ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 December 2018, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নবেম্বর মাসে রাজনৈতিক সন্ত্রাস

মুহাম্মদ ওয়াছিয়ার রহমান : ॥ তিন ॥
৪ নবেম্বর নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চরক্লার্ক গ্রামের বিএনপি কর্মী আব্দুর রহমানকে নিজ বাড়ি থেকে পুলিশ আটক করে। টাঙ্গাইলের সখিপুর বিএনপির ৭ নেতা-কর্মী আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠায়। হাজতে যাওয়া নেতা-কর্মীরা হলো- সখিপুর পৌর বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মীর আবুল হাশেম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ ভাইস-চেয়ারম্যান ছবুর রেজা, যুবদল উপজেলা সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন, পৌর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক পাভেল তালুকদার, পৌর যুবদল সভাপতি কামরুল হাসান ও যাদবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকবর হোসেন। ৫ নবেম্বর খুলনা মহানগরী বিএনপি ১৭ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- সাদিকুর রহমান সবুজ, আতাউর রহমান, আজিজুর রহমান, রাজু, আরব আলী, বিল্লাল হোসেন, তিতু, আব্দুর রহমান ডিনো, স্বপন, শাকিল, নজরুল, মাসুদ, মোস্তফা ইয়াকুব পাটোয়ারী, লিটন খান, আব্দুল হাই কালু ও নূর আলম লিটন। ৫ নবেম্বর সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌর কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা নূরুল আম্বিয়া চৌধুরী জামিলকে দোয়ার মাহফিল থেকে আটক করে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এ্যাডঃ সাখাওয়াত হোসেন খানকে চাষাড়া এলাকা ও জেলা বিএনপির নেতা এম.এ আকবরকে সিদ্ধিরগঞ্জ পুলিশ শিবু মার্কেটের সামনে থেকে আটক করে। ৪ নবেম্বর রংপুরে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের উপর আওয়ামী লীগের হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতার দায়ের করা মামলায় বিএনপির ১০ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
৬ নবেম্বর কুমিল্লার লাঙ্গলকোটে থেকে বিএনপির ৮ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- লক্ষ্মীপুর গ্রামের ছাত্রদল নেতা সহিদুল ইসলাম, কান্দাল গ্রামের বিএনপি নেতা মাহবুবুল হক, হেসাখাল গ্রামের ছাত্রদল নেতা জালাল আহমেদ, পৌর সভার হরিপুর গ্রামের যুবদল নেতা শাহাদাৎ হোসেন, নাছির, দৌলতপুর গ্রামের বিএনপির জাহাঙ্গীর আলম, গোত্রশাল গ্রামের যুবদল নেতা নিজাম উদ্দিন ও মক্রবপুর গ্রামের বিএনপি নেতা আবু তাহের। কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী থেকে ঢাকায় জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের সমাবেশে আসার পথে পুলিশ বিএনপির ৭ নেতা-কর্মীকে আটক করে। আটককৃতরা হলো- জেলা ছাত্রদল সহ-সভাপতি তাইফুর রহমান হাসিব, কটিয়াদী উপজেলা ছাত্রদল সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম সেতু, আজাদ রহমান মিশর, উপজেলা ছাত্রদল সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, চান্দপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা রাসেল মিয়া, চন্দন মিয়া ও বনগ্রাম ইউনিয়ন যুবদল সাংগঠনিক সম্পাদক লাল মিয়া। ঢাকার সোহরওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের সমাবেশে আসার পথে কেরাণীগঞ্জ, হাজারীবাগ, লালবাগ ও কামরঙ্গীরচরসহ বিভিন্ন স্থানে চেক পোষ্ট বসিয়ে অর্ধশত নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। সিলেটের জৈন্তাপুরে ফতেহপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও বিএনপি ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুর রশীদকে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আদালত ২ বছরের কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় তাকে সাময়িকভাবে বরখস্ত করে।
৭ নবেম্বর নরসিংদীর মাধবদী থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেনসহ ১৪ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। ফেনীর ছাগলনাইয়ার রাঁধানগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল হককে পুলিশ আটক করে। বগুড়ার কাহালু থেকে উপজেলা যুবদল আহবায়ক জিল্লুর রহমান, ছাত্রদল নেতা ফাহিম আহমেদ সুমন ও রাফিকুল ইসলাম রাকিবকে পুলিশ আটক করে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির ২৭ নেতা-কর্মী আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠায়। সিলেটে বিএনপির ২৪ নেতা-কর্মী আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিনও নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠায়। পিরোজপুর সদরে পৌর বিএনপির ১নং ওয়ার্ড সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা মেসবাহ উদ্দিন মিশুকে আলমকাঠি এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থেকে পুলিশ জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিস মাখনকে আটক করে।
৮ নবেম্বর ঢাকায় বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী অভিযোগ করেন যে, বিগত দুই দিন সারা দেশ থেকে বিএনপির ২ হাজার ২’শ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- ঝালকাঠির রাজাপুরের উপজেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক সজল সিকদার, রফিকুল ইসলাম, রাজাপুর সরকারী কলেজ ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক রাসেল হাওলাদার, উপজেলা যুবদল সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম খান মন্টু ও মঠবাড়ি ইউনিয়ন যুবদল সাবেক সাধারণ সম্পাদক খৈয়াম হাওলাদার। নওগাঁর সাপাহার উপজেলা থেকে পুলিশ বিএনপির সদর ইউনিয়ন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোক্তারুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থেকে বিএনপির মক্রবপুর মঘুয়াপাড়া গ্রামের শাহ আলম, পশ্চিমবাগ পাড়া গ্রামের মাহবুবুল হক, শ্রীহাস্য গ্রামের রুবেল, জুয়েল, দক্ষিণ শ্রীহাস্য গ্রামের জসিম, পৌরসভার বাতুপাড়া গ্রামের রাশেদুল ইসলাম, পৌছির গ্রামের কাউছার হামিদ, মিলন, আব্দুর রহমান ও ঢালুয়া গ্রামের শহীদকে আটক করে। সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশে উপজেলা বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ফকির ও ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহমেদ মাসুমকে পুলিশ আটক করে। টাঙ্গাইলের বাসাইল থেকে বিএনপি নেতা আয়নাল হক, উপজেলা যুবদল যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ ও যুবদল পৌর সাধারণ সম্পাদক আরজু খানকে আটক করে পুলিশ। কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে উপজেলা বিএনপি সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকনসহ ৮ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে বিএনপির টি.এইচ তোফা ও ইকবাল হোসেন ভেন্ডারকে পুলিশ আটক করে। পিরোজপুর সদর থেকে পুলিশ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তারেকুল ইসলাম, পৌর সভার ৪নং ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুল আউয়াল হাওলাদার, ছাত্রদল কর্মী আলী আহমেদ তুষার ও শেখ মেহেদী হাসানকে আটক করে। টাঙ্গাইলের কালিহাতী থেকে দশকিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হক আকন্দ, সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম, সল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদল নেতা আজিম, দূর্গাপুর ইউনিয়ন যুবদল নেতা নজরুল ইসলাম ও ছাত্রদল নেতা আরিফকে পুলিশ এলেঙ্গা ভূমি অফিস থেকে আটক করে।
৯ নবেম্বর রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা বিএনপির ৮ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- হানিফ মন্ডল, মিজানুর রহমান, আব্দুল মান্নান মন্ডল, আসাদুজ্জামান, ইয়াকুব আলী, জিল্লুর রহমান, হেলাল মন্ডল ও মিরাজ মন্ডল। পঞ্চগড় সদর থেকে বিএনপির ৩ নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে। একই দিন পুলিশ বালিয়াকান্দি থেকে যুবদল নেতা শাহজাহান মিয়া, লক্ষণদিয়া গ্রামের বিএনপির জাহাঙ্গীর মন্ডল, বালিয়াকান্দি গ্রামের বিএনপির আক্তারুজ্জামান, পাইককান্দি গ্রামের কাজল সিকদার, খন্দকার বিপু ও দক্ষিণবাড়ী গ্রামের মানিক মল্লিককে আটক করে। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি নূরুল আলম রানাকে পুলিশ আটক করে।
১০ নবেম্বর সিলেট গোয়াইনঘাট থেকে বিএনপি ৯ নেতা-কর্মীসহ আটক ১৫ জন। আটককৃতরা হলো- জায়লং ছৈলাখেলা গ্রামের আব্দুল আউয়াল মিয়া, শহীদ মিয়া, মাসুদুর রহমান, সুজন মিয়া, নয়াবস্তি গ্রামের আব্দুল হানিফ, শহীদুল ইসলাম, গোয়াইনঘাটের জাহাঙ্গীর আলম, মুহিবুর রহমান, টেংলাটিলা গ্রামের আব্দুল মালেক, শাল্লার রাহুতলা গ্রামের জুয়েল আহমেদ, সুনামগঞ্জ বল্লবপুর গ্রামের জালাল উদ্দিন, রমজান আলী, মাজহারুল ইসলাম, নীলফামারীর ডিমলার তালিয়া গ্রামের আবুল কালাম ও পাঁচপাড়া গ্রামের আব্দুস শাকুর। টাঙ্গাইলের কালিহাতী থেকে বিএনপি ৪ নেতা-কর্মী আটক। আটককৃতরা হলো- উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল যুগ্ম-আহবায়ক আরিফ হোসেন, উপজেলা বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী মন্ডল ও নাগবাড়ী বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনসহ ৪ জন। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম, পৌর ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল হাওলাদার, ছাত্রদল কর্মী রুবেল ও ওয়ালি উল্লাহকে পুলিশ আটক করে। বরগুনা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ৭ বিএনপি নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে। আটককৃতরা হলো- বরগুনা সদরের যুবদল নেতা রাশেদুল ইসলাম মাসুদ, তালতলী বিএনপির উপজেলা সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকির, সহ-সভাপতি মকবুল আহমেদ খান, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক মেহেদী জামান রাকিব, বামনা শ্রমিক দল নেতা সাঈদুল ইসলাম খোকন, যুবদল নেতা জামাল হোসেন ও জামাল জোয়ার্দার। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে ৭ বিএনপি নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। একই সাথে ২৭ নেতা-কর্মী আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠায়।
১১ নবেম্বর মানিকগঞ্জে শিবালয় বিএনপির ৩৪ নেতা-কর্মী আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠায়। ভোলা জেলা বিএনপির ২৭ নেতা-কর্মী আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠায়। কারাগারে পাঠানো নেতা-কর্মীরা হলো- জেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর সোপান, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রব, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন খন্দকার ও যুবদল নেতা ফারুক খন্দকারসহ ২৭ জন। ১৪ নবেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে থেকে বগুড়ার বিএনপি নেতা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, কেন্দ্রীয় বিএনপির গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক আনিচুজ্জামান বাবু ও খুলনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খানকে আটক করে পুলিশ। ১৫ নবেম্বর নারায়নগঞ্জ মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এ্যাডঃ সাখাওয়াত হোসেন খান জামিনে বের হওয়ার সময় জেল গেট থেকে তাকে পুনরায় আটক করে পুলিশ। ঢাকার পল্টনে সংঘর্ষের জেরে বিএনপি ৫৮ নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করে। ১৮ নবেম্বর গাজীপুর মহানগর বিএনপির ২৮নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জোহা সরকার তাপস ও সাবেক পৌর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খান জাহিদুল ইসলামকে সাদা পোষাকের পুলিশ আটক করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ