ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 December 2018, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ইসিতে খালেদা জিয়াসহ ৫৪৩ প্রার্থীর আবেদন

স্টাফ রিপোর্টার : মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ন্যায় বিচার পেতে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৫৪৩ জন প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেছেন। বাছাইয়ের সময় ৭৮৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল। তাদের মধ্য থেকে গতকাল বুধবার শেষদিনে ২২২টি আপিল জমা পড়েছে। এর আগে, সোমবার ৮৪টি ও মঙ্গলবার ২৩৭টি আবেদন পড়ে। সিংহভাগ আপিলই মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে। তবে, রিটার্নিং অফিসার ঘোষিত বৈধ প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও কিছু আপিল জমা পড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন আপিলের শুনানি করে সিদ্ধান্ত দেবে। সেখানে কেউ ক্ষুব্ধ হলে উচ্চ আদালতে যেতে পারবেন।
গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী তিন দিনে এই আপিলগুলোর শুনানি হবে এবং নিষ্পত্তি করা হবে।
ইসি সচিব জানিয়েছেন, ক্রমিক অনুসারে আপিলের নিষ্পত্তি করা হবে। আপিলের ফল সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেয়া হবে। কোনো প্রার্থীর আপিল গ্রহণ করা হলে, তা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়ে দেয়া হবে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনে মোট ৩০৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা হয়েছিল। এর মধ্যে বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে ৭৮৬টি। এই বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রগুলোর মধ্যে আপিল হয়েছে ৫৪৩টিতে।
 হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, আগামীকাল অর্থাৎ ৬ ডিসেম্বর শুনানি হবে ১ থেকে ১৬০ পর্যন্ত ক্রমিকের আপিলগুলো। ১৬১ থেকে ৩১০ ক্রমিকের আপিলগুলোর শুনানি হবে ৭ ডিসেম্বরে। বাকি আপিলগুলোর শুনানি হবে ৮ ডিসেম্বরে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে আপিলের শুনানি শুরু হবে। প্রতি দিনের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শুনানি চলবে।
এদিকে জাতীয় পার্টির মহাসচিবের পদ থেকে রুহুল আমিন হাওলাদার সরে যাওয়ায় দলটির মনোনয়নপত্রে এখন থেকে স্বাক্ষর দেবেন মসিউর রহমান রাঙ্গা। এ বিষয়ে ইসিতে আবেদন করেছিল জাতীয় পার্টি। ইসি সচিব জানান, ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে এর আগে আপিল শুনানি দুই দিনের মধ্যে শেষ করার জন্য ইসিতে আবেদন করেছিল বিএনপি। হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, বিএনপিকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে যে, এত বিপুলসংখ্যক আপিল দুদিনে শেষ করা সম্ভব নয়। এই বিষয়ে দলটি সম্মত হয়েছে।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ যে কোনো প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন। গত ৩, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর আপিল গ্রহণ করা হয়। যেসব আসনে কোনো দলের একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে, সে সব আসনে ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দল থেকে যে কোনো একজন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করতে হবে। তখন অপর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ৩ হাজার ৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এগুলো যাচাইয়ের পরে ৭৮৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ফলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ২৭৯ জনে।
দেশের ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া দুই হাজার ৫৬৭ জন প্রার্থীর সংখ্যা মধ্যে বাতিল হয় ৪০২ জন। স্বতন্ত্র হিসেবে দাখিল করা ৪৯৮ জনের মধ্যে ৩৮৪ জন বাতিল হওয়ার পর বৈধ প্রার্থী রয়েছে ১১৪ জন।
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২৬৪টি আসনে ২৮১ জন প্রার্থীর মধ্যে নৌকার বৈধ প্রার্থী ২৭৮ জন, বাতিল ৩ জন। বিএপির ২৯৫টি আসনে ধানের শীষে ৬৯৬ জন প্রার্থীর মধ্যে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৫৫৫ জন, বাতিল হয়েছে ১৪১ জন। জাতীয় পার্টি ২১০ আসনে ২৩৩ জন প্রার্থীর মধ্যে লাঙ্গল প্রতীকে বৈধ প্রার্থী ১৯৫ জন, বাতিল হয়েছে ৩৮ জন।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল ও ২ ডিসেম্বর বাছাই। ৯ ডিসেম্বর প্রত্যাহার এবং ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ