ঢাকা, শুক্রবার 7 December 2018, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

পুলিশের মৃত্যুর পরও আদিত্যনাথের নজর কেবল গরুর দিকে

৬ ডিসেম্বর, সাউথ এশিয়ান মনিটর : ভারতের উত্তর প্রদেশের বুলান্দশহরে দাঙ্গাবাজদের হাতে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুজন নিহত হওয়া প্রশ্নে রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার রাতে সেখানে কথিত গরু জবাইয়ের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু যারা পুলিশ পরিদর্শক সুবোধ কুমার সিংকে হত্যা করেছে, তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আদিত্যনাথ আগ্রহী নন বলেই মনে হচ্ছে। এক বনে একটি মৃত গরু পড়ে থাকতে দেখার পর সৃষ্ট প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টার সময় সুবোধ নিহত হন।

ঘটনার এক দিন পর মঙ্গলবার রাতে মুখ্যসচিব, ডিজিপি, মুখ্যসচিব (স্বরাষ্ট্র) ও পুলিশের অতিরিক্ত ডিজির (গোয়েন্দা) সাথে বৈঠক করেন আদিত্যনাথ। সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যারা গরু জবাই করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদিত্যনাথ। এতে সুবোধের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।

উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডবের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ কর্মকর্তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, এই ঘটনা অনেক বড় ষড়যন্ত্রের অংশ। এ কারণে যারা এতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা সময়ের দাবি।

অবশ্য, এই খবর প্রকাশের পর দিন সকালে এনডিটিভিতে খবর প্রকাশ পায় যে আদিত্যনাথ সরকার আরেকটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ সদস্যের পরিবারের সাথে বৈঠক করবেন।

বুলান্দশহরে সোমবার সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া সত্ত্বেও গোখপুরে লেজার শোতে উপস্থিত থাকার জন্য বিরোধী দলগুলো মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করছে।

বিরোধী দল বলছে, এ ধরনের ঘটনা নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস। আদিত্যনাথ এখন অন্য প্রদেশে গিয়ে বিজেপির হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন।

নিহত পুলিশ সুবোধের পরিবার দাবি করেছে, এই মৃত্যু ষড়যন্ত্রমূলক। কারণ মোহাম্মদ আখলাক নামের একজনকে পিটিয়ে হত্যা করার ঘটনা তদন্তে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। গত ৩ ডিসেম্বর দুটি মামলা হয়েছে। একটি ওই পুলিশ সদস্য ও সুমিত নামের এক বিজেপি কর্মী নিহত হওয়া নিয়ে এবং অপরটি গরু জবাই নিয়ে।

মুসলিম সম্প্রদায় অভিযোগ করছে, গরু জবাই নিয়ে তাদের পুলিশ হয়রানি করছে। এমনকি ঘটনার সময় এলাকায় ছিল নাম এমন ছোট ছেলেদেরও থানায় নিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়া এমন লোকদের নামেও অভিযোগ করা হচ্ছে, যারা এলাকাতেই থাকেন না। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ