ঢাকা, শুক্রবার 7 December 2018, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সাজিদের মাছ খাওয়া

তুফান মাজহার খান : সাজিদ খুব দুষ্টু একটি ছেলে। মা-বাবার একমাত্র সন্তান। সে দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি বুদ্ধিতেও বেশ পাকা। তাই সবাই তাকে খুব স্নেহ করে, ভালোবাসে।

সাজিদ মাছ খেতে খুব পছন্দ করে। আর এমনভাবে সে মাছ খায় যে তাকে বিড়ালও হার মানাবে। সে যখন একেবারে ছোট, সবেমাত্র এক পা, দু পা হাঁটে তখন থেকেই তার মাছ খাওয়ার নেশা। একটা একটা কাঁটা বেছে মাছ খাওয়া সে তখন থেকেই আয়ত্ত করে ফেলেছে। সাজিদের এভাবে মাছ খাওয়ার কারণে তার আম্মু মজা করে মাঝে মাঝে তাকে বিড়াল বলেও ডাকে। তার এ মাছ খাওয়ার নেশা আজ অবধি যায়নি।

একবার গ্রীষ্মের ছুটিতে সাজিদ তার আম্মুর সাথে নানুর বাড়ী বেড়াতে যায়। দিনকয়েক পরে এক দুপুরে হঠাৎ সাজিদকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সাজিদের আম্মু তো কান্নাই জুড়ে দিল। সাজিদের মামা, নানা সবাই তাকে খুঁজে অস্থির। সাজিদকে মুহূর্তের জন্য তার আম্মু চোখের আড়াল করে না। অথচ এখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চলল কিন্তু সাজিদকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। সবাই প্রায় অস্থির হয়ে গেছে। আশেপাশের সকল বাড়ী, পাড়া-মহল্লা সব খোঁজা হয়ে গেছে কিন্তু সাজিদের খোঁজ পাওয়া গেল না। এদিকে সাজিদের আব্বুও বাড়ি থেকে ছুটে এসেছে এ ঘটনা শুনে। সাজিদের আব্বু তো একেবারে হৈ চৈ শুরু করে দিল। আমার ছেলেকে না পেলে সবার খবর আছে। সাজিদের আব্বু এমনিতেই একটু রাগী টাইপের মানুষ। অল্পতেই ক্ষেপে যায়। সাজিদের আব্বু সিদ্ধান্ত নিল মাইকিং করবে। লোকজন ঠিক করে মাইকিং করার জন্য পাঠানো হলো। বিকেল গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এলো। ঠিক এমন সময় বাড়ির একদম এক কোনায় অবস্থিত কিচেনের লাইট জ্বলে ওঠলো। সবাই দৌড়ে কিচেনের কাছে গেল। ভেতর থেকে কিচেনের দরজা আটকানো। দরজায় কয়েকটি ধাক্কা দিলে ভেতর থেকে সাজিদের কণ্ঠে ভেসে আসে দাঁড়াও আসছি তো। সবার মুখ থেকে চিন্তিত ভাব সরে যায়। সবাই আল্লাহর কাছে শোকরিয়া আদায় করে। অনেক কৌতূহল নিয়ে সবাই অপেক্ষা করে সাজিদ ভেতরে কী করছিল দেখার জন্য। সাজিদ দরজা খোলে। সাজিদের আম্মু দৌড়ে গিয়ে ছেলেকে ঝাপটে ধরে। চুমো খায়। আর বলে, কী করছিলি বাপ? সাজিদ কথা বলে না। এত মানুষ দেখে সাজিদও হতভম্ব হয়ে যায়। তখন সবার চোখ যায় কিচেনের ভেতরে রাখা টেবিলের উপর। টেবিলে সুন্দর করে সিরিয়ালে সাজানো রয়েছে কৈ মাছের কাঁটা। গুণে দেখা গেল মোট ১১ টি মাছ খেয়ে মাছের কাঁটা আলাদা আলাদা করে রেখেছে সাজিদ। আরেকটি অর্ধেক খাওয়া মাছ সাজিদের হাতে। সকালে সাজিদের মামা পাশের গ্রামের জেলের কাছ থেকে ১২ টি কৈ মাছ কিনে এনেছিল। দুপুরে সবাই খাবে সেজন্য মাছগুলো ভেজে কিচেনে রাখা হয়েছিল। সাজিদের এমন কা- দেখে সবাই হেসে ওঠে। সাজিদ লজ্জায় মায়ের আঁচলে মুখ লুকায়। সাজিদের আম্মু সাজিদকে কানে ধরে আঁচলের নিচ থেকে বের করে বলে, এই দুষ্টু ছেলে; তোর মাছ খেতে এত মনে চেয়েছে তুই আমাকে বলতি। এভাবে পালিয়ে খেতে হবে? তোর জন্য কতগুলো মানুষ কষ্ট পেয়েছে দেখেছিস? 

সাজিদ কী বলবে ভেবে পায় না। সবাই সাজিদের মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসে। সাজিদের মামা সাজিদকে কোলে নিয়ে বেরিয়ে আসে কিচেন থেকে আর বলতে থাকে আমার বিড়াল মামা, বিড়াল মামা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ