও কমহতো। এছাড়া এই খাল, বিলগুলি দিয়ে চলতো কয়েক ইউনিয়নে  মানুষজন। তাছাড়া একমাত্র যোগাযোগের বাহন ছিল নৌকা বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, এই অঞ্চল ছিল এক সময়ে সর্ববৃহৎ মৎস্যভান্ডার পাওয়া যেতো বিভিন্ন প্রকারের  দেশীয় প্রজাতির ছোট বড়  মাছ। মলা, ঢেলা, মৌছি, চ্যালা, সরপুঁটি, খলসা,বাচা, শিং মাগুর, কৈ, দারকিনা, পটকা, গজার,  চিংড়ি, শৌলসহ নাম না জানা দেশি প্রজাতির  সামুদ্রিক মাছ যা জেলেরা ধরে এমনকি তা সংরক্ষণ করে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসত। এই প্রজাতি  মাছ পাওয়া যেত মূলত হাওড়, বাঁওড়, খাল, বিল, নদী ও বিস্তৃত জলসীমাতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ