ঢাকা, শুক্রবার 7 December 2018, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাংলামোটরের আলোচিত কাজল তিন দিনের রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর বাংলামোটরের এক বাড়ি  থেকে আড়াই বছরের নূর সাফায়েতের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার বাবা নুরুজ্জামান কাজলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। পুলিশের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর হাকিম ধীমান চন্দ্র মন্ডল গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

আগের দিন ছয় ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তার পর বাংলামোটর লিংক রোডের ১৬ নম্বর বাড়ি থেকে সাফায়েতের কাফন মোড়ানো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশাপাশি তার ভাই চার বছর বয়সী সুরায়েতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আটক করা হয় তাদের বাবা কাজলকে।

‘মাদকাসক্ত’ কাজল ছোট ছেলেকে ‘হত্যা করে’ বড় ছেলেকে কোলে নিয়ে দা হাতে ঘরের ভেতর ঘুরে বেড়াচ্ছেন খবর পেয়ে বুধবার সকালে ওই বাড়িতে যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘ চেষ্টার পর বেলা ২টার দিকে সঙ্কটের অবসান হয়।

কাজলের ভাই নুরুল হুদা উজ্জ্বল সে সময় বলেছিলেন, “ও (কাজল) সারাদিন নেশা করে, খায় আর ঘুমায়। এটা ওর নিজের বাড়ি। চাচার সাথে গত ঈদের আগেও মারামারি করেছে। এত দিন আমরা সহ্য করছি, পুলিশ আনি নাই, শুধু ওই বাচ্চাগুলোর কারণে। এখন বাচ্চাটাকেই মেরে ফেলছে। কাজলের মার খেয়ে ওর বৌ বাপের বাড়ি চলে গেছে। বাসায় দুই বাচ্চা নিয়ে ও থাকতো। আজকে এই কান্ড করল।”

তবে আটক হওয়ার পর কাজল পুলিশের কাছে দাবি করেন, সাফায়াতের মৃত্যু হয়েছে বৈদ্যুতিক শকে, তিনি তাকে হত্যা করেননি।

সাফায়াতের গায়ে আঘাতের কোনো চিহ্ন না থাকায় ময়নাতদন্তের আগে পুলিশও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।

কিন্তু সাফায়াতের মা মালিহা আক্তার রাতে কাজলের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন বলে শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান জানান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই চম্পক চক্রবর্তী গতকাল বৃহস্পতিবার কাজলকে আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। অন্যদিকে কাজলের পক্ষে রিমান্ড আবেদনে বিরোধিতা করেন আইনজীবী আবদুস সাত্তার। তিনি বলেন, কাজলের বাড়ি নিজের নামে লিখিয়ে নিতে চাইছিলেন তার স্ত্রী মালিহা। তা না দেওয়ায় তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। কাজল দুই সন্তানের অন্তত একজনকে নিয়ে যাওয়ার জন্য মালিহাকে অনুরোধ করেছিলেন। সেজন্য তাকে পরে উকিল নোটিসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মালিহা শিশু দুটোকে ওই বাড়িতেই ফেলে রাখেন।

শুনানি শেষে বিচারক আসামী নুরুজ্জামান কাজলকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

কাজল শুনানিতে ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে কোনো কথা বলেননি। তবে আদালতের বাইরে তিনি সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন, ছেলেকে তিনি মারেননি।

আগের দিন বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সাফায়েতের মৃত্যুর কথা বললেও আদালতের বাইরে কাজল সাংবাদিকদের বলেন, তার ছেলের জ্বর হয়েছিল, মারা গেছে ঘুমের মধ্যে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ