ঢাকা, শুক্রবার 7 December 2018, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ছড়া

আমার এদেশ

সৈয়দ মাশহুদুল হক

 

ধানের এদেশ-পানের এদেশ

উর্বরা এই মাটি

নীল সবুজে রাঙা এদেশ

রূপে পরিপাটি।

 

সবুজ ছুঁয়ে আকাশ হাসে 

নিত্য করে খেলা

আমার দেশের নাই তুলনা

বনে পাখির মেলা।

 

গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত

শীত, বসন্ত এলে

দেশ যেন হয় অপরূপা  

রূপমাধুরী মেলে।

 

গ্রীষ্মে পাকে ফলফলারি

বর্ষায় অথৈ জল

শরৎ এলে মেঘের খেলা

আকাশে উচ্ছল।

 

হেমন্তে হয় নবান্ন উৎসব

পাকে আমন ধান

পাখি ডাকে কিচিরমিচির

কী যে মধুর তান।

 

শীত ঋতুতে শিশির কণা

সবুজ ঘাসে ভাসে

ভোরের রোদে গা এলিয়ে 

ঝিকিমিকি হাসে।

 

বন সাজে নতুন পাতায়

আসলে ঋতু বসন্ত

নাঙা গায়ে ঠিক যেন কেউ

দেয় পরিয়ে বসন তো।

 

ষড়ঋতুর এমন খেলা

নাইরে জগৎ জুড়ে

আমার এদেশ বিশ্ব মাঝে

সকল দেশের চূড়ে।

 

গুড বয়

তুষার কুমার সাহা

 

উঠে যায় ঘুম থেকে, ঠিকঠিক ছয়টায়

স্কুলে যেতে হবে, টাইম ঠিক নয়টায়,

ব্রাশ করে পড়ি ঠিক, যা যা বাকি,

দেয় না কোনো ঠিকঠিক, আজকে ফাঁকি!

 

ভালো আমি গুড বয়, আজ যে ঠিকঠিক 

বলে সবাই ভুল নয়, এটা-ই সঠিক।

 

 

পড়ায় এখন মন-দে

নাহিদ নজরুল

 

শিশির পড়ে মিষ্টি ভোরে

টাপুর-টুপুর ছন্দে!

যায় দৌড়িয়ে ফুলবাগানে

খোকা ফুলের গন্ধে।

মা’ ডেকে কয় যাসনে কোথাও

পড়ায় এখন মন-দে

মা’কে বলে ডেকে খোকা

পড়বো আজকে সন্ধ্যে।

মা বলে দেয়, কাজ হবে না

রও যতই আনন্দে

মা’য়ের কথা শোনে খোকা

পড়ে ভীষণ দ্বন্দ্বে।

 

ফুটলো পাখির ছানা

সোলায়মান আহমাদ

 

একটি দুটি তিনটি করে

ফুটলো পাখির ছানা

কিচির মিচির মিষ্টি সুরে

খুকির হলো জানা।

 

ঘরের পাশের ছোট্ট গাছে

হলুদ পাখির বাসা

ডিম ফুটে তিন ছানা হলো

পূরণ হলো আশা।

 

ছানার আশায় নিত্যদিনে

থাকতো খুকি চেয়ে

নাচছে খুকি, নাচছে পাখি

ছানা তিনটি পেয়ে।

 

হলুদ পাখি বন্ধু খুকির

থাকে পাশাপাশি

ছানা পেয়ে তাইতো দুইয়ে

হাসছে রাশি রাশি।

 

 

শীতের সকালে

রমজান আলী রনি

 

শিশির ভেজা শীতের সকাল

ঘাস ফুলেরা দোলে

খোকা-খুকু পড়তে বসে

বইয়ের পাতা খোলে।

 

খেঁজুর গাছে-গাছি উঠে

কোমরে বেঁধে দড়ি

রসের হাড়ি হাত ডুবিয়ে

পিঠা-পায়েস মুড়ি।

 

ধরনী আজ কুয়াশার মেঘ

শর্ষে ক্ষেতের মাঝে

স্নানে ভেজা ফসলের শীষ

সারাদিবস সাঁজে।

 

গাঁয়ের পথে শহরের গলি

আগুনেরও ছোঁয়া

সারা দেহ পুলকিত

উড়ছে সুখের ধোঁয়া!

 

শীতের সকাল গল্পেরও গীত

শহর-গাঁয়ে বসে

চা-কফিতে চুমুক দিয়ে

আড্ডা জমে রসে।

 

 

শীতের বুড়ি

রিয়াদ হাসান

 

শীতের বুড়ি ভরে ঝুরি

নিয়ে এলো শীত

গ্রাম্য জেলে কিষাণ ছেলে

গাইছে মজার গীত।

 

শীতের রাতে লেপের সাথে

হয় যে মজার ঘুম

সকাল বেলা আলোর মেলা

দেয় কপোলে চুম।

 

ভাপা পিঠা গুড়ের মিঠা

লাগে মজা খুব

পুকুর জলে পানির তলে

যায় না দেয়া ডুব।

 

 

শীতে

মো: খলিলুর রহমান

 

শীতে জড় গাছ গাছালি

আরও পশু পাখি

শীতে কাবু বুড়ো বুড়ি

জেগে শিশুর আঁখি।

 

মাঠে বাটে শিশির ঝরে

সবুজ গালিচা পেয়ে

দূর্বাঘাস নোলক পরে

ভোরের শিশির নেয়ে।

 

গাছি ভাই খেজুর গাছে

মনটা মাতায় রসে

বুড়ো বুড়ি আড্ডা জমায়

খঁড়ের চালায় বসে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ