ঢাকা, বুধবার 5 December 2018, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রতিহিংসার রাজনীতি অবশ্যই বর্জনীয়

মো. আফজাল হোসেন : প্রতিহিংসার রাজনীতি দেশকে সংঘাতময়, সংঘাতসংকুল করে তুলতে বড় রকম সহায়ক ভূমিকা পালন করে। দেশের সার্বিক শান্তি, সার্বিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ রাজনীতি পরিহার না করতে পারলে কখনই জনগণ স্বস্তিবোধ করতে পারবে না। গণতন্ত্রে নির্বাচন অপরিহার্য। নির্বাচনে যে কোন এক পক্ষ জয়ী হবে অপর পক্ষ পরাজিত হবে। যে পক্ষ জয়ী হবে সে পক্ষের দায়িত্ব পারাজিত পক্ষের দায়িত্ব থেকে শতভাগ বর্ধিত। এ কারণে ক্ষমতাসীন দল তথা পক্ষ পরাজিত দল বা পক্ষের প্রতি উদার আচরণ করতে ব্যর্থ হলে দেশে শান্তি স্বস্তি কখনই প্রতিষ্ঠিত হয় না, হতে পারে না। আমরা খুবই দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি, দেশে সংঘাতময় রাজনীতিই দিনের পর দিন পক্ষ বিস্তার করে চলেছে, যদ্দরুন দেশের নানাস্থানে মিছিল, মিটিং, বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এবং নাশকতামূলক কর্মকা- প্রায় প্রতিনিয়ত সংঘটিত হচ্ছে। বাংলাদেশ একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্ভাবনাময় মুসলিম রাষ্ট্র। এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদের অপরিসীম ভান্ডার তেমনি রয়েছে খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য। কিন্তু যথাযথ ব্যবস্থাপনার অপ্রতুলতা, অস্থিরতা অসহযোগিতা ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের দরুন এ উন্নয়নশীল দেশটির সার্বিক উন্নতি পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, বিঘিœত হচ্ছে। অথচ দেশের জনগণের একমাত্র কমনা, ক্ষমতাসীন দল তাদের জন্য সম্ভবপর সকল শান্তি ও স্বস্তিমূলক ব্যবস্থার আঞ্জাম দিক। জনগণের এ কামনা, এ চাওয়া পাওয়া কখনই অযৌক্তিক নয়, নিরর্থক নয়, বরং অতিশয় যুক্তিগ্রাহ্য এবং অর্থবহ। কারণ জনগণের ভোটেই সরকার নির্বাচিত হয়েছে, ক্ষমতায় আরোহন করেছে। কথায় বলে- পার হলেই পাটনী আমার শালা। শালা আসলে গালমন্দের শব্দ নয়, এটা একটা আত্মীয়তা সম্বন্ধযুক্ত শব্দ। ভগ্নীর সহোদরকেই শালা বলা হয়। এতদসত্ত্বেও এটাকে আমরা গালাগালের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করি।  সে যাক, নির্বাচনী বৈতরনী পার হলেই এ প্রবনতা লক্ষ্য করা যায় যে বিজয়ী দল জনগণের কাছে দেয়া গালভরা নির্বাচনপূর্ব ওয়াদা বেমালুম ভুলে গিয়ে অন্য পথ অবলম্বন করে। ফলে জনগন নিরাশ হয়ে ফাঁকা মাঠে নিস্ফল গালাগাল দিয়ে গায়ের ঝাল মিটায়। তবে এতে জনগণেরই বা কি ফায়দা হয় অথবা নির্বাচনে জয়ী ব্যক্তিরই বা কি ক্ষতি হয়। কারোরই কোন ক্ষতি বা ফায়াদা হয় না। কিন্তু এর ভেতরও গভীর তাৎপর্য নিহিত থাকে। আর সেটা হল- সার্বিক দায়ভার গিয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন দলের ওপর। রাজনৈতিক মতাদর্শে বিপক্ষ দল ও মানুষ ক্ষমতাসীন দলের সমালোচনায় সুখরিত হয়। এ মুখরতা ক্ষমতাসীন দলের সুনামকে বাধাগ্রস্থ করে, ব্যাহত করে, ক্ষতিগ্রস্থ করে। তবে যেহেতু ক্ষমতাসীন দলের হাতে ক্ষমতা থাকে তাই তারা খুব একটা বিচলিত হয় না। যখন পরিস্থিতি তুংগে উঠার মোড়ে এসে উপনীত হয় তখন তাদের হাতের ক্ষমতার সদ্ব্যবহার করে। আর এটিই হয় জনগণ তথা সংশ্লিষ্টদের অসন্তোষ বর্ধিত করার অপছন্দীয় পদক্ষেপ। আমরা মনে করি, ক্ষমতাসীন দল এ সময় হুট করে কোনো শক্তির দাপট না দেখিয়ে আপোষে কাজ করার প্রতি অধিকতর মনোযোগী হলে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনার হাত থেকে উদ্ধার পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু ক্ষমতা এমনই একটি অশরীরী বস্তু যার অধিকারী যেই হয়ে থাকে তার ভেতরই ক্ষমতার দাপট প্রদর্শনের বাতিক বা প্রথনতা জ্ঞাত অজ্ঞাতসারে এসে পড়ে। তবে মানুষত্ব জ্ঞান সম্পন্ন মানুষেরা জ্ঞানের আলোকে এই প্রবনতাকে দমন করতে  সক্ষম হয়ে থাকেন। তারা সংঘটিত বিষয়টির অগ্র পশ্চাত বিবেচনায় এনে অনেক চিন্তা ভাবনা করেন। এর সুফল কতটুকু হবে আবার কুফলই বা কতটুকু বয়ে আনবে তার চুলচেরা হিসেবে নিকেম করেই তবে তারা এ্যাকশনে যান। বিচক্ষণ, বিদ্যান এবং জ্ঞানী ব্যক্তি তাদেরকেই বলা হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য এ রকম সৎ গুণে গুনান্বিত ব্যক্তিদেরই আজ বেশি করে দরকার। এ শ্রেণীর ব্যক্তির সংখ্যা রাষ্ট্র প্রশাসনে যত বেশি করে দরকার।  এ শ্রেণীর ব্যক্তির সংখ্যা রাষ্ট্র প্রশাসনে যত বেশি সমাবেশ ঘটবে তত বেশি জনগণ সন্তুষ্টির সাথে কালযাপন করতে সক্ষম হবে। দেশে অরাজকতা ও বিশৃংখলতার অবসান ঘটবে। দেশের প্রশাসন যন্ত্রে যখনই এ আকাংখিত পরিবেশ পরিস্থিতির বিদ্যমানতা বিরাজ করবে তখনই দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন তরান্বিত হবে। দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের গতি তরান্বিত করার আরেকটি অন্যতম উপাদান হলো যোগ্য ও ধীজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রের প্রশাসন যন্ত্র থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না, করা হলে প্রশাসন একাধারে দুর্নীতিগ্রস্ত, দুর্বল এবং চলৎশক্তিহীন হয়ে পড়বে। প্রশাসনের ঘাড়ে যতবেশি দলীয়করণের মামদোভুত চেপে বসবে ততবেশি বিতর্কিত হবে, দুর্বল হবে। এস সময় হয় মুখ থুবড়ে পড়বে নয়তো টিমে তালে চলবে। দলীয়করনের প্রবনতার হিড়িক থেকে কোন দলই মুক্ত থাকতে পারে না। আর না পারা দরুন দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি আশাতীতভাবে সফলতা লাভ করতে সক্ষম হচ্ছে না। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৭ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও জনগণের আকাংখিত ও স্বপ্নে দেখা বাংলাদেশ এখনও তাদের দোর গোড়ায় আসেনি। এর পেছনে কাজ করেছে উপরোল্লিখিত কারণসহ বৈদেশিক সুক্ষ্ম ষড়যন্ত্র। এ ষড়যন্ত্র কখনও প্রকাশ্যে হয়েছে আবার কখনও অপ্রকাশ্যে হয়েছে, গোপনে হয়েছে। বাঙালির ভাগ্য লিপিতে এ কলংকতিলক করে মুছে যাবে, কবে এ জগদ্দল পাথর তাদের বুক থেকে নেমে যাবে তা কে জানে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ