ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 December 2018, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ওরা জনগণের ভাষা বোঝে না

ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপি উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের অযোধ্যায় রামমন্দির বানাবেই। এ বিষয়ে তারা মরিয়া। কিন্তু সেখানকার চাষিরা মন্দির নয়, দু’বেলা পেটপুড়ে খেতে চান। এটাই তাদের প্রাণের দাবি। ‘দিল্লি চলো’ ডাকে সাড়া দিয়ে গত শুক্রবার দিল্লির সংসদ মার্গ চত্বরে সমবেত হয়েছিলেন হাজারো দরিদ্র কৃষক। রামলীলা ময়দান, আনন্দ বিহার, নিজামুদ্দিনসহ কয়েক জায়গায় রাত কাটিয়ে সকল ১০টায় শুরু হয় ‘কিষান মুক্তি মার্চ’। তাদের দাবি ঋণ মওকুফ আর জমিতে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম।
আনন্দবাজার-এ পহেলা ডিসেম্বরে মুদ্রিত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত শুক্রবার দিল্লির সমাবেশে গোটা দেশ থেকে এসেছিল পঁয়ত্রিশ হাজার কৃষক। তাদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে দিল্লীবাসী। আলিগড়ের ডাক্তাররা চিকিৎসা করেছেন। আইনজীবীরা ব্যবস্থা করেছেন খাবার ও পানি। বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে প্রগতি ময়দানে কাজ করতে আসা শ্রমিকরাও কৃষকদের সাহায্য করেছেন সাধ্যমতো। সমাবেশে আসা উত্তরপ্রদেশের পিলভিটের আখচাষি বিক্কর সিংহের ঋণের পরিমাণ ৭ লাখ রুপি। এত টাকা ঋণের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, চিনি কলগুলো আখ কিনে তিন বছর পর দাম দেয়। সে জন্যই ধার করতে হয়। প্রশ্ন জাগে, দিল্লীবাসীসহ সাধারণ শ্রমিকরাও চাষিদের সাহায্যে হাত বাড়িয়েছে, কিন্তু সরকার কাক্সিক্ষতভাবে কৃষকদের সাহায্যে হাত বাড়াচ্ছে না কেন?
প্রতিবেদনের আলোকে মনে হয়, সরকার যেন কৃষকদের ভাষা বুঝতে পারছেন না। ফলে সম্পর্কে একটা ফাটল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।  উল্লেখ্য যে, রামমন্দিরের দাবিতে গত শনিবার থেকে দিল্লীতে রথযাত্রা শুরু করে উগ্রপন্থী হিন্দুদল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। এ নিয়ে বিন্দুমাত্র উৎসাহ নেই ওই অঞ্চলের চাষিদের। তাদের বক্তব্য, মন্দির দেখিয়ে আর বোকা বানানো যাবে না আমাদের। দীর্ঘপথ হেঁটে দিল্লীর সমাবেশে এসেছেন তেলেঙ্গানা রাজ্যের কবিতা। তিন বছর আগে দেনায় ডুবে আত্মহত্যা করেছেন তার স্বামী কাসাইয়া। তাই এখন রামমন্দির নয়, পেটে ভাতই একমাত্র চিন্তা কবিতার। আনন্দবাজারের প্রতিবেদন থেকে উপলব্ধি করা যায়, ক্ষমতাপাগল শাসকরা কিভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এখান থেকে সবারই শেখার বিষয় আছে। কিন্তু আমরা শিখছি কি?
ইয়াঙ্গুন থেকে রয়টার্স পরিবেশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তরুণদের মধ্যে সু চির জনপ্রিয়তা কমছে। এর কারণও ব্যাখ্যা করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মিয়ানমারের তরুণ অধিকারকর্মী ও টিভি উপস্থাপক থিনজার শুন লেইই এক সময় শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অংসান সু চির মহাভক্ত ছিলেন। অথচ এখন তিনি সু চির কট্টর সমালোচকদের একজন। শুধু থিনজার নন, উদারপন্থী অধিকারকর্মী, সু চির একসময়কার কট্টর সমর্থকসহ তরুণ সমাজের একটি বড় অংশের মধ্যে সু চি এবং তার সরকারের জনপ্রিয়তা কমছে। তিন বছর আগে এরাই আকাশচুম্বী আশা নিয়ে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেটিক (এনএলডি) ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন।
মিয়ানমারের উদারপন্থী ও বিবেকবান তরুণদের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। ২০১৬ সালে মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ক্ষমতায় আসে সু চির দল এনএলডি। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার অব্যাহত রাখার ও দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সু চি। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের বছরখানেক পর রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের কারণে সু চি ও তার সরকার তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ে বিশ্বে। সেনাবাহিনীর ওই অভিযানকে গণহত্যার উদ্দেশ্যে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা নিপীড়নের ঘটনায় সু চির ভূমিকার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে থিনজার শুন বলেন, ‘আমি আমার আদর্শকে (আইডল) হারিয়ে ফেলেছি। আমি বিভ্রান্ত, হতাশ।’ থিনজার আরো বলেন, ‘অধিকাংশ অধিকারকর্মী ও তরুণ-তরুণী এখন ভাবছেন এরপর কী হবে। আমরা কী করবো ? সু চিকে কেউ নিবৃত্ত করছেন না। তিনি সুশীল সমাজের কথাও শুনবেন না।’
তরুণ-তরুণীরা তো তাদের আইডলকে হারিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু কীভাবে? দীর্ঘদিনের সামরিক শাসনে থাকা মিয়ানমারে বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেকে মনে করেছিলেন দেশে গুণগত পরিবর্তন আসবে। কিন্তু বাস্তবতা সে রকম নয়। এখনো ঔপনিবেসিক আমলের আইন প্রয়োগের মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজকে ঘায়েল করা হচ্ছে। এখন বরং ওইসব কালো আইনের ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকার। তাই প্রশ্ন জেগেছে, সু চির তথাকথিত  বেসামরিক সরকার মিয়ানমারকে কোন অন্ধকারে নিয়ে যেতে চাচ্ছে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ