ঢাকা, শুক্রবার 7 December 2018, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

গ্রিন ব্যাংকিংয়ে অর্থায়নে আগ্রহ কম ব্যাংকগুলোর

স্টাফ রিপোর্টার: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৫ শতাংশ গ্রিন ব্যাংকিংয়ে অর্থায়ন করার কথা থাকলেও মাত্র দশমিক ৫ শতাংশ অর্থায়ন হচ্ছে। গ্রিন ব্যাংকিং এ অর্থায়ন করতে অনাগ্রহ ব্যাংকগুলোর। এর মধ্যে জীববৈচিত্র্য খাতে ব্যাংকের অর্থায়ন আরও কম। মাত্র ৮ থেকে ১০ শতাংশ ব্যাংক জীববৈচিত্র্য খাতে অর্থায়ন করছে। এই অর্থায়নের বেশির ভাগই যাচ্ছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) অডিটোরিয়ামে এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে ‘হাউ টু ইনকর্পোরেট বায়ো-ডাইভার্সিটি ইস্যুস ইন গ্রিন ব্যাংকিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালায় এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

বিআইবিএম এবং বাংলাদেশ পৌষ যৌথভাবে এ গবেষণা কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধূরী। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিআইবিএম এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্বনর এস.এম.মনিরুজ্জামান এছাড়াও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা, বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক (ট্রেনিং) ড. শাহ মো. আহসান হাবীব, পূবালী ব্যাংকের প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনিস এ. খান, বাংলাদেশ পৌষের প্রেসিডেন্ট এম. সানোয়ার হোসেন, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমাইরা আজম প্রমুখ।

কর্মশালায় গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সাত সদস্যের গবেষণা দলে ছিলেন বিআইবিএমের সহকারী অধ্যাপক তাহমিনা রহমান; অন্তরা জেরীন, রেক্সোনা ইয়াসমিন এবং তোফায়েল আহমেদ। এছাড়া ছিলেন বাংলাদেশ পৌষের প্রেসিডেন্ট এম. সানোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক আসিফ ইকবাল।

এস.এম.মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রিন ব্যাংকিং এবং জীববৈচিত্র্য খাতে অর্থায়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে গ্রিন ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে একটি আলাদা গাইড লাইন তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইড লাইনের চেয়ে ব্যাংকারদের সচেতনতা জরুরি।

অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, জীববৈচিত্র্য খাতে অর্থায়নে পরিবেশের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করতে হবে। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। ব্যাংকগুলোকে এ দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ড. শাহ মো. আহসান হাবীব বলেন, গ্রিন ব্যাংকিং খাতে একসময় কোন সচেতনতা ছিল না। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এ অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। একইভাবে জীববৈচিত্র্য খাতেও এক সময় বড় পরিবর্তন আসবে; ব্যাংকারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে।

অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, গ্রিনব্যাংকিং এবং জীববৈচিত্র্য বিষয়ে সব পর্যায়ে সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। আগামী দিনে এ খাতে অর্থায়নে ব্যাংকারদেরও সচেতন হতে হবে। পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

আনিস এ. খান বলেন, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), এজেন্ট ব্যাংকিংসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে জীববৈচিত্র্য খাতে অর্থায়ন করতে হবে। এতে ঝুঁকি কমে আসবে। তিনি বলেন, ব্লু- ইকোনমি ব্যাংকিং খাতের অর্থায়নে নতুন খাত সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ব্যাংকাররা দৃষ্টি দিতে পারেন।

এম. সানোয়ার হোসেন বলেন, ব্যাংকগুলো সম্পৃক্ত হলে জীববৈচিত্র্য ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ হবে। আগামী দিনে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তিনি ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

হুমাইরা আজম বলেন, জীববৈচিত্র্য খাতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা আছে। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।

ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, আগামী দিনে গ্রিন  ব্যাংকিংয়ে আরও বেশি নজর দিতে হবে। একইসঙ্গে গ্রাহকদের গ্রিন ব্যাংকিং পণ্যে অর্থায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ