ঢাকা, বুধবার 5 December 2018, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মিরসরাইয়ে আমনের বাম্পার ফলন ন্যায্য দাম নিয়ে শংকায় কৃষকরা

মিরসরাইয়ে এখন আমন ধান কাটা চলছে। ছবিটি উপজেলার ওয়াহেদপুর এলাকা থেকে তোলা হয়েছে

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে শুরু হয়েছে উৎসবমুখর আমন ধান কাটা। ফলনও খুব ভালো। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বেশ ভালো ফলন হয়েছে আমনের। কিন্তু এখন ন্যায্য দাম নিয়েই শুধু শংকা সর্বত্র। কৃষকরা উপযুক্ত মূল্য না পেলে তো কৃষি ব্যয় পুষিয়ে উঠতে পারবে না। কৃষি বিভাগ  ও কৃষকদের থেকে সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্য মতে এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমন উৎ্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। এখন শুরু হয়েছে ধান ঘরে তোলার কাজ। তবে ফলন নিয়ে খুশি হলেও ধানের নায্য দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষক।

মিরসরাই  উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়  এবার মিরসরাই উপজেলায় ২০ হাজার ৬ শত হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় ২০০ হেক্টর বেশী।  এবার লক্ষ্যমাত্রা ৮৩ হাজার ৪ শত ৯৯ টন ধান । কৃষি বিভাগ আশা করছেন লক্ষ্যমাত্রা থেকে ও বেশী ধান কৃষকরা ঘরে তুলবেন। কারণ ভালো বৃষ্টি ও অনুকূল পরিবেশ বেশ আশাপ্রদ করেছে সবাইকে। আবার ধানের বাজার দর ও কম বলে স্বীকার করেছে কৃষি বিভাগ।  উপজেলা কৃষি সুপারভাইজার কাজী নুরুল আলম বলেন এবার প্রতি আড়ি (৫ কেজি) ধান ১৮০ টাকা দাম এখন। গত বছর ছিল ২০০ থেকে  ২৫০ টাকা। ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু হলে ও এখনো মাত্র ৫ শতাংশ ধান ঘরে উঠেছে বলে জানান কৃষি সুপারভাইজার। 

 মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন এবার আমনের ফলন খুব ভাল হয়েছে। ফাঁকে ফাঁকে কিছুটা বৃষ্টিপাত ও হওয়ায় ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব ছিলো না। এতে করে ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে। আমরা আশা করছি আমন আবাদের মতো ফলনেও এবার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে। তবে ন্যায্য দামের বিষয়ে তিনি বলেন বিষয়টি নিয়ে সরকারি পর্যায় থেকে কোন কর্মসূচি আছে কিনা আমরা এখনো জানি নাই। কৃষকদের জন্য সরকার হয়তো ভর্তুকীতে আমন সংগ্রহ করতে পারে।

এই বিষয়ে  মিরসরাই উপজেলার  দুর্গাপুর ইউনিয়নের চাষী  সবুজ কুমার বলেন, পাল গ্রাম সহ পূর্ব দুর্গাপুরের অনেক এলাকায় আমনের ভালো ফলন হয়েছে এবার।  কিন্তু মিঠাছরা বাজারে এখনো ধানের দাম নি¤œমুখি। পুরো মৌসুম আসা পর্যন্ত মূল্য না বাড়লে ঋণগ্রস্ত অনেক কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে না। খৈয়াছরা ইউনিয়নের আমবাড়িয়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন  দুই কানি জমিতে প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ পড়ে গেছে আবাদে। এখন যদি ঘরের খোরাকী রেখে খরচের টাকার ধান ও বেচতে না পারি পরিবার নিয়ে আবার কষ্টে পড়তে হবে।সব মিলিয়ে উপজেলার কৃষকদের ঘরে ঘরে এখন নবান্নের আনন্দের প্রহরই অপেক্ষা করছে। সবাই পিঠাপুলির প্রস্তুতি নিচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে দু-এক সপ্তাহের মধ্যেই উঠোনে উঠোনে ধান আর শীতের পিঠা পায়েশের ধূমে মত্ত হবে সবাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ