ঢাকা, শুক্রবার 7 December 2018, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কৃষ্ণ সাগরে যুদ্ধজাহাজ নোঙ্গরে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র

৬ ডিসেম্বর, সিএনএন : কৃষ্ণ সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ নোঙ্গরের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া কর্তৃক ইউক্রেনের জাহাজ ও এর নাবিকদের আটক করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই এ খবর এলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য এ পদক্ষেপ সম্পর্কে তুরস্ককে অবহিত করতে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৯৩৬ সালের মন্ট্রিয়াক্স কনভেনশন অনুযায়ী এ ধরনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক তুরস্ককে অবহিত করার করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বসফরাস প্রণালীতে সামরিক জাহাজ চলাচলে তুর্কি কর্তৃপক্ষের অনুমতির প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রণালী কৃষ্ণ সাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা সিএনএন’কে জানিয়েছেন, সাগরে রুশ কর্মকা-ের প্রতিক্রিয়ায় কৃষ্ণসাগরে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নোঙ্গর করা হতে পারে।

২০১৮ সালের নভেম্বরের শেষদিকে ইউক্রেনের নৌবাহিনীর দুইটি জাহাজ জব্দ করে রাশিয়া। আটক করা হয় এর ২৪ ক্রুকে। এ ঘটনায় ইউক্রেন ও পশ্চিমা দুনিয়ার সঙ্গে বিবাদে জড়ায় রাশিয়া। এমন পরিস্থিতিতে আজোভ সাগরে ন্যাটোর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্ক। জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ডকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, আমি আশা করি তারা ইউক্রেনকে সহায়তা করবে ও নিরাপত্তা দিবে।

রাশিয়া ইউক্রেনের বারডিযানস্ক ও নিকোপল যুদ্ধজাহাজ এবং দি ইয়ানা কাপা জাহাজ জব্দ করেছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া জাহাজের পথ আটকাতে চেষ্টা করে, যদিও এরপর নৌযানগুলো কের্চ স্ট্রেইটের উদ্দেশ্যে চলছিল কিন্তু ট্যাংকার দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়। এছাড়া রুশ বাহিনীর গুলিতে জাহাজে থাকা ৬ সেনা আহত হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইউক্রেন। আর রাশিয়ার অভিযোগ, নৌযানগুলা অবৈধভাবে তাদের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল এবং নিরাপত্তার কারণে ওই পথে চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। এ ঘটনার পর রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের পাশাপাশি ইউরোপেরও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আর রাশিয়ার এমন আচরণের পর দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে ইউক্রেন। ২৮ নভেম্বর থেকে ৩০ দিনের জন্য সামরিক শাসনও জারি করা হয়।

এই ঘটনায় ন্যাটো ইউক্রেনের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে। তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছেন যে, তার জনপ্রিয়তা হ্রাস করতেই পোরোশেঙ্কো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিচ্ছেন।

পোরোশেঙ্কোর দাবি, পুতিন আজোভ সাগর দখলে রাখতে চান। তিনি বলেন, জার্মানি আমাদের অত্যন্ত ভালো বন্ধু। আমরা আশা করি ন্যাটো আমাদের সহায়তায় আজোভ সাগরে তাদের জাহাজ পাঠাবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা রাশিয়ার আগ্রাসী নীতি মেনে নিতে পারি না। প্রথম ক্রিমিয়া, তারপর পূর্ব ইউক্রেন আর এখন আজোভ সাগর।  জার্মানিরও পুতিনকে প্রশ্ন করা উচিত এরপর কার পরিণতি অপেক্ষা করছে?

ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের মিটিং এর সময় প্রেসিডেন্ট পেদ্রো পোরেশেঙ্কো রাশিয়ার আচরণকে ‘বিনা উসকানিতে এবং উন্মত্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন কের্চ স্ট্রেইট-এ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করার জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ‘চরম সংযমের সঙ্গে’ যে কোনও কাজ করার জন্য সবাইকে তাগিদ দিয়েছে ইইউ।

ন্যাটো বলেছে, তারা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করে এবং এর আঞ্চলিক অখ-তা, আঞ্চলিক জলসীমায় তার ন্যাভিগেশন অধিকারকে সমর্থন দেয়।

আজোভ সাগর ক্রিমিয়ার পূর্বে, ইউক্রেনের দক্ষিণে যে এলাকা রাশিয়ার-সমর্থক বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দখলে। ইউক্রেনের দুটো বন্দর বার্দিআনস্ক এবং মারিউপোল শস্য রফতানি এবং স্টিল উৎপাদন এবং কয়লা আমদানির জন্য চাবিকাঠি।  ২০০৩ সালে চুক্তি অনুসারে মস্কো এবং কিয়েভকের্চ স্ট্রেট এবং আযোভ সাগরের আঞ্চলিক পানি ভাগাভাগি করবে। কিন্তু সম্প্রতি রাশিয়া ইউক্রেনের বন্দর হতে আসা বা তার উদ্দেশে যাত্রা করা সমস্ত নৌযান পরিদর্শন শুরু করে।

রাশিয়া সম্প্রতি ইউক্রেনের বন্দরমুখী কিংবা সেখান থেকে আসা জাহাজগুলো নজরদারি করছে। এ মাসের শুরুর দিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সতর্ক করে বলে, তারা এই ইস্যুটিতে উদ্দেশ্যমূলক ব্যবস্থা নেবে।

ইউক্রেন গত মার্চ মাসে ক্রিমিয়া থেকে আসা একটি মাছ ধরার নৌযান আটক করার পর থেকে এই তল্লাশি শুরু হয়। মস্কোর ভাষ্য, নিরাপত্তার কারণে এটি প্রয়োজন। এক্ষেত্রে ইউক্রেনের উগ্রপন্থীদের দিকেই সন্দেহ-পূর্ণ ইঙ্গিত করা হয়। ২০১৪ সাল থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ইউক্রেন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই শুরুর পর থেকে পূর্ব দানেৎস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলে ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

রাশিয়া এই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অস্ত্র দিয়ে এবং নিজেদের সেনা পাঠিয়ে সহায়তা করছে বলে ইউক্রেন এবং পশ্চিমা শক্তিধর দেশগুলো অভিযোগ করে আসছে। মস্কো অবশ্য এমন অভিযোগ নাকচ করে আসছে, তবে রুশ স্বেচ্ছাসেবকরা বিদ্রোহীদের সহায়তা করছে বলে জানিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ