ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 December 2018, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নির্বাচন একটা প্রহসনে পরিণত হতে চলেছে

স্টাফ রিপোর্টার : নির্বাচনের পরিবেশ ও সমতল ভূমি তৈরি হয়নি অভিযোগ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, নির্বাচন একটা প্রহসনে পরিণত হতে চলেছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তো দূরে থাকুক এখন চেষ্টা করা হচ্ছে এটাকে আরো কী করে খারাপ করা যায়। খানা-খন্দর আরো খোঁড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিমুহূর্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার দুপুরে গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন পরিপত্র জারি করছে বিভিন্ন সময়ে। যে পরিপত্রগুলো কখনোই নির্বাচনের সহায়ক নয়। তিনি বলেন, নির্বাচনের বিধিতে আছে যে মনোনয়নপত্র দাখিল করার পরে যতক্ষণ প্রতীক বরাদ্ধ করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো সভা-সমাবেশ-মিছিল করা বন্ধ। অথচ সরকারি দল আওয়ামী লীগ প্রতিদিন সভা-সমাবেশ-মিছিল করছে সেখানে তারা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছে না। আমি স্পষ্ট করে নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই, আপনারা যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন তাহলে মৌলিক নীতিগত অবলিগেশন থাকে দেশবাসীর কাছে বলুন আমরা নিরপেক্ষভাবে, মুক্তভাবে, স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছি না। তাহলে আপনাদের দায়িত্ব যেটা পদত্যাগ করা উচিত।
অন্যথায় সংবিধান আপনাদের যে দায়িত্ব দিয়েছে সেই দায়িত্ব নিয়ে আপনারা নির্বাচনটাকে নিরপেক্ষ করার সমস্ত ব্যবস্থা করুন। আমরা কমিশনকে বার বার বলেছি যে, আপনাদের দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। কিন্তু সরকারের মন্ত্রী ও সরকারি দলের নেতা যা বলবেন সেইভাবে আপনারা কাজ করবেন তাহলে এ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না।
সরকারি দল রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ‘একদলীয় ও একতরফা’ নির্বাচন করার চক্রান্ত করছে বলেও নানা অভিযোগ তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা নির্বাচনে এসেছি আমাদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে। একদিকে আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আটক করে রেখেছে, হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রেখেছে। আমরা জোর দিয়ে বলছি অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হোক, আটক নেতা-কর্মীদের মুক্ত করা হোক।
প্রতিদিন নতুন নতুন মামলা দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফখরুল বলেন, এতো হীনম্মন্যতা কেনো? এতো ভয় কেনো? তার একটাই কারণ সুষ্ঠু নির্বাচন যদি হয়, জনগণ যদি ভোট কেন্দ্রে যায় তাহলে তারা কোনো মতেই এই নির্বাচনে সফল হতে পারবে না, তাদের ভরাডুবি হবে।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান রেখে তিনি বলেন, এই দেশ আপনাদের। আপনারা দেশের মালিক। আপনাদের নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে- এটা নাগরিক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব- আমরা সেই আহ্বানই জানাচ্ছি যে, নির্বাচনের দিন বেরিয়ে আসুন, ভোট কেন্দ্রে যান, ভোট নিশ্চিত করুন, ভোট সুরক্ষা করুন।
 বিএনপি নেতাকর্মীদের জামিন না দিতে আইন মন্ত্রণালয়ে জেলা দায়রা জজদের নিয়ে একটি গোপন বৈঠক হয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছি, জেলা দায়রা জজদের নিয়ে একটি সভা হয়েছে, আইন মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে ‘অত্যন্ত স্বনামধন্য’ সচিব নির্দেশ দিয়েছেন যে নির্বাচনের পূর্বে তারা যেনো জামিন না দেন। এই কথাগুলো অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন ক্রমেই প্রহসনে পরিণত হতে চলছে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকে গ্রেফতারের পরিমাণ বেড়ে গেছে। গতকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত ১ হাজার ৯৭২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা গতকাল সন্ধ্যায় ঘোষণা হতে পারে বলেও জানিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বলছি যে, আমাদের এখন পর্যন্ত তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। আমরা এখন পর্যন্ত মনোনয়নের তালিকা চূড়ান্ত করতে পারিনি। আমরা আশা করছি যে, আজকের মধ্যে করে ফেলতে পারবো। যদি করে ফেলতে পারি তাহলে সন্ধ্যার (গতকাল) পরে আমরা আপনাদেরকে জানাবো। তবে রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত চূড়ান্ত তালিকার বিষয়ে কিছু জানায়নি বিএনপি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ