ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 December 2018, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

ইবরাহীম খলিল : আজ ৬ ই ডিসেম্বর। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ দিনটি ছিলো স্বাধীনতাকামী জনতার জন্য খুবই সুখের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকা বিমানবন্দর অকেজো হওয়ায় পাকিস্তান বিমানবাহিনীর পাইলটগণ তৃতীয় দেশের সাহায্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করে। এদিন দখলমুক্ত হয় বেশ কিছু জনপদ।
এদিকে, ভারত এদিন স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশকে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পার্লামেন্টে এই ঘোষণা দেন। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ায় পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত একাডেমির তৎকালীন পরিচালক ও সমকালীন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কবি আসাদ চৌধুরীর ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক গ্রন্থে ঊনিশশ’ একাত্তর সালের ৬ ডিসেম্বরের ঘটনা প্রবাহ তুলে ধরা হয়েছে এভাবে, “নিয়াজীর নির্দেশে পাকবাহিনী বেসামাল হয়ে পড়ে। এগোনো অসম্ভব, পিছু হটা আরও অসম্ভব। ময়নামতি, জামালপুর, হিলি, চট্টগ্রামে ওরা যেভাবে ছিলো সেভাবেই রয়ে গেলো কিন্তু সিলেট এবং যশোরের ঘাঁটি ছেড়ে পালালো। মিত্রবাহিনী একই চেষ্টা করছে যাতে পাকিস্তানীবাহিনী কোথাও জড়ো হতে না পারে। এরই মধ্যে ইন্দিরা গান্ধী তুমুল করতালির মধ্যে সংসদে বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করলেন। এর ফলে বাংলাদেশের জনগণ বিপুলভাবে মিত্রবাহিনীর সাহায্যে এগিয়ে এলেন। একজন অধ্যাপক টিনের বহর মাথায় নিয়ে গেছেন তিন মাইল, মহিলারা পর্যন্ত ব্রিজ তৈরিতে সাহায্য করেছেন।
তৎকালীন দৈনিক পাকিস্তান ও আজাদ-এর খবর অনুযায়ী, এদিন ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ সরকারকে বৈধ সরকার বলেও ঘোষণা দেন। মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলামকে দেয়া এক চিঠিতে ইন্দিরা গান্ধী তার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তার আগেই ভুটানের রাজা মি. জিগমে ওয়ানচুক বাংলাদেশের বাস্তব অস্তিত্বকে স্বীকার করে নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে বৈধ বলে স্বীকার করে নেন। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ায় পাকিস্তান এদিন ভারতের সঙ্গে তার কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।
এদিন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম মিত্ররাষ্ট্র ভারতের জওয়ানদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভারতের সৈন্যবাহিনীর জওয়ানরা আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশের মাটি থেকে শত্রুদের নির্মূল করার জন্য আজ যুদ্ধ করে চলেছে। অন্যদিকে, উত্তর ভিয়েতনামে যুদ্ধরত দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত মার্কিন সপ্তম নৌবহরকে বঙ্গোপসাগরের দিকে যাত্রার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু রণাঙ্গনে ততক্ষণে পাকিস্তানীরা পলায়ন শুরু করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ