ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 December 2018, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ক্ষমতাসীন দলের কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে ॥ ঝরছে রক্ত

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ক্ষমতাসীন দলের কোন্দলের কারণে একদিকে রক্তাক্ত হচ্ছে জনপদ, অপরদিকে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা আর আশংকা। দলটির তৃণমূলের বিভিন্ন স্থানে দ্বন্ধও প্রকট আকার ধারণ করছে। কোন্দলের দ্বন্ধে হামলা, সংঘর্ষ ও খুনোখুনির ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন ইস্যুতে দীর্ঘদিনের চাপা দ্বন্ধের সঙ্গে কোথাও কোথাও যোগ হয়েছে শাসকদলে নির্বাচনকেন্দ্রিক মতানৈক্যও। নির্বাচনের প্রথম দফা তফসিল ঘোষণার পর গত ২৮ দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে কমপক্ষে ১৪টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৯ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দু’শতাধিক। জানা গেছে, কেন্দ্রের কড়া অবস্থানের পরও নিয়মিতই নিজেদের রক্ত ঝরাচ্ছেন দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
গত ৮ নবেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম তফসিল ঘোষণা করা হয়। এর এক দিন পরই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় গাড়িচাপায় নিহত হন এক মনোনয়ন প্রত্যাশীর দুই তরুণ সমর্থক মো. সুজন ও আরিফ হোসেন। হামলায় আহত হন অন্তত ৩০ জন।
সর্বশেষ মঙ্গলবার নওগাঁর পতœীতলা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এছাহাক হোসেনকে (৭২) ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে একদল হামলাকারী। হামলায় তার গাড়ির চালক আহত হয়েছেন। ওইদিন রাতে উপজেলার নজিপুর পৌর এলাকায় মাহমুদপুরে এ হামলা হয়।
একই দিন মঙ্গলবার সিদ্ধিরগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এ সময়ে ৩টি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। যুবলীগ কর্মী রাসেল ওরফে ইয়াবা রাসেল এবং নাজিমউদ্দিন নাজু গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে অন্য দিনের মতো সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়ার কার্যালয়ে আসে নূর হোসেনের এককালের সহযোগী নাজিম উদ্দিন নাজু এবং রাসেল গ্রুপ। এ সময় রাসেল হঠাৎ করে নাজিম উদ্দিন নাজুকে ধাক্কা দেয়। এক পর্যায়ে নাজিম উদ্দিন নাজুও তাকে ধাক্কা দেয়। পরবর্তীতে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে তাদের সমর্থকরা জড়ো হয়। উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ লেগে যায়। এক পর্যায়ে নাজিম উদ্দিন নাজু গ্রুপ রাসেল গ্রুপের দুইটি এবং ওই কার্যালয়ের সামনে থাকা মোটরসাইকেল (যার নং- ঢাকা মেট্টো-ল-২৬-০২৯৯, ঢাকা মেট্টো-ল ৩৪-৬১৮৭, ঢাকা মেট্টো-ল ২৩-২৮০৬) জ্বালিয়ে দেয়। একই সময় নাজু গ্রুপ সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরীপাড়াস্থ রাসেলের কার্যালয় ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় পাবনা সদর উপজেলার আওরঙ্গবাদ এলাকায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলীবিদ্ধ হয়ে মারা যান ভাড়ারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আওয়ামী লীগের সুলতান খাঁর বাবা মুক্তিযোদ্ধা লস্কর খাঁ ও তার সমর্থক আব্দুল মালেক শেখ। পাবনা-৫ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট কে হবেন, এ নিয়ে বিরোধ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার নিহতদের লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে ওই এলাকায়।
এর আগে গত সোমবার রাতে চট্টগ্রামের পটিয়ায় স্থানীয় এক ছাত্রলীগ নেতার ছুরিকাঘাতে নিহত হন কোলাগাঁও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন আকবর। 
মঙ্গলবার দুপুরেও নাটোরের বড়গাছা এলাকায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলীবিদ্ধ হন শাহরিয়ার হোসেন রিয়ন নামে এক ছাত্রলীগ নেতা। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জ্যাম্বস ও ছাত্রলীগ কর্মী রুবেল।
গত ২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের বর্তমান এমপি ও আগামী নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়ার গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। আত্মরক্ষার্থে এমপি নিজেও ১০ রাউন্ড গুলী ছোড়েন। ৩০ নবেম্বর রাতে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নে টেকনাফের এমপি আব্দুর রহমান বদির গাড়িতে গুলী করে দুই দুর্বৃত্ত। একই রাতে খুলনার বকশীপাড়া বাইলেন এলাকায় নিজ বাড়িতে গুলীবিদ্ধ হন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণচন্দ্র চন্দের জামাতা প্রভাস কুমার দত্ত। একই দিন বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের একটি রাস্তায় মেলে মোড়েলগঞ্জ পৌর তাঁতী লীগের সাবেক সদস্য সচিব খলিলুর রহমান শেখের রক্তাক্ত লাশ। স্থানীয় আওয়ামী লীগের কোন্দলের কারণে তিনি খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তার বড় ছেলে রুবেল শেখ। এই ঘটনার কয়েক দিন আগেই সেখানে দলীয় কোন্দলের জেরে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতাকে কুপিয়ে-গুলী করে হত্যা করা হয় বলে জানা গেছে।
গত ২৮ নবেম্বর নাটোরের লালপুর উপজেলায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত হন থানা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহারুল ইসলাম। ১৭ নবেম্বর বগুড়ার মন্দিরপুকুর গ্রামের একটি ধানক্ষেতে মেলে জেলার আদমদীঘির চাপাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক নজরুল ইসলামের গলাকাটা লাশ। ২৯ নবেম্বর নাটোরের সিংড়ার ইটালী স্কুল মাঠের পাশের একটি আম গাছে মেলে আবুল কালাম আজাদ নামে ইটালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদকের ঝুলন্ত লাশ। তিনি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
এর আগে ২৭ নবেম্বর সন্ধ্যায় নরসিংদীর বেলাব বাজারে এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাবো) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন ও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত আসলাম সানীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এসময় ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান বর্তমান এমপি এডভোকেট নুরুল মজিদ মাহামুদ হুমায়ন। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে এইচ এম আসলাম সানীসহ পাঁচজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। সর্বশেষ দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর আসলাম সানীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই জের ধরে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন আসলাম সানীর সমর্থকরা। মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
এর আগে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল বাঁশগাড়ী ও নিলক্ষা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হয়ে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে,আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম হাফিজুর রহমান সাহেদ সরকারের সমর্থক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম সিরাজুল হকের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও পাল্টা হামলায় চেয়ারম্যান সিরাজুল হকসহ একাধিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এরই জের ধরে গত ১৬ নবেম্বর শুক্রবার সকালে বাঁশগাড়ী গ্রামের বালুমাঠ এলাকায় বর্তমান চেয়ারম্যান আশরাফুল হক ও প্রয়াত হাফিজুর রহমান সাহেদ সরকারের সমর্থক জামাল, জাকির ও সুমনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই গুলীবিদ্ধ হয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী তোফায়েল রানা নিহত হয়। পরে দুপুরে এই সংঘর্ষ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন নীলক্ষায় বিবাধমান দুইটি গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষ একাধিক ব্যক্তিকে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়। ওই সময় তৎক্ষণিক চার জন নিহত হয়। আহত হয় কমপক্ষে অর্ধশতাধিক। ঘটনার ৭দিন পর গোপিনাথপুর মেঘনা নদী তীরবর্তী এলাকায় দুইজনের মরদেহ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতেদের মরদেহ উদ্ধার করে।
গত ২৮ নবেম্বর ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পদ্মাকর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছেন। এ সময় একটি বাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হাটগোপালপুর পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বরত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, পদ্মাকর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ার‌ম্যান বিকাশ বিশ্বাস ও বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ নিজামুল গণি লিটুর সমর্থকদের মধ্যে দুই দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন আহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গত ২৭ নবেম্বর হবিগঞ্জের লাখাইয়ে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। এসময় অন্তত ২০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। সংঘর্ষের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে আটক করেছে। সংঘর্ষে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ওই উপজেলার স্বজন গ্রামের বাসিন্দা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ এবং সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদান করা নেতা মহারাজ মিয়ার মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। এর জের ধরে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তাদের সঙ্গে এসে যোগ দেয় কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার শরীফপুর গ্রাম থেকে উভয়পক্ষের স্বজনরা। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে।
এর আগের দিন ২৬ নবেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে। জেলার কলমাকান্দা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মানু মজুমদার দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর পাবই মোড় ও নাজিরপুরে এই সংঘর্ষ হয়।“সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাক আহমেদ রুহীর সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে মিছিল বের করে। মিছিলে তারা ‘মানু ছাড়া নৌকা চাই’ বলে শ্লোগান দেয়। আর এতে বাধা দেয় মানুর সমর্থকেরা। এ সময় দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাধে।” পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে বলে তিনি জানান।সংঘর্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানালেও এ বিষয়ে পুলিশ কিছু বলতে পারেনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ