ঢাকা, বুধবার 5 December 2018, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নবেম্বর মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : নবেম্বর মাসে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র বিতরণ, প্রার্থী চূড়ান্ত, মনোনয়নপত্র দাখিল ও প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলো ব্যস্ত ছিল। অন্য দিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার দলীয় প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় ডিজিটালী যুক্ত হওয়া নিয়ে প্রতিপক্ষ বেশ সরব ছিল। আবার বেগম খালেদা জিয়ার প্রার্থী হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক ময়দান বেশ সরগরম ছিল। এ মাসে ২০১টি রাজনৈতিক ঘটনার তথ্যে নিহতের সংখ্যা ১৪। এই ১৪ জনের ১২ জনই খুন হয় আওয়ামী লীগের হাতে, ছাত্রলীগের হাতে ১ ও ইউপিডিএফ-এর হাতে ১ জন। মাসটিতে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় প্রাপ্ত তথ্যে আহত হয় ২২৩ জন এবং গ্রেফতার অনেক বেশী হলেও ৩০৪৩ জনের খবর পাওয়া গেছে বাকিদের তথ্য পাওয়া যায়নি, গ্রেফতারকৃতরা অধিকাংশই বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে দন্ডপ্রাপ্ত ৬ জন, এই ৬ জনের মধ্যে ছাত্রলীগ ৩ ও বিএনপির ৩ জন।
নবেম্বর মাসে প্রাপ্ত তথ্যে নিহত যারা- (১) ঢাকার মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে গাড়ী চাপায় সুজন ও (২) আরিফ হামে দু’জন নিহত হয়, (৩) নরসিংদীর রায়পুরায় নিলক্ষা ও বাঁশগাড়ী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের দু’টি সংঘর্ষে তোফায়েল হোসেন রানা, (৪) রেদোয়ান, (৫) সোহরাব হোসেন ও (৬) স্বপন খুন হয়, (৭) নরসিংদীর রায়পুরায় ১৬ নবেম্বর সংঘর্ষের সময় নিখোঁজ কাউছার ও (৮) আব্দুর হাইয়ের লাশ উদ্ধার, (৯) সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আওয়ামী লীগ নেতার হাতে যুবলীগ নেতার ভাই আনোয়ার কাজী খুন, (১০) কুমিল্লা সদরে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন খুন, (১১) নাটোরের লালপুরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী দ্বন্দ্বে যুবলীগ নেতা জাহারুল ইসলাম খুন হয় এবং (১২) বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে তাঁতী লীগ নেতা খলিলুর রহমান শেখ নিহত হয়, (১৩) বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট ছাত্র নাঈম ইসলাম হত্যায় ছাত্রলীগ নেতা আতিকসহ আটক ৫ জন এবং (১৪) রাঙ্গামাটির লংগদুতে ইউপিডিএফ-এর হাতে জেএসএস নেতা রাজা চাকমা খুন।
আওয়ামী লীগ : ৩ নবেম্বর পিরোজপুরের নাজিরপুরে দেউলবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সমর্থক অলি উল্লাহ বিলম্বে স্কুলে আসার কারণে লোকজনের সামনে মনোহরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আইজ উদ্দিন রানাকে পেটান। শিক্ষক রানার পানি পথে কচুরীপানার কারনে স্কুলে আসতে বিলম্ব হয়। ২ নবেম্বর বাগেরহাটের চিতলমারী সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আউলিয়া শেখ আওয়ামী লীগের স্থানীয় জনসভায় যোগ না দেয়ায় তার চেম্বার কাম ওষুধের দোকান পুড়িয়ে দেয় আওয়ামী লীগের লোকজন। ৪ নবেম্বর রংপুর আদালতে হাজিরা দিতে গেলে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলার স্বীকার হয় কারাগারে আটক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেন। এ সময় তারা তাকে কিল ঘুষি মারে, ডিম ও জুতা স্যান্ডেল ছুড়ে মারে। ১০ নবেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুরে নবোদয় হাউজিং এলাকায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে দু’গ্রুপের সংঘর্ষের সময় গাড়ী চাপায় সুজন ও আরিফ নামে দু’জন নিহত হয়। ঢাকা-১৩ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক ও মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সময় এই ঘটনা ঘটে। মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করতে যাওয়ার সময় সাদেক খানের গাড়ী বহরে এ হামলায় ঘটনায় আরো ১০ জন আহত হয়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনী হত্যাকান্ড শুরু হয়।
১২ নবেম্বর ঢাকার কেরাণীগঞ্জ উপজেলায় তারানগর ইউনিয়নে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি দুলাল মিয়ার উপর হামলা করে জেলা আওয়ামী লীগ সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকের নেতুত্বে শাওন, মজিবর, সিফাত ও সাব্বিরসহ ১৭-১৮ জন। এ সময় তারা দুলাল মিয়ার মটর সাইকেল পুড়িয়ে দেয়। ১৪ নবেম্বর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আলেখ রাজার জমি দখল করে মূল্যবান গাছ কেটে রাতের আধারে দলীয় অফিস বানায় আওয়ামী লীগ। ১৫ নবেম্বর মাদারীপুরের কালকিনিতে সড়ক ও জনপথের জমি দখল করে মার্কেট নির্মান করে আওয়ামী লীগ পৌর সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র এনায়েত হোসেন এবং মীর মামুন। শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আইউব আলীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করায় বিএনপি কর্মী গোলাম মোস্তফাকে লাঞ্ছিত করে আইউব আলী ও তার লোকজন।
১৬ নবেম্বর নরসিংদীর রায়পুরা বাঁশগাড়ী ও নিলক্ষা এলাকায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের দু’টি সংঘর্ষে তোফায়েল হোসেন রানা, সোহরাব হোসেন, স্বপন মিয়া ও রেদোয়ান নিহত হয় এবং সুমন মিয়া ও মামুন মিয়াসহ অপর ৫০ জন আহত হয়। বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম সিরাজুল হক গ্রুপ ও মরহুম শাহেদ সরকার গ্রুপ এবং নিলক্ষা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা তাজুল ইসলাম গ্রুপ ও আব্দুল হক গ্রুপের মধ্যে দু’টি সংঘর্ষে এ হত্যাকান্ড হয়। ঘটনার সময় কাউছার ও আব্দুল হাই নিখোঁজ হয়। ১৭ নবেম্বর নরসিংদীর রায়পুরায় ১৬ নবেম্বর দুই হত্যাকান্ডের পর ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার ও ১৩ জনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- বালুয়াকান্দি গ্রামের ডাঃ আনিসুল ইসলাম লিটন, মঙ্গল মিয়া, মাইনুদ্দিন, রাসেল, মামুন মিয়া, রুবেল, সালাহ উদ্দিন, সফর উদ্দিন, জিয়া উদ্দিন, চরমধুয়া গ্রামের গয়েস আলী, কামাল, দানা মিয়া ও খাজা আলী সিকদার। বরিশালের গৌরনদীতে নলচিড়া ও পিংলাকাঠি বাজারে আওয়ামী লীগের ২টি হামলায় ৭ যুবদল ও ছাত্রদল নেতা আহত হয়। আওয়ামী লীগ উপজেলা যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাফিজ মৃধার নেতৃত্বে শতাধিক নেতা-কর্মী ৪০-৫০টি মটর সাইকেলে করে এ হামলা চালায়। তাদের হামলায় নলচিড়ার যুবদল নেতা নুরুজ্জামান সরদার, জসিম গাজী ও ছাত্রদল নেতা সুমন সরদার এবং পিংলাকাঠি বাজারে হামলায় ছাত্রদল নেতা সাদ্দাম গাজী, ইলিয়াস গাজী, লাল মিয়া গাজী ও বিএনপি কর্মী সোহরাব গাজী আহত হয়। ২১ নবেম্বর সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে জলমহল নিয়ে দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা এবং ভাটিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান কাজী গ্রুপের হাতে ভাটিপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি সানোয়ার কাজীর ভাই আনোয়ার কাজী নিহত এবং স্বাধীন কাজী, সানোয়ার কাজী, হিরো কাজী ও পাকুল কাজীসহ ১৫ জন আহত হয়। ২২ নবেম্বর নরসিংদীর রায়পুরায় ১৬ নবেম্বর আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের সময় নিখোঁজ কাউছার ও আব্দুল হাইয়ের লাশ গোপীনাথপুর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীর লিয়াকত আলীর মাছের ঘের থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মানিকপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ৪ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন সরকার ও আলাউদ্দিন গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়।
২৬ নবেম্বর নোয়াখালীর হাতিয়ায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ফরিদপুর মোর্শেদ মার্কেট, ফরিদপুর গ্রাম ও জাহাজমারা সেন্টারে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী গ্রুপ ও মাহমুদ আলী রাতুল গ্রুপের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। ফরিদপুরের নগরকান্দায় আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মনোনয়ন না পাওয়ায় তার সমর্থকরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক আবরোধ ও বিক্ষোভ করে। রাজশাহীর বাগমারায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে দলীয় দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়। আহতরা হলো- শ্রীপুর গ্রামের আলাল উদ্দিন, চেউখালী গ্রামের খোরশেদ আলম, শমসের আলী, আজাদ, জাহাঙ্গীর আলম, তেলীপুর গ্রামের দুলাল হোসেন, শরীফ উদ্দিন ও আব্দুল হালিমসহ ১০ জন। জামালপুর সদরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত রেজাউল করীম রেজাকে মনোনয়ন প্রদানের দাবীতে কাফনের কাপড় পরে সড়ক অবরোধ করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। একই দাবীতে কুড়িগ্রামে শাপলা চত্বরে ‘নৌকা চাই’ দাবীতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে আওয়ামী লীগ। এই আসনটি জাপাকে ছেড়ে দেয়ায় এখানে বিক্ষোভ হয়। নাটোরের গুরুদাসপুরে এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস পুনরায় প্রার্থী হওয়ায় খুশীতে সড়ক বন্ধ করে পথসভাা করে আওয়ামী লীগ, ফলে যান চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-আশুগঞ্জ আসনটি জাপাকে ছেড়ে দেয়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে আওয়ামী লীগ। ঝালকাঠির রাজাপুরে সাবেক এমপি বি.এইচ হারুনকে মনোনয়ন দেয়ায় বিক্ষোভ ও ঝাড়– মিছিল করে আওয়ামী লীগ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপনের নেতৃত্বে দলীয় প্রতিপক্ষ গ্রুপ। কুমিল্লা সদরে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে জেলা ছাত্রলীগ সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন খুন হয় বলে তার ভাই জাকির হোসেন দাবী করে।
২৭ নবেম্বর নেত্রকোনার দূর্গাপুর-কমলাকান্দা আসনে অন্য জেলা থেকে আসা মানু মজুমদার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করে। পুলিশ সেখান থেকে ৬ জনকে আটক করে। কুষ্টিয়া-২ আসন দৌলতপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আফাজ উদ্দিন দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার তার সমর্থকরা তারাগুনিয়া বাজারে ৩ দিন ধরে সড়কে বিক্ষোভ ও আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে। ফেনী-২ আসনে জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতারকে মনোনয়ন দেয়ায় প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ করে। ২৮ নবেম্বর নাটোরের লালপুরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষে এমপি আবুল কালাম আজাদের সমর্থক মঞ্জু ও মাসুদ রানাসহ কয়েকজনের হামলায় যুবলীগ উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক জাহারুল ইসলাম খুন হয়। মনোনয়ন বঞ্চিত আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি এ্যাডঃ আবুল কালাম আজাদ ও সাগর আহমেদ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে এই হত্যাকান্ড ঘটে। হামলায় প্রান্ত ও তুহীন আহত হয়, পুলিশ ফিরোজ আল হক ভূঁইয়াকে আটক করে। এ সময় প্রতিপক্ষ জাহারুল ইসলামের হাত পায়ের রগ কেটে দেয়। নরসিংদীর বেলাবতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী দ্বন্দ্ব ও সংঘর্ষে ৭ জন আহত হয়। আওয়ামী লীগ নেতা এ.এইচ.এম আসলাম গ্রুপ ও নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে জামান শাহীন, শারমিন আক্তার খালেদা, নান্টু. জনি, ইদ্রিস মিয়া, জুলহাস ও মোস্তফা আহত হয়।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় বিএনপি নেতা-কর্মীদের উপর আওয়ামী লীগের হামলা। তাদের হামলায় যুবদল নেতা আব্দুল জব্বার খান, জালাল উদ্দিন বিদ্যুৎ, ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন হাওলাদার, ইউসুফ সরদার, স্বপন মৃধা, খান শামীম, আবু তাহের, এনায়েত সরকার, হারুন-অর-রশীদ, যুবদল নেতা স্বপন বেপারী, কামাল ঢালী, পিন্টু ঢালী, সজিব ঘরামী, মুজাহিদ, আল-ইসলাম, নজরুল ইসলাম ঢালী ও জুয়েল ঢালীসহ ২০ জন আহত হয়। এ সময় তারা বিএনপির ২০টি মটর সাইকেল ভাংচুর ও ১০টি মটর সাইকেল ছিনিয়ে নেয়। বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে মনোনয়নপত্র জমা দান কালে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী হাশেম রাঢ়ী, কাজী মাকসুদুর রহমান, কাজী জহির উদ্দিন নিশাত, কামাল তালুকদার, আল-আমিন জমাদ্দার, মহির হাওলাদার, হোসেন তালুকদার ও জুবায়েরসহ ২০ জন আহত হয়। ৩০ নবেম্বর কুমিল্লার মুরাদনগরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সুবিদ আলী ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে বিএনপি নেতা ডঃ খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সুবিদ আলী ভূঁইয়া গৌরীপুরে বিরাট আকারে বিল বোর্ড স্থাপন করে যা আচরণ বিধির খেলাফ। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে হরিণধরা গ্রামের আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলে তাঁতী লীগ নেতা খলিলুর রহমান শেখ নামে একজন নিহত হয়। নিহত খলিল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আমিরুল আলম মিলনের সমর্থক।
ছাত্রলীগ : ৪ নবেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সম্পাদক নাহিদ হাসান সুজনের কুটকৌশলে এস.এম হলের ক্যান্টিন বয় সেলিম হোসেন, দুলাল হোসেন ও মিজানুর রহমান এখন কারাগারে। উল্লেখ্য, ১৯ অক্টোবর ভোর রাতে ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে নাহিদ হাসান সুজনের প্ররোচনায় তামার তার চুরি করায় তারা আটক হয়। ৫ নবেম্বর ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান গেটের বিপরীদ দিকে কথা কাটাকাটির জেরে এক ঘোড়াগাড়ী চালকের মাথা ফাটিয়ে দেয় ছাত্রলীগ কর্মী নূরে আলম, আশিক, হিমু ও গৌরব। ৭ নবেম্বর বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার আসামী ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগ সহ-সভাপতি শাকিল ইসলাম রাব্বি, জল্লা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি মামুন শাহ, কাউছার সেরনিয়াবাদ, এরশাদ হাওলাদার, আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদার, হাদিরুল ইসলাম, দিপু ও সোহাগকে পুলিশ আটক করে। ওরা সকলেই ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতা কর্মী। ৯ নবেম্বর রাজশাহী শহরে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণ করে ছাত্রলীগ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আল-ফারুক নামে এক ছাত্রকে সোহরাওয়ার্দী হলের ১৯১নং কক্ষে জিম্মি করে ২০ হাজার টাকা চাঁদাবাজী করে ছাত্রলীগ নেতা শাফিন ও নাঈম ইসলাম।
১১ নবেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হলে ২০৪নং কক্ষ থেকে আমান সাদিক, আব্দুল আলিম ও নূর মোহাম্মদ ফরহাদের সীট দখল করে ছাত্রলীগ হল সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানীর অনুসারীরা। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় মধ্যনগর থানা ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। ছাত্রলীগ নবগঠিত থানা আহবায়ক ওয়াসিব ইরতিজা আলভী গ্রুপ ও থানা ছাত্রলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম খান গ্রুপের মধ্যে এই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। ১৩ নবেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল কর্মী রাফিউল ইসলাম জীবনকে মারপিট করে রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ ও মেহেদী হাসান। ঢাকার সরকারী মাদ্রাসা-ই আলিয়ায় কামিল ২য় বর্ষের ফরম ফিল আপ করতে জনপ্রতি জোর পূর্বক ৫০০ টাকা চাঁদা নেয় ছাত্রলীগ।
ছাত্রলীগ সভাপতি শাহাদাত হোসাইনের নেতৃত্বে এই চাঁদাবাজী করা হয়। ১৫ নবেম্বর ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে ছাত্রলীগ কর্মী আল-সাদিক, তৌহিদুল ইসলাম শান্ত ও আশিকুর রহমানকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ।
১৬ নবেম্বর বগুড়ার সারিয়াকান্দি কাচাঁ বাজারের পাশ থেকে গাবতলীর মড়িয়া গ্রামের পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউটের ছাত্র নাইম ইসলামকে কে বা কারা গলা কেটে হত্যা করে।
পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত মর্মে সারিয়াকান্দি পৌর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক অন্তর শ্রাবন বিশু, আতিক, মনির ও বাবুসহ ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে ১৮ নবেম্বর পুলিশ অন্তরের বাসা থেকে নিহত নাঈমের রক্তমাখা জামা, জুতা, মানি ব্যাগ, শিক্ষা আইডি কার্ড, রক্তমাখা ছুরি, ঘরের মেঝেতে রক্ত ও মেঝে খোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। রংপুর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীকে উত্যাক্ত করার প্রতিবাদ করায় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিক রাব্বি হাসান সবুজকে পেটায় ছাত্রলীগ নেতা গোলাম মোর্শেদসহ কয়েকজন। ১৮ নবেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে আসা রাষ্ট্র বিজ্ঞান প্রথম বর্ষের ছাত্র ও ছাত্রদল কর্মী মেহেদী হাসানকে কলা ভবনের পিছনে পেটায় ছাত্রলীগ বিজয় একাত্তর হল সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ইউনুছ। ২৪ নবেম্বর চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের সংঘর্ষে তানভীর ও হিমেল ঘোষ আহত হয়।
২৫ নবেম্বর ঢাকার সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিনতাই কালে ৫ ছাত্রলীগ কর্মী ইয়া রাফিউ সিকদার আপন, সোহেল রানা, মোস্তাফিজুর রহমান, সজীব ও আসিফ আহমেদকে বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকা থেকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা কর্মীরা। প্রক্টর বলেন তারা ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত এমন প্রমান পাওয়া গেছে এবং পূর্বেও তাদের নামে ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল। ২৬ নবেম্বর বরিশালের গৌরনদীতে ছাত্রলীগ দু’গ্রুপের দ্বন্দ্ব এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক সংঘর্ষ হয়। ছাত্রলীগ নেতা সুমন মাহমুদ ও ইমরান মিয়া গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষে রাসেল ফকির, সৈয়দ দিদার, সুজন সরদার, চয়ন সরদার, ইমন, ইয়ামিন মিয়া, রায়হান, রাব্বি মিয়া ও মিলনসহ ১০ জন আহত হয়। ভোলার চরফ্যাশনে আয়শাবাদ গ্রামে বিএনপির নির্বাচনী সভায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলায় ১০ জন আহত হয়।
যুবলীগ : ৬ নবেম্বর নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে ওএমএস ডিলার ও যুবলীগ উপজেলা যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জালাল শাহের খাটের নীচ থেকে ১০ টাকা দামের ৫০ কেজির ১৬ বস্তা চাল উদ্ধার করে ইউএনও মনির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ।
১৩ নবেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয় যুবলীগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানান যুবলীগের নামে একটি প্রতারক চক্র ‘গ্রামীণ সার্ভিস’ নামে একটি ভূঁইফোড় প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করে চাকরী দেয়ার নামে প্রতারণা করছে। ১৮ নবেম্বর কিশোরগঞ্জের ভৈরবে যুবলীগের হামলায় বিএনপি অফিস, দোকানপাট ও যানবাহন ভাংচুর এবং বিএনপির ১টি সভা পন্ড করে। চন্ডীবের মধ্যপাড়া অফিসে বিএনপির কর্মী সভা চলাকালে যুবলীগের হামলায় তাদের অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করা হয়। এ সময় তাদের হামলায় এসআই অভিজিৎ চৌধুরী, কনষ্টবল আব্দুল হাকিম ও আব্দুর রহমানসহ ১০ জন আহত হয়।
২১ নবেম্বর বরিশালের গৌরনদীতে দৈনিক নব অভিযান ও দৈনিক বরিশালের আলো প্রত্রিকার প্রতিনিধি মেহেদী হাসান ও তার ভাই ইয়ামিন রাব্বীর উপর হামলা চালায় পৌর যুবলীগ নেতা মামুন মিয়া ও রাশেদ হাওলাদারসহ কয়েকজন। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেনকে পিটিয় আহত করে যুবলীগ-আওয়ামী লীগ। উল্লেখ্য, ১৯ নবেম্বর যুবলীগ একই ভাবে স্বেচ্ছাসবক দল চরএলাহী ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক সুমনকে পিটিয়ে আহত করে। ২৫ নবেম্বর মৌলভীবাজারের রাজনগরে যুবলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের সংবাদ পরিবেশন করায় দৈনিক যায়যায় দিন উপজেলা প্রতিনিধি ও রাজনগর প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেনের উপর হামলা করে যুবলীগ নেতা কামরুজ্জামান হাম্মাদ, শহীদ মিয়া ও রাসান মিয়াসহ কয়েকজন। ২৯ নবেম্বর ভোলায় লালমোহন ডাওরী বাজারে যুবদলের গাড়ী বহরে যুবলীগের হামলায় আহত ১৫ জন। হামলায় আহতরা হলো- জেলা যুবদল সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন, সহ-সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সেলিম, যুগ্ম-সম্পাদক মোস্তফা কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মনির হোসেন, যুবদল নেতা নকীব, জিয়াউর রহমান পলাশ, মাসুম, সুফিয়ান, সুজন, জেলা ছাত্রদল সভাপতি নূরে আলম, ছাত্রদল নেতা বাপ্পি, আমির হোসেন, সোহরাব ও আব্দুর রহমান। এ সময় হামলাকারীরা ২টি মাইক্রবাস ভাংচুর করে।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ : ১৭ নবেম্বর মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী রাজারচর এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল আলিম খানের লোকদের হাতে দীঘিরপাড় ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ হাওলাদারসহ আহত ২০ জন।
বিএনপি : ১ নবেম্বর ঝিনাইদাহের শৈলকুপা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র খলিলুর রহমান, মনোহরপুর ইউনিয়ন সভাপতি আমজাদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মামুন জোয়ার্দারকে আটক করে পুলিশ। খুলনা মহানগরী থেকে পুলিশ বিএনপির ১৯ নেতা-কর্মী থেকে আটক করে। আটককৃতরা হলো- সদর থানার আসলাম হোসেন, জি.এম মহিউদ্দিন, নাছির উদ্দিন, খালিশপুর থানায় আল-মামুন, বাচ্চু, সরোয়ার হোসেন, রিয়াজ, দৌলতপুর থানায় সিদ্দিকুর রহমান সিকো, রায়হান, শামীম আজাদ মিলু, রবি, আলমগীর হোসেন, আড়ংঘাটা থানায় অমল সরকার, হাসান এবং খানজাহান আলী থানায় শহীদুল ইসলাম, মুন্না, নূর ইসলাম, হৃদয় ও নাহিদ। ৩ নবেম্বর খুলনা মহানগরী বিএনপির ১৪ নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে। আটককৃতরা হলো- ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামরান হাসান, রফিকুল ইসলাম, সাব্বির খান দ্বীপ, মাসুম খান বাদল, সিদ্দিকুল্লাহ, শুকুর আলী, মুজিবর রহমান, সেলিম বড় মিয়া, হুমায়ুন কবীর, কালু, মতি, আরিফুর রহমান শিমুল, মিজানুর রহমান ও সন্দ্বিপ। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া পুলিশ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাশার সরকারকে আটক করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ